প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৪ AM

ফ্রান্সজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও সরকারি পরিষেবার মান কমে যাওয়ার প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ সহিংসতা ও লুটপাটে রূপ নিয়েছে। শনিবার বড় ধরনের বিক্ষোভের পর রোববারও রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ পরিস্থিতিতে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ।
এলিসি প্রাসাদ থেকে দেওয়া ভাষণে মাখোঁ বলেন, ‘আমরা সবাই ক্ষোভ ও লজ্জা অনুভব করছি।’ বিক্ষোভকারীদের যৌক্তিক দাবির সঙ্গে ভাঙচুর ও লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ডকে আলাদা করে দেখার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করার কথা বলেন। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভের ঘটনায় প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং স্কুলসহ বিভিন্ন সরকারি পরিষেবার মান কমে যাওয়ার প্রতিবাদে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। তাঁদের অধিকাংশের বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও বিভিন্ন স্থানে কিছু বিক্ষোভকারী গাড়ি ও ভবনে আগুন দেন এবং দোকানপাটে লুটপাট চালান। প্যারিস ও লিওঁসহ কয়েকটি শহরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় কাঁদানে গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়। পুলিশের দিকে বোতল ও পাথর ছোড়ার ঘটনাও ঘটে।
লিমোজ শহরে দাঙ্গাকারীদের দেওয়া আগুনে ঊনবিংশ শতাব্দীর একটি ঐতিহ্যবাহী সিটি হল পুড়ে যায়। আগুনে ভবনটির ঘড়ির টাওয়ার ও ছাদ ধসে পড়ে। এদিকে, বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেখা দিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজের অভিযোগ, কট্টর বামপন্থী গোষ্ঠীর কিছু সদস্য সরকারি স্থাপনায় হামলা ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন। অন্যদিকে, বামপন্থী নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। কট্টর ডানপন্থী নেত্রী মারিন ল্য পেনও সহিংসতাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি