প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৬ AM

বিশ্বজুড়ে গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ দ্রুত কমানোর তাগিদ দিয়েছে জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইউএনইপি। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে নিঃসরণ ১৮ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ৪৫ শতাংশ কমানো জরুরি। তা না হলে বৈশ্বিক উষ্ণতা আরও বাড়বে এবং তীব্র তাপপ্রবাহসহ বিভিন্ন জলবায়ু বিপর্যয়ের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দেশগুলোর দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তব পদক্ষেপের বড় ব্যবধান রয়েছে।
ইউএনইপির হিসাব অনুযায়ী, নিঃসরণ কমানোর প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলেও শতাব্দীর শেষ দিকে বৈশ্বিক তাপমাত্রা প্রাক্-শিল্পযুগের তুলনায় ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। বর্তমান নীতিগুলো অপরিবর্তিত থাকলে তা ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইঙ্গার অ্যান্ডারসন বলেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার লক্ষ্য অর্জন অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে তাপমাত্রা এ সীমা ছাড়িয়ে গেলেও অতিরিক্ত উষ্ণতার মাত্রা ও স্থায়িত্ব কমানোর চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়লেও বিশ্বের বহু দেশ এখনো কয়লা, তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। জলবায়ু গবেষণা সংস্থা ক্লাইমেট অ্যানালিটিকসের প্রধান নির্বাহী বিল হেয়ার বড় জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ইউএনইপির মতে, সৌর ও বায়ুশক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি মিথেন নিঃসরণ কমানোও জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও সমাধান থাকা সত্ত্বেও দ্রুত পদক্ষেপের অভাবে জলবায়ু সংকট মোকাবিলার সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে। এখনই নিঃসরণ কমানো গেলে ভবিষ্যতের ক্ষয়ক্ষতি সীমিত রাখার সম্ভাবনা বাড়বে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি