প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৮ পিএম

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সরকারি কর্মচারী নন—এমন এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দাপ্তরিক কাজে হস্তক্ষেপ, ভূমিসেবা নিয়ে অনিয়ম এবং সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। শেখ ফয়জুল ইসলাম নয়ন নামের ওই ব্যক্তিকে সরকারি কম্পিউটার ব্যবহার, নামজারি ও দাখিলা-সংক্রান্ত কাজে যুক্ত থাকতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি সরকারি নথিপত্র সংরক্ষণের আলমারির চাবিও তাঁর কাছে থাকার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সরেজমিনে পরিদর্শনের সময় ভূমি অফিসের কম্পিউটার টেবিলে বসে নয়নকে দাপ্তরিক ধরনের কাজ করতে দেখা যায়। এ সময় খতিয়ান খোলার বিষয়েও তাঁকে নিশ্চিতভাবে কথা বলতে শোনা যায়। নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগীর অভিযোগ, নির্ধারিত সরকারি ফি ও প্রক্রিয়ার বাইরে অর্থের বিনিময়ে নামজারি, দাখিলা কাটা এবং পুরোনো দলিল-সংক্রান্ত খতিয়ান সংগ্রহের মতো কাজে তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নথিপত্র ও সরকারি হিসাব যাচাই করা প্রয়োজন।
ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা শামসুন্নাহার জানান, প্রায় আড়াই মাস আগে তিনি ওই অফিসে যোগ দেওয়ার পর থেকেই নয়নকে কাজ করতে দেখছেন। তাঁর জানা মতে, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফিরোজ তাঁকে ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন। তবে দাপ্তরিক কাজে নয়নের সম্পৃক্ততার অনুমোদন, সরকারি কম্পিউটার ব্যবহারের বৈধতা এবং নথির আলমারির চাবি তাঁর কাছে থাকার বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দিতে পারেননি তিনি। অভিযুক্ত নয়নের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবায়েত আহমদ বলেন, তিনি বিষয়টি সকালে জানতে পেরেছেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়দের দাবি, ভূমি অফিসের জনবল ও দায়িত্ব বণ্টনের আদেশ, কম্পিউটার ব্যবহারের অনুমোদন, নামজারি-দাখিলার নথি এবং সরকারি ফি জমার রসিদ যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি