প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৭ পিএম

রাজধানীর বাজারে আগাম শীতকালীন সবজি উঠতে শুরু করেছে। তবে সরবরাহ বাড়লেও দাম এখনো সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) খিলক্ষেত, রামপুরা, মালিবাগ ও কারওয়ানবাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ সবজি কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টমেটোর দাম উঠেছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা বা তারও বেশি। শিমের কেজি ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, করলা ও ঢেঁড়স ৮০ থেকে ৯০ টাকা, বরবটি ৭০ টাকা, পটল ৬০ থেকে ৮০ টাকা, গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তুলনামূলক কম দামে কাঁচা পেঁপে ৩০ টাকা ও মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা কেজি পাওয়া যাচ্ছে। ফুলকপি ও বাঁধাকপির দাম ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে। শীতের সবজি বাজারে এলেও উচ্চমূল্যের কারণে কেনাকাটায় স্বস্তি নেই নিম্ন ও মধ্যবিত্তের।
ডিমের দামে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেলেও মুরগি, মাছ ও মাংসের দাম চড়া। বর্তমানে প্রতি ডজন লাল ডিম ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা এবং সাদা ডিম ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে; কিছু বাজারে দাম আরও বেশি। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, কক মুরগি ৩১০ থেকে ৩৫০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩৮০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের মধ্যে রুই প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা, কাতল ৩০০ থেকে ৫৫০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং টেংরা ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের কেজি সর্বোচ্চ ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ টাকা। খিলক্ষেতের ডিম বিক্রেতা রহিম জানান, কয়েক দিনের ব্যবধানে ডজনপ্রতি ডিমের দাম প্রায় ১০ টাকা কমেছে। মাছ বিক্রেতা ফিরোজের মতে, পাইকারি বাজারে সরবরাহ কিছুটা ভালো হলেও পরিবহণ খরচের কারণে খুচরা বাজারে দাম বেশি থাকতে পারে।
বাড়তি দামে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন সীমিত আয়ের মানুষ। বাজার করতে আসা জগন্নাথ বলেন, ‘আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের কোনো মিল নেই। প্লেটে আমিষ রাখা এখন বিলাসিতা।’ তাঁর মতে, দু-একটি সবজির দাম কমলেও সামগ্রিক বাজারে স্বস্তি নেই। বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়লে দাম কমতে পারে। তবে আপাতত সবজি, মাছ, মুরগি ও মাংসের উচ্চমূল্যে চাপে রয়েছেন ক্রেতারা।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি