প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৩ পিএম

পাবনা শহরের সোনাপট্টিতে অবস্থিত বেসরকারি বাংলাদেশ মানসিক হাসপাতাল ও মাদক নিরাময় কেন্দ্রের কার্যক্রম নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালটির নেপথ্যে পাবনা মানসিক হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহনাজ সুলতানা চম্পা রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা। সরকারি চাকরির পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল পরিচালনা, সরকারি হাসপাতাল থেকে দালালের মাধ্যমে রোগী নিয়ে আসা এবং ওষুধের অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে চম্পা জানিয়েছেন, হাসপাতালটির মালিক তাঁর বড় ছেলে ইউসুফ বিন মিজান; তিনি শুধু মা হিসেবে ছেলের পাশে রয়েছেন।
সম্প্রতি সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, হাসপাতালটি একটি ভবনের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় ভাড়া নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ১৭ জন রোগী রাখার অনুমোদন থাকলেও বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৮ জন। একটি কক্ষে পাশাপাশি পাঁচটি শয্যা রাখা হয়েছে, ফলে রোগীদের গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে। পরিদর্শনের সময় অন্য কোনো নার্সকে দেখা যায়নি। হাসপাতালের ব্যবস্থাপক আকাশ হোসেন জানান, ঢাকা ও পাবনার তিনজন চিকিৎসক সেখানে রোগী দেখেন; তবে সার্বক্ষণিক কোনো চিকিৎসক থাকেন না। শহরের জনবহুল এলাকায় অবস্থিত হাসপাতালটিতে গাড়ি পার্কিংয়েরও ব্যবস্থা নেই।
প্রতিবেদকের যাচাইয়ে হাসপাতালটির পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স নবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠে এসেছে। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. ইউসুফ আলী জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটিকে পরিবেশ ছাড়পত্র নবায়ন করতে বলা হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাসপাতালটি শহরের বাইরে স্থানান্তর না করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শহিদুল মান্নাফ কবির বলেন, প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স নবায়ন করা রয়েছে। আগেও অভিযোগ পাওয়ায় সতর্ক করা হয়েছিল; নতুন করে অভিযোগ ওঠায় নজরদারি বাড়ানো হবে। পাবনার সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, অনুমোদিত শয্যার অতিরিক্ত রোগী ভর্তি না করতে হাসপাতালগুলোকে বলা হয়েছে। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে শাহনাজ সুলতানা চম্পা বলেন, করোনাকালে বড় ছেলের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতেই হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করেন। বাড়ি নির্মাণের অর্থ আত্মীয়ের কাছ থেকে নেওয়া এবং ব্যাংকঋণের মাধ্যমে সংগ্রহ করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। হাসপাতালটি শহরের বাইরে গাছপাড়া এলাকায় স্থানান্তরের জন্য জমি কেনা হয়েছে বলে জানান চম্পা। তাঁর অভিযোগ, শত্রুতাবশত কেউ তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। এদিকে হাসপাতালটির অনুমোদন, রোগী ধারণক্ষমতা, চিকিৎসক-নার্সের উপস্থিতি এবং লাইসেন্সের বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি