শনিবার ২ মার্চ ২০২৪
মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৪ শিশু নির্যাতনের অভিযোগ
কালকিনি (মাদারীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৩, ৬:২৩ পিএম
মাদারীপুরের কালকিনিতে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৪ শিশু শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২৩ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় উপজেলার খাসেরহাট নুরানী হাফিজিয়া মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে। এদিকে, প্রসাশনের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত পালিয়ে যান ওই শিক্ষক। 

জানা যায়, ঘটনার দিন এলাকাবাসী বিচারের দাবিতে মাদরাসায় অবরুদ্ধ করে রাখেন ওই শিক্ষককে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উত্তম কুমার দাশ এবং কালকিনি থানার ওসি মো. নাজমুল হাসান ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরবর্তী সময়ে তারা নির্যাতনের শিকার শিশু শিক্ষার্থীদের দেখতে তাদের বাড়িতে যান এবং চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করেন। এদিকে, প্রসাশনের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত পালিয়ে যান ওই শিক্ষক।  

শুক্রবার (২৪ নভেম্বর) উপজেলা নির্বাহী অফিসার উত্তম কুমার দাশ এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির তথ্য সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’    

অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মো. তোফায়েল হোসেন-(৪৬)। 

পুলিশ, ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার খাসেরহাট নুরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসায় হঠাৎ করে একটি হনুমান হানা দেয়। এসময় ওই মাদরাসার শিশু শিক্ষার্থীরা হনুমানটিকে তাড়ানোর জন্য মাদরাসার ছাদে উঠে ঢিল ছোড়ে। এতে বাধা দেন শিক্ষক হাফেজ মো. তোফায়েল হোসেন। কিন্তু শিক্ষকের বাধা উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা তাদের কাজ চালিয়ে যায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষক তোফায়েল হোসেন বৃহস্পতিবার বিকালে ওই চার শিশুকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করেন। পরে আহত ওই শিক্ষার্থীদের স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এদিকে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন। 

আহত শিশুরা বলে, ‌‘আমিসহ আমাদের ৪ জনকে মাদরাসার দরজা বন্ধ করে হাতে, পিঠে, পায়ের নিচে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাঠি দিয়ে পিটিয়েছে এবং লাথি মেরেছে আমাদের হাফেজ হুজুর।’

আহত এক শিক্ষার্থীর বাবা নাসির খান বলেন, ‘তোফায়েল হুজুর পিটিয়ে আমার ছেলের আঙুল ভেঙে দিয়েছে। আমি তার বিচার চাই।’ 

অভিযুক্ত শিক্ষক তোফায়েল হোসেন বলেন, ‘এই ঘটনায় আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। 
  
কালকিনি থানার ওসি মো. নাজমুল হাসান বলেন, ‘শিক্ষকদের এমন কাজ মেনে নেওয়া যায় না।’ 

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উত্তম কুমার দাশ বলেন, ‘নির্যাতনের ঘটনায় আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই আহত শিক্ষার্থীদের খবর নিয়েছি। তাদের চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করেছি। এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

/ওয়াশিম/এম/

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






● সর্বশেষ সংবাদ  
● সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : লুৎফর রহমান হিমেল
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: +৮৮০২-৮৮৩২৬৮৪-৬, মোবাইল: ০১৪০৪-৪৯৯৭৭২। ই-মেইল : e-mail: swadeshnewsbd24@gmail.com, info@swadeshpratidin.com
● স্বদেশ প্রতিদিন   ● বিজ্ঞাপন   ● সার্কুলেশন   ● শর্তাবলি ও নীতিমালা   ● গোপনীয়তা নীতি   ● যোগাযোগ
🔝