রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
স্বাক্ষর সচিবের, টাকা উত্তোলন করলেন ইউপি চেয়ারম্যান
আরফিনুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ মে, ২০২৩, ২:৩৭ পিএম
স্বাক্ষর সচিবের, টাকা উত্তোলন করলেন ইউপি চেয়ারম্যান

স্বাক্ষর সচিবের, টাকা উত্তোলন করলেন ইউপি চেয়ারম্যান

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার গয়াবাড়ী ইউপির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার বিভাগের উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের টাকা আত্মসাৎ ও সচিবের স্বাক্ষর নকলের অভিযোগ উঠেছে। কিছু প্রকল্পের অস্তিত্ব নেই, কিছু প্রকল্পে কোনো কাজই হয়নি। এমন নামসর্বস্ব প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখিয়ে উত্তোলন করা হয়েছে কোটি টাকা।

অফিস সুত্রে জানা যায়, দুটি প্রকল্পে দুই ইউপি সদস্যকে কমিটির সভাপতি বানিয়ে কাজ না করে তিন বছর আগের দুইটি প্রকল্প পাঁচ লক্ষ চুয়ান্ন হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন। এদিকে ইউনিয়ন পরিষদের যে কোন প্রকল্পের বরাদ্দ উত্তোলনে চেয়ারম্যান ও ইউপি সচিবের স্বাক্ষরের প্রয়োজন থাকলেও ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সামছুল হক তা না করেই তিন বছর আগের দুইটি প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করেন।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, প্রকল্প দুইটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করেছে মেসার্স মহিউল ট্রেডার্স। প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাশিকারী ওই ইউপি চেয়ারম্যান সামসুল হকের ছেলে মহিউল আলম। প্রকল্পে ইউপির ৪নং ওয়ার্ডের কাউয়াধনী পাড়া এলাকার দক্ষিণ গয়াবাড়ী আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মৃত চয়নুদ্দিনের বাড়ীর সামনে রাস্তায় পুকুরের প্লাসাইডিং নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখানো হয়। কিন্তু সরেজমিনে ওই প্রকল্পের কোন অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায়নি। একই ঘটনা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ফুটানিরহাট এলাকার হামিদুলের বাড়ির কাছে রাস্তায় ইউড্রেন নির্মাণ নিয়েও।

অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে,  ডিমলা উপজেলার গয়াবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ সামছুল হক ২০২২-২৩ অর্থ বছরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের প্রথম কিস্তি হতে বরাদ্দকৃত দুইটি প্রকল্পের জন্য ৪ লক্ষ ৩৩ হাজার চারশত টাকা বরাদ্দ পান। এরপর চেয়ারম্যান তাঁর ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ড সদস্য সফিকুল ইসলাম ও ৪নং ওয়ার্ড সদস্য সাহাবুল আলমকে প্রকল্প কমিটির সভাপতি দেখিয়ে পুরোনো তিন বছর আগের দুইটি প্রকল্প দেখিয়ে কাজ না করে সমুদয় টাকা আত্মসাত করেন। এছাড়া উপজেলা পরিষদ হতে প্রাপ্ত ভূমি রেজিস্ট্রেরী তহবিলের এক শতাংশের এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা সহ ৫ লক্ষ ৫৪ হাজার টাকা আত্মসাত করেন তিনি। এ বিষয়ে ইউপি সচিব গয়াবাড়ী ইউনিয়ন মাহবুল আলম নীলফামারী জেলা প্রশাসক পঙ্কজ ঘোষ এর কাছে কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়, ভূয়া প্রকল্প দুটির মাঠে কোন অস্তিত্ব নেই। এরপরেও চেয়ারম্যান সামছুল হক গত ঈদ উল ফিতরের আগে ইউপি সচিবের স্বাক্ষর জাল করে সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের ডিমলা শাখা টাকা উত্তোলন করেছেন। এছাড়াও চেয়ারম্যান সামছুল হক ভিজিডি কার্ড, বয়স্ক ভাতা, মাতৃভাতা, ভিজিএফের চাউল বিক্রিসহ অনেক টাকা আত্মসাত করেছেন।

এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের(দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন মীর নিক্সন নামে এক ব্যক্তি। এছাড়াও স্বাক্ষর জাল করে টাকা উত্তোলনের বিষয়ে নীলফামারী জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন একই ইউনিয়ন পরিষদ সচিব মো. মাহাবুব রহমান।

মৃত চয়নুদ্দিনের ছেলে দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমার বাড়ির সামনে পুকুর পাড়ে রাস্তায় কোন প্লাসাইডিং নির্মাণ করা হয়নি। তবে রাস্তা ধসে গেলে এখানে কয়েক টলি মাটি-বালু দিয়েছিল এর থেকে বেশী কিছু করে নি।

গয়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. মাহাবুব আলম বলেন, চেয়ারম্যান সাহেবের অনুমতি নিয়ে তিনদিনের চিল্লায় ছিলাম। তবুও অফিসের নানান কাজ করেছি।  এ সময়ের মধ্যে উপজেলা পরিষদ হতে প্রাপ্ত ভূমি রেজিষ্ট্রারীর এক পার্সেন্টের ১ লক্ষ টাকা ও যে প্রকল্পের কোন অস্তিত্বই নেই সে প্রকল্পের বাস্তবায়ন দেখিয়ে টাকা উত্তোলন করেছেন। ইউনিয়ন পরিষদের কোন প্রকল্পের অর্থ উত্তোলনে চেয়ারম্যান ও ইউপি সচিবের স্বাক্ষরের প্রয়োজন। এক্ষেত্রে উক্ত অর্থ উত্তোলনে আমি কোন স্বাক্ষর দেইনি। চেয়ারম্যান সামছুল হক আমার স্বাক্ষর জাল করে টাকা উত্তোলন করেছেন। এ ঘটনায় আমি আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছি। আমি আশাবাদী সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত ঘটনা উন্মোচন হবে ও কার্যকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ রকম অসদুপায় অবলম্বন করতে না পারে।

দুদকে অভিযোগ কারী মীর মিক্সন বলেন, হামিদুলের বাড়ীর সামনে ইউড্রেন কয়েক বছর আগের প্রকল্প। আর চয়ন উদ্দিনের বাড়ির সামনে তো কোন প্যালাসাইডিং নির্মাণেই হয়নি। চলতি বাজেটে উক্ত প্রকল্প দেখিয়ে ও ভূমি রেজিস্ট্রি অফিসের টাকা সচিবের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে চেয়ারম্যান উত্তোলন করেন। এই প্রকল্পের কোন অস্তিত্বই নেই।
তিনি আরও বলেন,  ভিজিডি কার্ড, বয়স্ক ভাতা, মাতৃভাতা, ভিজিএফ এর চাল বিক্রিসহ নানা প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতে চেয়ারম্যান সম্পৃক্ত।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য মো. সাহাবুল আলম বলেন, প্রকল্প আছে। যখন অডিট আসবে তখন সরেজমিনে দেখাব। এরপর সাক্ষাতে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন তিনি।

মুঠোফোনে চেয়ারম্যান সামছুল হককে একাধিক কল করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে নীলফামারী জেলা প্রশাসক (ডিসি) পঙ্কজ ঘোষ বলেন, "লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






● সর্বশেষ সংবাদ  
● সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : লুৎফর রহমান হিমেল
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: +৮৮০২-৮৮৩২৬৮৪-৬, মোবাইল: ০১৪০৪-৪৯৯৭৭২। ই-মেইল : e-mail: swadeshnewsbd24@gmail.com, info@swadeshpratidin.com
● স্বদেশ প্রতিদিন   ● বিজ্ঞাপন   ● সার্কুলেশন   ● শর্তাবলি ও নীতিমালা   ● গোপনীয়তা নীতি   ● যোগাযোগ
🔝