প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৩ পিএম আপডেট: ২৯.০৯.২০২৬ ২:৫৩ PM

প্রেসক্লাব যশোরের নবনির্বাচিত সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন ও সাধারণ সম্পাদক নূর ইসলামকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যশোর জেলা কমিটির দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় দলটির জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে এনসিপির সহযোগী সংগঠন ‘ছাত্রশক্তি’র নেতাকর্মীরা প্রেসক্লাব যশোরের নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যান। এ সময় তাঁদের সঙ্গে ছিলেন জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মতিন এবং জুলাই গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার বায়েজিদ হুসাইন।
পরদিন ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে আব্দুল মতিন ও ইঞ্জিনিয়ার বায়েজিদ হুসাইনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। জেলা এনসিপির দপ্তর সম্পাদক তপু ইসলাম স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়, দলীয় ফোরামে আলোচনা বা প্রয়োজনীয় সমন্বয় না করে ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদককে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর ঘটনায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, এ ঘটনায় জনসম্মুখে দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হয়েছে। এতে দলের ভাবমূর্তি ও গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়। এ কারণে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার লিখিত ব্যাখ্যা নোটিশ পাওয়ার সাত কার্যদিবসের মধ্যে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
এদিকে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর ঘটনায় দুই নেতাকে শোকজের বিষয়টি নিয়ে জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সামাজিক একটি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়াকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করার যৌক্তিকতা নিয়েও তাঁদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
জেলা এনসিপির আহ্বায়ক নুরুজ্জামান বলেন, দলীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে না জানিয়ে এবং সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় না করে ওই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ায় দুই নেতাকে শোকজ করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, সাংগঠনিক কিছু বিষয় অভ্যন্তরীণ থাকে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য তাঁদের সতর্ক করা হয়েছে। আপাতত কেন্দ্রীয় পর্যায়ের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান হয়েছে।
এ বিষয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য খালেদ সাইফুল্লাহ জুয়েল বলেন, বিষয়টি তাঁর দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তাঁর দাবি, সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জেলা কমিটির সম্পাদকদের জেলা আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার এখতিয়ার নেই। তিনি আরও বলেন, সংগঠনের ভাবমূর্তি বা আদর্শবিরোধী না হলে সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকে এনসিপি নিরুৎসাহিত করে না; বরং ইতিবাচকভাবে দেখে। তবে প্রকৃত ঘটনা কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি যাচাই-বাছাই করছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি