প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৪ পিএম

চট্টগ্রামের চুনতি বন পুনরুদ্ধারে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন সংরক্ষক মো. ছানাউল্যা পাটওয়ারী। তিনি বলেছেন, দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য চুনতি বন এশীয় হাতির গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। বনভূমি পুনরুদ্ধার পরিবেশগত অগ্রাধিকার। ইতিমধ্যে বন পুনরুদ্ধারে সাত লাখ চারা রোপণ করা হয়েছে। এ কার্যক্রম আরও এগিয়ে নিতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে বাঁশখালী অফিসার্স ক্লাবের হলরুমে ‘চুনতি বন পুনরুদ্ধার’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চুনতি বনাঞ্চলে জলবায়ু সহনশীল বন পুনরুদ্ধার প্রকল্পের আওতায় জলদি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রেঞ্জ এবং বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ, চট্টগ্রাম বিভাগের উদ্যোগে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে অর্থায়ন করে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট।
ছানাউল্যা পাটওয়ারী বলেন, ‘চুনতি বনে বাঁশ হাতির প্রধান খাদ্য। বন উজাড় ও দখলের কারণে খাদ্যের এই প্রাকৃতিক উৎস ধ্বংস হয়ে গেলে বুনো হাতির দল বাধ্য হয়ে খাবারের সন্ধানে লোকালয় ও কৃষিজমিতে হানা দেয়। যার ফলে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে মানুষ-হাতি সংঘাত, যা ইতিমধ্যে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এক মারাত্মক সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। তাই চুনতি বন পুনরুদ্ধার করে হাতির আবাসস্থল বাঁচিয়ে রাখতে হবে।’
সেমিনারে বক্তারা চুনতি বনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও পরিবেশগত ভারসাম্য পুনরুদ্ধারে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, বনাঞ্চলের অবক্ষয় রোধ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, বন্যপ্রাণীর প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণ এবং বনজ সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদ সুরক্ষায় সরকারি দপ্তর, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও অন্যান্য অংশীজনের সমন্বিত অংশগ্রহণ জরুরি।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের চট্টগ্রামের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু নাছের মোহাম্মদ ইয়াছিন নেওয়াজের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাঁশখালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ড. খালেদ মিসবাহুজ্জামান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সোহেল রানা, ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনা বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মুহাম্মদ হোসাইন, চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা দ্বিপান্বিতা ভট্টাচার্য, বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক, চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র সরকার।
সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন জলদি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইসরাঈল হক।
অনুষ্ঠান শেষে বাঁশখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যহাতির আক্রমণে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত আট পরিবারের মধ্যে সরকারি ক্ষতিপূরণের অংশ হিসেবে মোট ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি