শনিবার ● ৩ অক্টোবর ২০২৬
   
শিরোনাম:
● ৭২ বছরের পুরোনো ভবনে প্রতিদিন ২–৩ হাজার মানুষের আনাগোনা      ● লাখ টাকার মরিচগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ      ● কারিগরি শিক্ষাই তৈরি করতে পারে কর্মসংস্থান      ● কুলাউড়ায় পুঞ্জিতে ৫০ লক্ষ টাকার পানগাছ কর্তন করে দুর্বৃত্তরা       ● ডিমের বাজারে ডিএসসিসির তদারকি      ● সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে: কৃষিমন্ত্রী      ● ফারাক্কা চুক্তি নবায়নের কাজ চলছে: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী      ● সীমান্তে চোরাচালান ঠেকাতে অভিযান অব্যাহত      ● ছাত্রীকে কুপ্রস্তাবের অভিযোগ, পুলিশের হাতে যুবক      ● পূজায় মুক্তি পাচ্ছে ‘দেশু ৭’      ● তিন শতাধিক পাহাড়িকে বিনামূল্যে চিকিৎসা      ● ৫২০ টাকা কেজি মাল্টা, ব্যাখ্যা চাইলেন মন্ত্রী      
৭২ বছরের পুরোনো ভবনে প্রতিদিন ২–৩ হাজার মানুষের আনাগোনা
প্রতিনিধি, কক্সবাজার
প্রকাশ: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩২ পিএম

কেউ আসেন ট্রেজারি শাখায়, কেউ নকলখানায়। কেউ এজলাসে হাজিরা দিতে, আবার কেউ মামলার নথিপত্রের খোঁজে। প্রতিদিন নানা কাজে কক্সবাজার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনে ভিড় করেন দুই থেকে তিন হাজার মানুষ। তাদের মধ্যে বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী, মামলার আসামি ও সাক্ষী যেমন রয়েছেন, তেমনি জেলার গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারাও বিভিন্ন কাজে এই ভবনে আসেন।

কিন্তু ন্যায়বিচারের আশায় প্রতিদিন যে ভবনে মানুষের আসা-যাওয়া, সেই ভবনটিই এখন ঝুঁকিপূর্ণ। ছাদ থেকে খসে পড়ছে কংক্রিট ও পলেস্তারা। কলাম-পিলারে দেখা দিয়েছে ফাটল। কোথাও দেয়ালের পলেস্তারা উঠে গেছে, আবার কোথাও ভবনের ভেতর থেকে উঁকি দিচ্ছে জং ধরা লোহার রড। এমন পরিস্থিতিতেও বিচারক, আইনজীবী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ হাজারো মানুষকে নিয়মিত এই ভবনেই অবস্থান করতে হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার কক্সবাজার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় সব কটি কলাম-পিলারেই ফাটল রয়েছে। কোথাও পলেস্তারা উঠে গিয়ে ক্ষত তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক কর্মকর্তার মাথার ওপরেও পলেস্তারা খসে পড়ার বড় বড় চিহ্ন দেখা গেছে।

এই ভবনেই বিচারিক কার্যক্রমের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী (দ্রুত বিচার) আদালত, প্রশাসনিক শাখা, রেকর্ড রুম, সেরেস্তা, ট্রেজারি, এজলাস ও নকল সরবরাহকারী শাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ভবনের দুই পাশে রয়েছে দুটি ক্যান্টিনও।

সরকারি তালিকা অনুযায়ী, সদরভিত্তিক চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অধীনে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, দুইজন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও চারজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত রয়েছে। এসব আদালতের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিদিনই বিচারকদের ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনে অবস্থান করতে হয়। একই ঝুঁকির মধ্যে থাকতে হচ্ছে আইনজীবী, তাঁদের সহকারী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আদালতে আসা হাজারো মানুষকে।

সরকারি নথিতেও ‘জীবন-ঝুঁকি’র কথা

ভবনটির ঝুঁকির বিষয়টি শুধু সরেজমিনের চিত্রে সীমাবদ্ধ নয়; সরকারি নথিতেও একাধিকবার এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। গত ১ ফেব্রুয়ারি গণপূর্ত বিভাগের কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে সরাসরি বলা হয়েছে, ‘আলোচ্য ভবন ব্যবহারকারীগণ জীবন-ঝুঁকিতে রয়েছেন।’

গণপূর্ত বিভাগের ওই চিঠি অনুযায়ী, ১৯৫২ সালে নির্মিত ভবনটি দীর্ঘদিন কক্সবাজার জেলা আদালত ভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। জেলা জজ আদালতের নতুন ভবন নির্মাণের পর ২০০৯ সাল থেকে ভবনটি চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

সাত দশকের বেশি পুরোনো এই ভবনে বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার সংস্কার করা হলেও সেগুলো টেকসই হয়নি বলে সরকারি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। কয়েকবার সংস্কারের পরও ভবনটি স্থায়ীভাবে ঝুঁকিমুক্ত করা সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন সময় ছাদ থেকে কংক্রিট খসে পড়লেও এখন পর্যন্ত সৌভাগ্যক্রমে তা কারও গায়ে পড়েনি বলেও উল্লেখ রয়েছে ওই নথিতে।

পুরোনো ভবনের ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভূমিকম্পের আশঙ্কাও। বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (BNBC) ২০২০ অনুযায়ী কক্সবাজার সিসমিক জোন-৩-এর অন্তর্ভুক্ত। এ কারণে ভূমিকম্পের সময় ভবনটিতে দুর্ঘটনার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে গণপূর্ত বিভাগ।

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ চৌধুরী বলেন, ভবনটি ব্রিটিশ আমলে নির্মিত। দীর্ঘদিনের ব্যবহারে ভবনটির অনেক কিছুই দুর্বল হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, ‘২০২৩ সালে জেলা জজ বরাবর একটি প্রাক্কলন পাঠানো হয়েছিল। বর্তমানে সেটি কতদূর এগিয়েছে বা কী অবস্থায় আছে, তা আমার জানা নেই। তবে চলতি অর্থবছরে দুটি কক্ষ নির্মাণের জন্য আমরা বরাদ্দ পেয়েছি।’

বিকল্প ভবনের প্রস্তাব, তিন বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি

ঝুঁকি এড়াতে পুরোনো ভবন সংস্কারের পাশাপাশি বিকল্প ব্যবস্থার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। ২০২৩ সালের ৪ জুন জরাজীর্ণ এই ভবনের পরিবর্তে ৬ হাজার বর্গফুটের একটি অস্থায়ী টিনসেড সেমিপাকা ভবন নির্মাণের জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ চেয়ে প্রাক্কলন পাঠানো হয়।

তবে প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও সেই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়নি। বিকল্প ভবনের উদ্যোগটি বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে, জানতে চাইলে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই।

এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই প্রতিদিন বিচারকাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। আইনজীবীরাও ভবনটির ঝুঁকির বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

কক্সবাজার আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান বলেন, ‘ঝুঁকি জেনেও আইনজীবীদের কাজ করতে হয়। অবশ্যই তাঁদের জীবনেরও ঝুঁকি আছে। আমরা আশা করছি, ঝুঁকি কাটাতে এখানে জুডিশিয়াল কমপ্লেক্স ভবন করা হবে।’

আদালতে আসা বিচারপ্রার্থী শহিদুল বলেন, ‘দেখে মনে হচ্ছে অনেক পুরনো ভবন, বিভিন্ন জায়গায় ক্ষত দেখা যাচ্ছে। পিলারেও ভাঙন ধরেছে। নতুন ভবন করলে ভালো হয়।’

বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা ও প্রস্তাবটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান বলেন, ‘ওখানে জেলা প্রশাসনের কাজ নাই, ওটা জুডিশিয়ারি বিভাগ। তবে বিষয়টি জানলাম। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’

ফলে সাত দশকের বেশি পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে প্রতিদিন বিচারকাজ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চললেও স্থায়ী সমাধান এখনও অধরা। ভবনটির ঝুঁকি বিবেচনায় দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা বা নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।




স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি


আরও সংবাদ   বিষয়:  কক্সবাজার আদালত   চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত   আদালত ভবন   ঝুঁকিপূর্ণ ভবন   কক্সবাজার   গণপূর্ত বিভাগ   আদালত ভবনে ফাটল   বিচারক   আইনজীবী   জুডিশিয়াল কমপ্লেক্স  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close