
২০০৩ সালে ফিরোজ খানের ‘জানশীন’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় সাবেক মিস ইন্ডিয়া ইউনিভার্স সেলিনা জেটলির। পরে ‘নো এন্ট্রি’, ‘গোলমাল রিটার্নস’ ও ‘থ্যাঙ্ক ইউ’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে পরিচিতি পান তিনি। তবে এবার অভিনয় নয়, স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ নিয়ে চলমান আইনি লড়াইয়ের কারণে আলোচনায় এসেছেন এই অভিনেত্রী।
অস্ট্রীয় ব্যবসায়ী পিটার হাগের সঙ্গে ১৫ বছরের দাম্পত্যজীবনের ইতি টানতে আইনি লড়াই করছেন সেলিনা। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে দাম্পত্যের তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে স্বামীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করেছেন তিনি।
সেলিনার অভিযোগ, চার সন্তানের কথা বিবেচনা করে স্বামীর কাছে শান্তিপূর্ণভাবে বিচ্ছেদের আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাতে সাড়া পাননি। বরং বিবাহবিচ্ছেদের আইনি খরচ বহন করতে না পারলে পরিচারিকার কাজ করে অর্থ উপার্জনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন অভিনেত্রী।
দাম্পত্যজীবনের শেষ সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সেলিনা জানান, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুতে বিবাহবার্ষিকীর উপহার পাওয়ার প্রত্যাশা করেছিলেন তিনি। কিন্তু উপহারের বদলে হাতে আসে বিচ্ছেদের নোটিশ।
সামাজিক মাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে অভিনেত্রী লেখেন, এক বছর আগে একটি সুটকেস নিয়ে মুম্বাইয়ে ফিরেছিলেন তিনি। সেই সুটকেসে ছিল প্রয়োজনীয় নথিপত্র, প্রয়াত মায়ের শাড়ি আর একরাশ যন্ত্রণা।
সেলিনা জানান, মামলার প্রথম শুনানিতে বিচারক সমঝোতার মাধ্যমে বিচ্ছেদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে নভেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন। সেই সুযোগে সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে স্বামীকে শান্তিপূর্ণভাবে আলাদা হওয়ার অনুরোধ করেন তিনি।
অভিনেত্রীর ভাষ্য, স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতন ও মানসিক যন্ত্রণার অভিযোগ আদালতে না তোলার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন তিনি। তবে আইনি খরচ চালানোর সামর্থ্য না থাকার কথা জানালে পিটার তাকে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। অর্থের অভাব হলে পরিচারিকার কাজ করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন সেলিনা।
১৫ বছরের দাম্পত্যজীবন ও চার সন্তানের প্রসঙ্গ তুলে সেলিনা প্রশ্ন করেন, এত বছরের সম্পর্কের পর এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, তা তিনি কল্পনাও করেননি।
অভিনেত্রীর আরও অভিযোগ, বিয়ের আগে অর্জিত সম্পত্তির ওপরও দাবি জানানো হয়েছে। সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে তাকে অস্ট্রিয়ায় থাকতে হবে বলেও জানানো হয়েছিল। একপর্যায়ে সন্তানদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগও বন্ধ হয়ে যায় বলে দাবি করেন তিনি।
সেলিনার দাবি, সন্তানদের তার বিরুদ্ধে প্রভাবিত করা হচ্ছে এবং তাকে মানসিকভাবে অসুস্থ মা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতির কারণে অস্ট্রিয়ায় প্রতিবেশীদের সহায়তায় রাত ১টার দিকে বাড়ি ছাড়তে হয়েছিল বলেও জানান তিনি। বলিউড অভিনেত্রী লারা দত্ত তার সঙ্গে ঘটে চলা পরিস্থিতির সাক্ষী ছিলেন বলেও দাবি করেছেন সেলিনা।
সন্তানদের যৌথ অভিভাবকত্ব নিয়ে এখনও আইনি লড়াই চলছে বলে জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। সব প্রতিকূলতার মধ্যেও ন্যায়বিচারের আশায় লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, সেলিনা জেটলির এসব বক্তব্য তার নিজের করা অভিযোগ। এ বিষয়ে পিটার হাগের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ