
আল্লাহর সাহায্য ও অনুগ্রহ সবার প্রয়োজন। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া বিপদ থেকে উদ্ধার কিংবা সুখের মুহূর্ত স্থায়ী হওয়া সম্ভব নয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহর অনুগ্রহ ও সফলতা লাভের জন্য নামাজ আদায়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ধৈর্য ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত আল্লাহভীরু মানুষের অন্যতম প্রধান অবলম্বন হলো ধৈর্য ও নামাজ।
নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে একজন মুমিনের সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়। এর মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর কাছে শক্তি ও সাহায্য প্রার্থনা করে এবং তাঁর ওপর ভরসা দৃঢ় করে। অন্যদিকে ধৈর্য মানুষকে কঠিন পরিস্থিতিতে দৃঢ় থাকতে এবং দ্বীনের ওপর অবিচল থাকার প্রেরণা দেয়। হাদিসে এসেছে, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সামনে যখন কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এসে উপস্থিত হতো, তখন তিনি দ্রুত নামাজের শরণাপন্ন হতেন। (আহমদ)
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয় তা বিনয়ী ছাড়া অন্যদের ওপর কঠিন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ৪৫)
অর্থাৎ, কোনো বিপদ বা কঠিন পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ করে আল্লাহর ওপর ভরসা করা এবং নামাজের মাধ্যমে তাঁর কাছে সাহায্য চাওয়া মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আমল। মনোযোগের সঙ্গে নামাজ আদায় করলে আল্লাহর ওপর ভরসা বৃদ্ধি পায় এবং অন্তরে প্রশান্তি আসে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, ‘আর আপনার পরিবারবর্গকে সালাতের আদেশ দিন ও তাতে অবিচল থাকুন, আমরা আপনার কাছে কোনো জীবনোপকরণ চাই না; আমরাই আপনাকে জীবনোপকরণ দেই এবং শুভ পরিণাম তো তাকওয়াতেই নিহিত।’ (সুরা ত্বহা, আয়াত: ১৩২)
এ কারণে বিপদাপদ ও কঠিন সময়ে নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ধৈর্য ধারণের পাশাপাশি আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা যায়।
সাহাবা, তাবেয়িন ও বুজুর্গ আলেমদের জীবনেও এ বিষয়ে বিভিন্ন ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। ইবনে আব্বাস (রা.) একবার সফরে ছিলেন। এ সময় তার কাছে তার ভাই ‘কুছাম’-এর মৃত্যুর খবর পৌঁছায়। তিনি বাহন থেকে নেমে দুই রাকাত সালাত আদায় করেন এবং ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাওয়ার আয়াতটি তিলাওয়াত করেন।
আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) অসুস্থ অবস্থায় একবার এমনভাবে বেহুশ হয়ে যান যে, সবাই ধারণা করেছিলেন তিনি মারা গেছেন। তখন তার স্ত্রী উম্মে কুলসুম মসজিদে গিয়ে আল্লাহর নির্দেশ অনুসারে সবর ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করেন। (মুস্তাদরাকে হাকিম, হাদিস: ২৬৯)
সুরা বাকারার এই আয়াত ও বর্ণিত হাদিসগুলো মূলত বিপদ-আপদে নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর ওপর ভরসা এবং ধৈর্য ধারণের শিক্ষা দেয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি