শুক্রবার ● ১৬ অক্টোবর ২০২৬
   
শিরোনাম:
● স্থানীয় নির্বাচনেও জয়-পরাজয়ে কতটা প্রভাব ফেলবে আ.লীগের ভোটব্যাংক?      ● রাশিয়ায় ৬.৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামির আশঙ্কা নেই      ● ঢাকা জেলা পরিষদের ইতিহাসে প্রথম দুর্গাপূজায় প্রায় ৭০ লাখ টাকা অনুদান      ● দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব: ডিসি ফরিদা      ● মাধবপুরে শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রস্তুত আনসার ও ভিডিপি      ● ফটিকছড়িতে চা বাগানের ম্যানেজারকে কুপিয়ে সাড়ে ৮ লাখ টাকা ছিনতাই, আটক ২      ● মাদ্রাসার সুপার ও ছেলে অবরুদ্ধ, উদ্ধার করল পুলিশ      ● পিরোজপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আনসার ও ভিডিপির ব্রিফিং প্যারেড অনুষ্ঠিত      ● ধর্মীয় সম্প্রীতি আমাদের ঐতিহ্য ও শক্তির জায়গা: সিসিক প্রশাসক      ● বেলাবোয় ট্রাক্টরের ধাক্কায় প্রাণ গেল ৩ বছরের নোহার      ● দাউদকান্দি-তিতাসে প্রাণিসম্পদ সেবায় সংকট, জনবল ও ওষুধের অভাবে বিপাকে খামারিরা      ● নজরুল বর্ষ উপলক্ষে গাইবান্ধায় ২০০ শিক্ষার্থীর বিনা মূল্যে ডেন্টাল চেকআপ      
স্থানীয় নির্বাচনেও জয়-পরাজয়ে কতটা প্রভাব ফেলবে আ.লীগের ভোটব্যাংক?
স্বদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৫ পিএম

কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নিচ্ছে না আওয়ামী লীগ। তবে দলটির সমর্থক ও ভোটারদের অবস্থান নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। জাতীয় রাজনীতির পটপরিবর্তন হলেও মাঠপর্যায়ে আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের সমর্থক ও ভোটাররা রয়েছেন। 
ফলে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক শক্তি ও স্থানীয় সমীকরণের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংকের হিসাবও গুরুত্ব পাচ্ছে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন দলের স্থানীয় পর্যায়ের প্রার্থীরা এসব ভোট নিজেদের পক্ষে টানার চেষ্টা করছেন বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। তৃণমূলের নেতাদের মতে, আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে রাজনৈতিক প্রচারে না থাকলেও দলটির সমর্থক ভোটারদের অবস্থান স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে প্রভাব ফেলতে পারে। জাতীয় রাজনীতির পরিবর্তনের কারণে ভোটারদের একটি অংশের পছন্দ বদলাতে পারে, আবার অনেকে আগের রাজনৈতিক অবস্থানেও থাকতে পারেন। 
ফলে কোন প্রার্থী কৌশলগতভাবে এসব ভোট নিজের পক্ষে আনতে পারবেন, তা নির্বাচনী ফলের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের ভোটারদের অবস্থান নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হচ্ছে না।
 তাই জাতীয় নির্বাচনের ভোটের সমীকরণের সঙ্গে স্থানীয় নির্বাচনকে মেলানো সমীচীন হবে না। বিগত সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার ব্যাপক দলীয়করণ করলেও বিএনপি অনেক জায়গায় নির্বাচনে জয়লাভ করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

দিনাজপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের উদাহরণ টেনে আলাল বলেন, এলাকায় জনপ্রিয়তা, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও জনসম্পৃক্ততা থাকলে প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়। তাঁর মতে, আওয়ামী লীগের বিগত ১৭ বছরের শাসনামলে দলটির কর্মকাণ্ডে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ফলে স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক বড় প্রভাব ফেলবে না বলেও মনে করেন তিনি।

অতীতের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিভিন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ভোটের ব্যবধান এক রকম ছিল না। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি ৩০ দশমিক ৮১ শতাংশ এবং আওয়ামী লীগ ৩০ দশমিক ০৮ শতাংশ ভোট পায়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের ভোট ছিল ৩৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ, বিএনপির ৩৩ দশমিক ৬১ শতাংশ। ২০০১ সালে বিএনপি ৪০ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং আওয়ামী লীগ ৪০ দশমিক ২১ শতাংশ ভোট পায়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পায় ৪৯ শতাংশ ভোট, বিএনপি পায় ৩৩ দশমিক ২০ শতাংশ। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক রয়েছে। বিএনপি ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন বর্জন করে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিলেও বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী দল ভোটের আগের রাতে ভোট গ্রহণের অভিযোগ তোলে। ওই নির্বাচন ‘রাতের ভোট’ নামে রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হয়ে ওঠে। এসব নির্বাচনের ফল অনুযায়ী, ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ ৭২ শতাংশ, ২০১৮ সালে ৭৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৬৫ দশমিক ১৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক থাকায় ফলাফল বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে সেই প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নেয়নি। ওই নির্বাচনে বিএনপি ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং জামায়াতে ইসলামী ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পায়। 
জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের ভোট বৃদ্ধির পেছনে আওয়ামী লীগের সমর্থক ভোটারদের একটি অংশের সমর্থন ভূমিকা রেখেছে—এমন ধারণা রাজনৈতিক মহলের কারও কারও মধ্যে রয়েছে। তবে এ ধারণার পক্ষে নির্দিষ্ট ভোটারভিত্তিক তথ্য নেই। ফলে আওয়ামী লীগের ভোটারদের কত অংশ কোন দল বা প্রার্থীকে সমর্থন করেছেন, তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ অবশ্য মনে করেন, জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগের আগের ভোটব্যাংক আর কার্যকর নেই। তাঁর ভাষ্য, অতীতে আওয়ামী লীগের ভোটের হিসাব সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরেনি এবং দলটির প্রতি অনেক ভোটারের সমর্থন কমেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় পরিচয়ের চেয়ে প্রার্থীর যোগ্যতা, জনপ্রিয়তা, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও জনসম্পৃক্ততা বেশি গুরুত্ব পাবে বলেও মনে করেন তিনি। 
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নীতিনির্ধারণী ফোরামের সদস্য ও দলটির মিডিয়া উপকমিটির প্রধান সারোয়ার তুষার বলেন, দলীয় প্রতীক না থাকায় স্থানীয় নির্বাচনে জাতীয় নির্বাচনের মতো দলীয় অবস্থানের হিসাব ততটা প্রভাব ফেলবে না। তাঁর মতে, স্থানীয় নির্বাচনে ভোটাররা প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাকে বেশি গুরুত্ব দেবেন এবং ভোট বিভিন্ন প্রার্থীর মধ্যে ভাগ হয়ে যেতে পারে। নির্বাচন কমিশন সারা দেশের প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন পাঁচ ধাপে আয়োজনের সময়সূচি ঘোষণা করেছে। প্রথম ধাপের ভোট আগামী ২১ জানুয়ারি এবং শেষ ধাপের ভোট ২৭ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। 

স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়া অনুষ্ঠিত হওয়ায় প্রার্থীদের ব্যক্তিগত পরিচিতি, সামাজিক যোগাযোগ ও স্থানীয় পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সঙ্গে ভোটারদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, এলাকার সমস্যা সমাধানে তাঁদের ভূমিকা এবং স্থানীয় বিরোধের মতো বিষয় ভোটের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। 
একই সঙ্গে ধর্মীয় পরিচয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচার এবং গুজবও নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচনের সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ভুয়া ছবি, ভিডিও ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। এতে বিভ্রান্তি ও সহিংসতার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের উদ্বেগ। 
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, জাতীয় নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বাস্তবতা এক নয়। জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোটারদের নিজেদের পক্ষে আনার চেষ্টা বিএনপি ও জামায়াত করেছে; স্থানীয় নির্বাচনেও এমন চেষ্টা থাকা স্বাভাবিক। তবে এর প্রভাব সব এলাকায় সমান হবে না। তাঁর মতে, স্থানীয় নির্বাচনে ভোটাররা প্রার্থীদের ব্যক্তিগত পরিচিতি, কাজ ও জনসম্পৃক্ততাকে গুরুত্ব দেন। তৃণমূলের মানুষ একে অপরকে চেনেন এবং এলাকায় কে কী করেছেন, সে সম্পর্কে ধারণা রাখেন। ফলে কোথাও আওয়ামী লীগের সমর্থক ভোটারদের অবস্থান জয়-পরাজয়ে প্রভাব ফেললেও সব জায়গায় দলটির ভোটব্যাংক একই ধরনের ভূমিকা রাখবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।







স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি


আরও সংবাদ   বিষয়:  স্থানীয় সরকার নির্বাচন   আওয়ামী লীগ   আ.লীগের ভোটব্যাংক   ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন   বিএনপি   জামায়াতে ইসলামী   এনসিপি   নির্বাচন কমিশন   ভোটের রাজনীতি   রাজনৈতিক বিশ্লেষণ   বাংলাদেশ রাজনীতি  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close