রবিবার ● ৪ অক্টোবর ২০২৬
   
শিরোনাম:
ঘুষ নিয়ে বাগান বন্ধের অভিযোগ
প্রতিনিধি, আলীকদম (বান্দরবান)
প্রকাশ: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৬ পিএম

বান্দরবানের আলীকদমে সামাজিক বনায়নের জন্য নির্ধারিত প্রায় ৫০ হেক্টর বনভূমি দখলের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে লামা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন পর বনভূমিতে নতুন করে বাগান করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও চারা রোপণ শুরুর পরই তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আর এর সুযোগে বহিরাগতদের বনভূমি দখলের পথ তৈরি হচ্ছে।

উপকারভোগীদের আরও অভিযোগ, ডিএফওকে ম্যানেজ করে সামাজিক বনায়নের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হচ্ছে। এ জন্য ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও করেছেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্র ও উপকারভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আলীকদমের বাবু পাড়া কবরস্থান এলাকায় ২০০২-০৩ অর্থবছরে ‘এ’ ব্লকের আওতায় সামাজিক বনায়ন করা হয়। বন বিভাগের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে উপকারভোগীরা সেখানে বাগান গড়ে তোলেন। ২০১২-১৩ সালে ওই বাগানের গাছ বিক্রি করা হয়। এরপর ২০১৬-১৭ সালে বন বিভাগ ও ‘এ’ ব্লকের উপকারভোগীরা যৌথভাবে সেখানে পুনরায় বাগান করার উদ্যোগ নেয়।

অভিযোগ রয়েছে, নতুন করে বাগান করার উদ্যোগের পর স্থানীয় প্রভাবশালীরা ওই এলাকার গাছ কেটে নেয়। একপর্যায়ে সামাজিক বনায়নের জন্য নির্ধারিত প্রায় ৫০ হেক্টর বনভূমি দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় বলে দাবি উপকারভোগীদের।

সম্প্রতি ওই বনভূমিতে আবারও সামাজিক বনায়ন কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেন উপকারভোগীরা। বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে চারা রোপণও শুরু হয়। কিন্তু কয়েকদিন পরই হঠাৎ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

উপকারভোগী মাহ্লাচিং ও ওহায়মং বলেন, গত সেপ্টেম্বরে সাবেক মাতামুহুরী রেঞ্জের সাবেক ও বর্তমান রেঞ্জ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে সেখানে সামাজিক বনায়নের চারা রোপণ শুরু করা হয়। কয়েকদিন কাজ চলার পর ডিএফওর নির্দেশে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাঁদের অভিযোগ, চারা রোপণ বন্ধ রেখে বনভূমি দখলের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে।

উপকারভোগী নুহ্লাচিং মারমা বলেন, ‘আমরা সামাজিক বনায়নের উপকারভোগী। আমাদের বাগান করার কথা। কিন্তু বন বিভাগ কাজ বন্ধ রাখায় এখন বহিরাগতরা জায়গা দখলের সুযোগ পাচ্ছে। টাকা নিয়ে সামাজিক বনায়নের কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে আমাদের অভিযোগ।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক উপকারভোগী বলেন, ‘বনভূমি দখলকারীরা ডিএফওকে ম্যানেজ করতে পারলে তাঁদের ইচ্ছামতো কাজ বন্ধ রাখা হয়। আজ বাগান বন্ধ, কাল সেখানে দখল হবে। এভাবে চলতে থাকলে কাগজে বন বিভাগের জমি থাকলেও বাস্তবে দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, সামাজিক বনায়নের নামে উপকারভোগীদের সম্পৃক্ত করে বনভূমি রক্ষার কথা থাকলেও বাস্তবে কার্যক্রম বন্ধ থাকায় উল্টো দখলের ঝুঁকি বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা জায়গাটিতে বন বিভাগের নিয়মিত নজরদারি না থাকলে দখলদাররা সেখানে স্থাপনা কিংবা বিভিন্ন ধরনের চাষাবাদ শুরু করতে পারে বলেও আশঙ্কা তাঁদের।

মাতামুহুরী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রেদোয়ান বলেন, ডিএফও স্যারের নির্দেশে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বন বিভাগের কর্মকর্তাদের দ্রুত সামাজিক বনায়ন কার্যক্রম শুরু করতে বলা হয়েছে। তা না হলে বন বিভাগকে নিজেদের উদ্যোগে জায়গাটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সেখানে বাগান করার জন্য বলা হয়েছে। তবে এরপর বন বিভাগ কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা তাঁকে জানানো হয়নি।

এদিকে, ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমানের বক্তব্য জানতে গত তিন দিন ধরে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে তিনি ফোন ধরেননি। পরে তাঁর দপ্তরে গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ফলে সামাজিক বনায়নের কার্যক্রম বন্ধের কারণ এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।




স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close