
ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় সম্ভাব্য হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বোমা ‘মাদার অব অল বম্বস’ ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দিলে এ বোমা ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের খবর পাওয়া যায়নি।
জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট (এমওএবি) নামের বোমাটি ‘মাদার অব অল বম্বস’ বা ‘সব বোমার মা’ নামে পরিচিত। এর ওজন প্রায় ৯ হাজার ৮০০ কেজি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারের সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বোমা।
২০১৭ সালের ১৩ এপ্রিল আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) একটি সুড়ঙ্গ ও গুহা কমপ্লেক্সে হামলায় প্রথমবারের মতো এ বোমা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
পারমাণবিক স্থাপনায় কার্যকারিতা নিয়ে সংশয়
ইরানে এ বোমা ব্যবহার করা হলে চলমান সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে। তবে মার্কিন সামরিক পরিকল্পনার সঙ্গে পরিচিত কয়েকজন কর্মকর্তার মতে, বোমাটি ব্যবহারের কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এর বিস্ফোরণে বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটতে পারে, কিন্তু গভীর ভূগর্ভে সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করার ক্ষেত্রে এটি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারণা, ইরানের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন এলাকায় পারমাণবিক কর্মসূচির কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রাখা হয়েছে। পাহাড়ের ভেতরে শক্ত পাথরের স্তর দিয়ে সুরক্ষিত স্থাপনা রয়েছে বলে মনে করা হয়। এমওএবি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম হলেও গভীর ভূগর্ভস্থ লক্ষ্যবস্তু ভেদ করে ধ্বংস করার জন্য বিশেষভাবে তৈরি নয়। ফলে সেখানে এ বোমা ব্যবহার করলেও প্রত্যাশিত সামরিক লক্ষ্য অর্জিত হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এ ছাড়া জনবসতির কাছাকাছি জ্বালানি অবকাঠামো বা অন্য স্থাপনায় এ ধরনের বোমা ব্যবহার করা হলে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
যুদ্ধের অবসান নিয়ে চাপের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান সংঘাতের অবসান ঘটানোর পাশাপাশি সামরিক সাফল্য দাবি করার মতো বিকল্প খুঁজছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধ নিয়ে রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। ট্রাম্প সম্প্রতি নির্বাচনের আগে নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা নেই বলে ইঙ্গিত দিলেও পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইরান যাতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে ট্রাম্প সব ধরনের বিকল্প খোলা রেখেছেন। পেন্টাগনও বলেছে, প্রেসিডেন্টের নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য সামরিক বাহিনী বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে পরিকল্পনা তৈরি করে।
সামরিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ইরানকে পুরোপুরি পরাজিত করতে স্থলবাহিনী পাঠিয়ে বড় ধরনের অভিযান চালানোর প্রয়োজন হতে পারে। তবে এমন অভিযানে বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনার প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে। ট্রাম্প এখন পর্যন্ত ইরানে মার্কিন স্থলবাহিনী পাঠানোর বিষয়ে আগ্রহ দেখাননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০০৩ সালে তৈরি, প্রথম ব্যবহার ২০১৭ সালে
২০০৩ সালে তৈরি করা এমওএবি বোমা আকাশ থেকে ফেলা হয় এবং ভূমিতে আঘাতের আগেই বিস্ফোরিত হয়ে ব্যাপক চাপ ও বিস্ফোরণশক্তি ছড়িয়ে দেয়। বড় এলাকা এবং সুড়ঙ্গ বা গুহার মতো লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য এটি তৈরি করা হয়েছিল। তবে বিস্তীর্ণ এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞ ঘটানোর ক্ষমতা থাকলেও গভীর ভূগর্ভে সুরক্ষিত স্থাপনা ধ্বংসের ক্ষেত্রে এর সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু হলে এ বোমা ব্যবহারের বিষয়টি ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত বোমাটি ব্যবহারের কোনো চূড়ান্ত নির্দেশ বা হামলার নির্দিষ্ট সময় ঘোষণা করা হয়নি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি