প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম

উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে সংকটের সমাধান না হওয়ায় অনিশ্চয়তার মধ্যেই শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) থেকে পূজার ছুটিতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)। গত ১৮ কর্মদিবসে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ের ১২টি বিভাগের ৮৬৪টি ক্লাস ও ৩৩টি সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা বাতিল হয়েছে। বন্ধ রয়েছে ল্যাব কার্যক্রমও। এতে সাড়ে চার হাজার শিক্ষার্থীর মোট ৫ লাখ ৬৭ হাজার শিক্ষাঘণ্টা নষ্ট হয়েছে। তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নোমান আহমদ নাঈম মৃধা বলেন, ‘টানা ২৪ দিন ক্লাস-ল্যাব বন্ধ থাকায় আমরা সেশনজট, চাকরির সার্কুলারে আবেদনের সুযোগ হারানো, বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও স্কলারশিপের সময়সীমা মিস করাসহ ভবিষ্যতে অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কায় আছি। একটি প্রশাসনিক সংকটের মূল্য যেন হাজারো শিক্ষার্থীকে তাদের ভবিষ্যৎ দিয়ে দিতে না হয়।’ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মইনুল ইসলাম জানান, পূজার ছুটির পর পরীক্ষা শুরুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিভাগীয় প্রধানদের চিঠি দিতে হবে। এরপর একাডেমিক কাউন্সিলের অনুমোদন সাপেক্ষে পরীক্ষা শুরু করা যাবে।
গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত শুক্র ও শনিবার এবং সরকারি ছুটি বাদ দিয়ে ১৮ কর্মদিবসে প্রতিদিন চারটি ক্লাসের হিসাবে প্রতিটি বিভাগের ৭২টি করে মোট ৮৬৪টি ক্লাস বাতিল হয়েছে। স্নাতক পর্যায়ে বিভিন্ন বিভাগের ষষ্ঠ সেমিস্টারের সাতটি, সপ্তম সেমিস্টারের ২২টি এবং চতুর্থ সেমিস্টারের চারটি পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঁচটি অনুষদের অধীনে মোট ১৮টি বিভাগ রয়েছে, যার মধ্যে ১২টি স্নাতক পর্যায়ের। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিদিন সাত ঘণ্টা পাঠদানের সময় বিবেচনায় ১৮ কর্মদিবসে প্রত্যেকের ১২৬ ঘণ্টা করে শিক্ষাসময় ব্যাহত হয়েছে। সেই হিসাবে সাড়ে চার হাজার শিক্ষার্থীর মোট ৫ লাখ ৬৭ হাজার শিক্ষাঘণ্টা নষ্ট হয়েছে। গত বছর বিভাগের নাম পরিবর্তন নিয়ে আন্দোলনের কারণে ওয়াটার রিসোর্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের প্রায় দুই মাস শিক্ষাজীবন পিছিয়ে পড়েছিল। চলমান সংকটে তাঁদের শিক্ষাক্রম আরও পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে, দুদিন চিকিৎসা নিয়ে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছেড়েছেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরীফুল আলম। পরে তিনি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ওঠেন। হাসপাতালে থাকাকালে তিনি বলেন, কাউকে মুচলেকা দিয়ে ক্যাম্পাস ছাড়েননি এবং উপাচার্য হিসেবে যেকোনো সময় চুয়েটে যাবেন; এ বিষয়ে সরকারের সংকেত রয়েছে। চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রাসেল আহমেদ বলেন, ‘পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় আমাদের শিক্ষাজীবন দীর্ঘায়িত হচ্ছে। অন্যান্য ভার্সিটির তুলনায় আমাদের গ্র্যাজুয়েশন শেষ অনেক দেরিতে হবে। ফলে আমাদের বিভিন্ন চাকরির সুযোগ অনেকাংশে কমে যাবে।’ সময়মতো স্নাতক শেষ না হলে সরকারি চাকরির পরীক্ষা ও বিদেশে উচ্চশিক্ষার নির্ধারিত সেশন মিস করার আশঙ্কার কথাও জানান তিনি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি