
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় পরিচিত চপ-পেঁয়াজু বিক্রেতা মো. চয়েন আলী (৪৯) হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. হেলাল মিয়াকে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোর আনুমানিক ৫টা ৫ মিনিটে আলমডাঙ্গা থানাধীন হারদী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হেলাল মিয়া কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আসাননগর গ্রামের মো. ইয়ামিনের ছেলে। তিনি বর্তমানে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ওসমানপুর (নতুনপাড়া) এলাকায় বসবাস করেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত চয়েন আলীর স্ত্রী মোছা. মাজেদা খাতুন (৪৪) বাদী হয়ে মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) আলমডাঙ্গা থানায় হেলাল মিয়া, তার স্ত্রী মোছা. লাবনী (৪০) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩/৪ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এজাহারে বলা হয়, গত ৬ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে হেলাল মিয়া ফোন করে চয়েন আলীকে আলমডাঙ্গা থানাধীন ওসমানপুর নতুনপাড়া এলাকায় তার বাড়িতে যেতে বলেন। চয়েন আলী সেখানে যাওয়ার পর বেলা আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে ছেলে মো. মারুফের (১৮) মোবাইলে ফোন করা হয়। এ সময় জানানো হয়, চয়েন আলীর কাছে হেলাল টাকা পাবেন। একই সঙ্গে মারুফকে স্ট্যাম্প নিয়ে হেলালের বাড়িতে যেতে বলা হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, মারুফ আলমডাঙ্গা থেকে স্ট্যাম্প কিনে হেলালের বাড়িতে যাওয়ার আগেই দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে হেলাল ফোন করে জানায়, চয়েন আলী তার ঘরের ভেতর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এবং তাকে হারদী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
খবর পেয়ে একই দিন দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে মাজেদা খাতুন স্বজন ও সাক্ষীদের সঙ্গে নিয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (হারদী হাসপাতাল) গিয়ে স্বামী চয়েন আলীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় তার বাম পাশে থুতনির নিচে রক্তাক্ত জখম এবং পিঠ ও গলায় হালকা কালশিরে দাগ দেখতে পান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, হেলাল মিয়া তার স্বামীকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা অন্য আসামিদের সহযোগিতায় হত্যা করেছেন।
এ ঘটনায় বাদীর লিখিত এজাহারের ভিত্তিতে আলমডাঙ্গা থানায় ৭ অক্টোবর মামলা নম্বর-০৬, ধারা ৩০২/৩৪ পেনাল কোড, ১৮৬০ অনুযায়ী হত্যা মামলা রুজু করা হয়।
পুলিশ জানায়, চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. মেহেদী হাসান তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেন। পরে বুধবার ভোর ৫টা ৫ মিনিটের দিকে হারদী এলাকা থেকে মামলার ১ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি হেলাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হেলাল মিয়াকে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ