শনিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২৩ ১৪ মাঘ ১৪২৯

এই শীতেও শেখ হাসিনা কি বলেন, জানেন কেহ?
এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন:
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৩, ৪:৫৪ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

এই শীতেও শেখ হাসিনা কি বলেন, জানেন কেহ?

এই শীতেও শেখ হাসিনা কি বলেন, জানেন কেহ?

জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুনের একটি বিশেষ উক্তির কথা মনে পড়ছে। তিনি বলেছিলেন, ‘টেকসই উন্নয়ন সকলের জন্যই ভবিষ্যতের পথ নির্দেশ করে। কারণ, টেকসই উন্নয়ন পরিক্রমা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সামাজিক ন্যায়বিচার অর্জন এবং শাসন কর্মকে শক্তিশালী করার জন্য একটি কাঠামোগত প্রায়োগিক নির্দেশনা সরবরাহ করে।’

বাংলাদেশ যেন কোরিয়ার এই রাজনীতিক ও ডিপ্লোম্যাটের পদাংক অনুসরণ করে দাঁড়িয়ে গেছে। অতি অবশ্যই আমাদের নেতা শেখ হাসিনাকে বান কি মুনের চেয়েও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিসত্তা হিসাবে ধরতে হবে। যখন তিনি বুঝতে পারেন যে, নিজেদের উপযোগি শাসন ব্যবস্থাকে আরেকটু পরে ধরে আগে জনস্বার্থের কাজগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তিনি ঠিক এই কাজটিই করেছেন।

আমি বিশ্বাস করি, বাংলা ভাষার সাহিত্যিকদের নিদেনপক্ষে ১২টি উপন্যাস রচিত হওয়ার ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়, যখন তারা শাসক হিসাবে শেখ হাসিনাকে পরখ করার সুযোগ পায়। যে সকল বিদগ্ধশ্রেণি তা দেখতে পারছে না অথবা সেই চোখই নেই দেখার, তাহলে আমি বলবো, সরকারের সুপ্রিম চেইন অব কমান্ডে কবি ও সাহিত্যিকদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো জরুরি। কারণ, ইতিহাস সংকলনের দায়িত্ব না নেয়াও এক ধরনের সাংস্কৃতিক অপরাধ।

শেখ হাসিনার গণমুখী শাসন ও পথচলা ইস্যুতে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সুবিন্যস্ত ধারাভাষ্যে লিপিবদ্ধ হতে হবে। উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বর্তমান প্রজন্মের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি সেসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে ঘাটতি বা বাঁধার কোনো কারণ হয়ে না দাঁড়ায়, সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রেখে পরিকল্পিত উন্নয়নই হলো টেকসই উন্নয়ন। বাংলাদেশের মানুষগুলোর কাছে আমার জিজ্ঞাসা, শেখ হাসিনা তেমন করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন কিনা?

যে যা বলতে থাকুক, সেদিকে কর্ণপাত না করে অদম্য পথচলায় শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবনে তাই ফলত গতিরোধক নেই। শেখ হাসিনা ধরেই নিয়েছেন, আমাকে প্রিয় মানচিত্রের জন্য কাজ করে যেতে হবে। অথচ, আওয়ামী লীগ যারা করছি, তারা তাদের দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট নয়। আমার খুব জানতে ইচ্ছে হয়, এরা সারাদিন কী করে? কেন তারা সাধারণ মানুষের সাথে পথে প্রান্তরে যেয়ে দেশকে নিয়ে আলোচনায় যায় না?

সকল শ্রেণিপেশার মানুষগুলোকে ওরা কেন বলতে পারেনা যে, শেখ হাসিনা পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশকে বৈশ্বিক মানদণ্ডের হিসাব কষে সত্যিকার অর্থে কুড়িটি বছর এগিয়ে গেছেন। ফলে, স্বাধীনতা অর্জন করার পর প্রথম ত্রিশ বছরে আধুনিক বিশ্ব থেকে আমরা পিছিয়ে থাকলেও গেল চৌদ্দ বছরে ৩৫ বছরের মত এগিয়ে গিয়েছি। যার দরুন, আর একযুগের মত করেও শেখ হসিনার নেতৃত্বে দেশ পরিচালিত হতে থাকলে আমরা উন্নত দেশের অবকাঠামো নিয়ে বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলতে পারব। তখন এই বাংলাদেশ কৃষি, শিল্প, মৎস্য, পর্যটন খাতে বিপ্লব করবে। যুতসই বেকার ভাতা প্রদানের মত পর্যায়েও তখন বাংলাদেশ পৌঁছে যাবে।

বাংলাদেশ মূলত সমুদ্র ও প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার নিশ্চিত করে এই বিশ্বের অন্যতম বড় অর্থনীতির দেশ হতে পারবে বলে মনে করার সুযোগ আছে। যা স্বাধীনতার একান্ন বছর পার হয়েও আজ অব্দি অমীমাংসিত বাস্তবতা। আমি মনে করি, শেখ হাসিনা দেশের দুইটি অনিবার্য যৌগিক চাহিদা তথা ডিফেন্স ডকট্রিন এবং ফরেন পলিসিজ ইস্যুতে মনোযোগি থেকে প্রাকৃতিক সম্পদ ও সমুদ্রের ব্যবহারনীতির মাধ্যমে আগামী বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা হিসাবে নিজেকে উত্তীর্ণ করাবেন।

একটি বিখ্যাত উক্তির কথা মনে পড়ে যায়। যেমন, ‘A grateful heart is a beginning of greatness. It is an expression of humility. It is a foundation for the development of such virtues as prayer, faith, courage, contentment, happiness, love, and well-being’.

আমি মনে করি, শেখ হাসিনার হৃদয়কে ধারণ করে সারা বাংলার মানুষের সাংস্কৃতিক মনবোধের কেন্দ্রটি কৃতজ্ঞতার চাদরে মুড়িয়ে থাকা উচিত। এমন উদাহরণে মানুষ সিক্ত না হতে পারলে তাদেরকে মানুষ বলা যায় না, যাবে না। তাদের অনেকেই রাষ্ট্র মেরামতের কথা বলে নিজেদের উপযোগী শাসনব্যবস্থার বিপরীতমুখী অবস্থান নিয়ে মানুষকে ধোঁকা দিতে চায়। তারা সাম্রাজ্যবাদী শক্তির তাবেদারীতে থেকে খুন-গুমের কথা বলে! অথচ, এমন রীতির অনুশীলনে থেকে তারাই তেমন দৃষ্টান্তের পথিকৃৎ। তারা মহান মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে তামাশা করার চর্চা করতে পারে বলেই, জামায়াত-শিবিরের লোকগুলোকে নিয়ে ‘জিন্দাবাদ’ বলে!

মানুষের বৃদ্ধি ও বিকাশই নেতৃত্বের সর্বোচ্চ আহবান- এমন ধারাবাহিকতা রক্ষা করে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা। কিন্তু, বাংলাদেশের দুষ্টু একটি শ্রেণি একজন শেখ হাসিনার পথকে রুদ্ধ করতে চায়। তিনি তাই মাঝে মাঝে হতাশও হন। চিন্তা করেন। বলেন, এরা আসলে কি বাংলাদেশকে ভালবাসে? ওই হতাশা থেকে এই শীতেও তিনি ঘরের কোণে জানালা দিয়ে মিষ্টি রোদের প্রত্যাশা করেন। বলতে থাকেন, ‘হতাশা হল জ্বালানী যা একটি উদ্ভাবনী এবং দরকারী ধারণার বিকাশ ঘটাতে পারে।’

লেখক: সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। 

স্বদেশপ্রতিদিন/এমএস 

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: +৮৮০২-৮৮৩২৬৮৪-৬, মোবাইল: ০১৪০৪-৪৯৯৭৭২। ই-মেইল : e-mail: swadeshnewsbd24@gmail.com, info@swadeshpratidin.com
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।