প্রকাশ: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৩ পিএম

রাজধানীর আবদুল গনি রোড থেকে শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তরের চূড়ান্ত প্রস্তাব আজ রোববার (১৮ অক্টোবর) মন্ত্রিসভার বৈঠকে উত্থাপন করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত নতুন সচিবালয়ে প্রায় ৩০ লাখ বর্গফুট জায়গা থাকবে, যেখানে সরকারের ৫৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা করা হবে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বর্তমান মেয়াদের মধ্যেই নতুন সচিবালয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে স্থানান্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষায়।
প্রস্তাবিত নকশা অনুযায়ী, স্থপতি লুই আই কানের স্থাপত্য ঐতিহ্য বিবেচনায় ১২ থেকে ১৪ তলাবিশিষ্ট ১২টি ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। নতুন সচিবালয়ের চারপাশে থাকবে চক্রাকার সড়ক। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় মসজিদ, জিমনেসিয়াম, নান্দনিক ফোয়ারা, সুপরিসর গাড়ি পার্কিং ও কেন্দ্রীয় কনভেনশন সেন্টারসহ বিভিন্ন আধুনিক সুবিধা রাখার প্রস্তাব রয়েছে। দাপ্তরিক স্থান ব্যবহারে পরিবর্তন এনে অধিকাংশ কর্মকর্তার জন্য আলাদা কক্ষের বদলে উন্মুক্ত ফ্লোরে গ্লাস বা বোর্ডের পার্টিশন রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বর্তমানে সচিবালয়ের ১২টি প্রধান ভবনের মধ্যে আটটির অবস্থা নাজুক বলে জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা। এসব ভবনের অধিকাংশই ১৯৬০-এর দশকে নির্মিত।
গত ৭ অক্টোবর স্থাপত্য অধিদপ্তর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের খসড়া পরিকল্পনা উপস্থাপন করে। এর আগে বর্তমান সচিবালয়ের ভেতরে নতুন ২১ তলা ভবন নির্মাণের প্রস্তাবে অনুমোদন না দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্থানে সচিবালয় নির্মাণের পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেন। তবে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় নির্মাণের পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, এতে কৃষি গবেষণার সুযোগ, সবুজায়ন ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ বিষয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প বা আরও উপযুক্ত জায়গা বরাদ্দের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি