প্রকাশ: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৮ পিএম

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় বারোমাসি বিদেশি প্রজাতির আম চাষে অনন্য সাফল্য অর্জন করেছেন ১১তম জাতীয় কৃষি পুরস্কারপ্রাপ্ত সফল কৃষি উদ্যোক্তা কাজী আনিছুর রহমান। উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের গছানী গ্রামে তাঁর প্রতিষ্ঠিত আমবাগানে এখন ছড়িয়ে পড়ছে মুকুলের মৌ মৌ সুগন্ধ। গাছে গাছে সোনালি মুকুলের এই নয়নাভিরাম দৃশ্য স্থানীয়দের তো বটেই, দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদেরও বিমোহিত করছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ‘স্মলহোল্ডার এগ্রিকালচারাল কম্পিটিটিভনেস প্রজেক্ট (এসএসিপি-রেইনস)’ প্রকল্পের আওতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। চিরাচরিত ধানের জমিতে বৈচিত্র্য এনে আনিছুর রহমান তাঁর ৪৫ শতাংশ জমিতে থাই কাটিমন ও আফ্রিকান প্রজাতির প্রায় ৫০টি বারোমাসি আমের চারা রোপণ করেন। বর্তমানে ছোট ও মাঝারি আকৃতির গাছগুলোতে মুকুলের প্রাচুর্য বেশি দেখা যাচ্ছে।
মুকুল আসার পর থেকেই বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন এই উদ্যোক্তা। কাজী আনিছুর রহমান জানান, “মুকুলের সুবাসে বাগানে মৌমাছিসহ উপকারী কীটপতঙ্গের আনাগোনা বেড়েছে। রোগবালাই থেকে মুকুল রক্ষায় স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত বালাইনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। আবহাওয়া এখন পর্যন্ত অনুকূলে থাকায় এবার আমবাগান থেকে বাম্পার ফলন পাওয়ার আশা করছি।”
তাঁর এই উদ্ভাবনী আমবাগান কেবল স্থানীয়দেরই আকৃষ্ট করছে না, বরং এটি একটি আধুনিক কৃষি মডেল হিসেবে গড়ে উঠেছে। সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রশিক্ষণার্থীরা নিয়মিত বাগানটি দেখতে ও অভিজ্ঞতা নিতে আসেন।
এ বিষয়ে দশমিনা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাফর আহমেদ বলেন, “কাজী আনিছুর রহমানের বাগানের প্রতিটি গাছই মুকুলে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মুকুল ও উদীয়মান গুটি রক্ষায় প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ ও বালাইনাশক প্রয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে। আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত অনুকূলে থাকলে এবং বড় ধরনের পোকার আক্রমণ না হলে এবার রেকর্ড পরিমাণ ফলন পাওয়া যাবে।”
ধাননির্ভর এই অঞ্চলে কাজী আনিছুর রহমানের এমন দৃষ্টিনন্দন ও বাণিজ্যিক বারোমাসি আমবাগান স্থানীয় তরুণ উদ্যোক্তা ও সাধারণ কৃষকদের ফল চাষে উৎসাহিত করছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ