প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪১ পিএম

প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে প্রথমবার যাওয়ার জন্য ক্রিকেটার বিরাট কোহলি পাঁচ কোটি টাকা নিয়েছিলেন—সামাজিক মাধ্যমে এমন দাবি ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে কোহলি ও আনুশকা শর্মার পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, কোনো আর্থিক লেনদেনের কারণে নয়, বরং গভীর বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা থেকেই তারা প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে গিয়েছেন।
প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমের শিষ্য রসিক দুলারীর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগের মধ্যে বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে। তার মৃত্যুর পর ফলাহারী মহারাজ দীনেশ শর্মা দাবি করেন, ২০২৩ সালে প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে বিরাট কোহলির প্রথমবার যাওয়ার পেছনে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল।
দীনেশ শর্মার দাবি, বিরাট কোহলিকে আশ্রমে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাঁচ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে লেখা একটি চিঠিতেও তিনি একই অভিযোগ করেন। তার দাবি, রাজস্থানের একটি বেসরকারি সংস্থা এবং নির্মাণ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত একটি গোষ্ঠী বিরাটের প্রথম সফরের জন্য এই অর্থ খরচ করেছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল আশ্রমের জনপ্রিয়তা বাড়ানো।
তবে এই অভিযোগের কোনো সত্যতা এখনো প্রমাণিত হয়নি। বিরাট কোহলির মুখপাত্রও দীনেশ শর্মার দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিরাট কোহলিকে নিয়ে ফলাহারী মহারাজ দীনেশ শর্মার করা সব দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও তথ্যগত ভুল।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘বিরাট কোহলি সম্পূর্ণ নিজের গভীর বিশ্বাস এবং মহারাজের প্রতি শ্রদ্ধা থেকেই প্রেমানন্দ মহারাজের কাছে যান।’ একই সঙ্গে যাচাই না করে কোনো বক্তব্য ছড়িয়ে না দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে রসিক দুলারীর মৃত্যুর পর আশ্রমকে ঘিরে আরও নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। দীনেশ শর্মার অভিযোগ, নির্মাণ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত একটি গোষ্ঠী এবং জমি-কারবারে জড়িত কিছু ব্যক্তি প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমের নাম ব্যবহার করে প্রচার চালাচ্ছেন। এমনকি আশ্রমকে সামনে রেখে তোলাবাজির কারবার চলছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
২০২৩ সালের ৪ জানুয়ারি অভিনেত্রী আনুশকা শর্মাকে সঙ্গে নিয়ে বৃন্দাবনে যান বিরাট কোহলি। সেখানেই প্রথমবার প্রেমানন্দ মহারাজের সঙ্গে দেখা করে আশীর্বাদ নেন তারা। এরপর একাধিকবার মহারাজের আশ্রমে গেছেন বিরাট ও আনুশকা। তাদের আশ্রমে যাওয়ার বিভিন্ন ভিডিওও প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি