প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৭ পিএম

শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদ্যাপন নিশ্চিত করতে হবিগঞ্জের সীমান্তবর্তী এলাকায় অতিরিক্ত ১২ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (৫৫ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান বিজিওএম চুনারুঘাট উপজেলার আমু চা-বাগান এবং মাধবপুর উপজেলার ঘিলাতলী জগন্নাথ দেবের আখড়া পূজামণ্ডপ সরেজমিনে পরিদর্শন করে তিন স্তরবিশিষ্ট এই নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করেন।
বিজিবি সূত্র জানায়, হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলা এবং মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় বিস্তৃত ১০৩ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় এই বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের ভেতরে অবস্থিত ৬৩টি পূজামণ্ডপ এবং ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের তিন কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত একটি পূজামণ্ডপকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সীমান্তে দিবা-রাত্রি টহল, নিবিড় নজরদারি, বিশেষ মোবাইল টিমের কার্যক্রম এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পারাপার, চোরাচালান ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধেও কঠোর অবস্থানে রয়েছে বাহিনীটি। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ মোবাইল টিমও সার্বক্ষণিক সক্রিয় রয়েছে।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান বলেন, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার—এই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব। শারদীয় দুর্গাপূজা বাঙালি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য প্রতীক। সীমান্তবর্তী এলাকাসহ সর্বত্র এ উৎসব শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ করতে বিজিবি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।
এদিকে পূজা উদ্যাপন কমিটির সদস্য ও সাধারণ মানুষকে যেকোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি, কার্যকলাপ কিংবা গুজবের বিষয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছে ৫৫ বিজিবি। এ ধরনের কোনো ঘটনা নজরে এলে দ্রুত নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প বা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করতে বলা হয়েছে। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সীমান্ত নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি জাতীয় ও ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির এই তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি