প্রকাশ: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ পিএম

ভারতের বর্তমান পরিস্থিতি ও শান্তির অভাব নিয়ে মন্তব্য করে আলোচনায় এসেছেন বলিউড অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত। তার মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে অভিনেতার পুরোনো বিতর্কিত অতীত, বিশেষ করে ১৯৯৩ সালের অবৈধ অস্ত্র মামলার বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। এ নিয়ে সঞ্জয়কে ‘ভণ্ড’ বলেও আখ্যা দিচ্ছেন নেটিজেনদের একটি অংশ।
সম্প্রতি অভিনেতা ও উপস্থাপক শেখর সুমনের একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে ভারতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন সঞ্জয় দত্ত। সেখানে তিনি বলেন, ‘এ দেশের মানুষ অনেক ভালো, তাই এখানে শান্তি থাকা উচিত। কিন্তু ইদানীং আমাদের দেশে আমি সেই শান্তি অনুভব করতে পারছি না। ভারতীয়রা অত্যন্ত উদার ও অতিথিপরায়ণ। আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, সেই শান্তির পরিবেশ যেন দ্রুত ফিরে আসে।’
সঞ্জয়ের এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক শুরু হয়। নেটিজেনদের একটি বড় অংশ তার মন্তব্যের সমালোচনা করে পুরোনো ঘটনাগুলো সামনে আনছেন। বিশেষ করে ১৯৯৩ সালের মুম্বাই ধারাবাহিক বোমা হামলার পর অবৈধ অস্ত্র রাখার মামলায় সঞ্জয়ের দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে অনেকে তার বক্তব্যকে ‘ভণ্ডামি’ বলে মন্তব্য করছেন।
১৯৯৩ সালের ১২ মার্চ মুম্বাইয়ে ধারাবাহিক বোমা হামলার তদন্তের সময় সঞ্জয় দত্তের কাছে অবৈধ অস্ত্র থাকার বিষয়টি সামনে আসে। আদালতের নথি অনুযায়ী, তিনি একটি একে-৫৬ রাইফেল ও গোলাবারুদ গ্রহণ করেছিলেন। তবে বিস্ফোরণের ষড়যন্ত্র বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থেকে আদালত তাকে খালাস দেন। পরে অস্ত্র আইনে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০১৩ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট তার সাজা পাঁচ বছর নির্ধারণ করেন। এরপর তিনি পুনের ইয়েরওয়াড়া কেন্দ্রীয় কারাগারে সাজা ভোগ করেন। ২০১৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি কারাগার থেকে মুক্তি পান এই অভিনেতা।
কারাগার থেকে মুক্তির পর সঞ্জয় দত্ত বিভিন্ন সময় দাবি করে এসেছেন, তিনি কোনো সন্ত্রাসী ছিলেন না এবং শুধু অস্ত্র আইনে সাজা ভোগ করেছেন। তবে ভারতে শান্তির অভাব নিয়ে তার সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর সামাজিক মাধ্যমে সেই পুরোনো মামলার প্রসঙ্গ আবারও সামনে এসেছে। তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে চলছে নানা আলোচনা ও সমালোচনা।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি