রোববার ২৭ নভেম্বর ২০২২ ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন নিয়ে নারী শিক্ষার্থীদের ভাবনা
শাহীন আলম, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ নভেম্বর, ২০২২, ৬:২৩ পিএম আপডেট: ১০.১১.২০২২ ৬:৩৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

  মাওয়া, ঐশী, লিপি, সুমাইয়া, শারমীন

মাওয়া, ঐশী, লিপি, সুমাইয়া, শারমীন

একবিংশের বিশ্বায়নের সাথে আমরা তাল মিলিয়ে এগিয়ে গেলেও সমান গতিতে এগিয়ে যেতে পারিনি নারী নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন সূচকে। পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা নারী। অথচ এই অর্ধেক জনসংখ্যার নিরাপত্তা নিয়ে যখন প্রশ্ন উঠে স্বাধীনতার অর্ধশত বছর পরেও তখন বলতেই হয়, এ লজ্জা কোথায় রাখি! ২০২২ সালের শেষপ্রান্তে দাঁড়িয়েও প্রশ্ন থেকে যায় নারীরা কোথায় নিরাপদ? ঘরে-বাইরে, পরিবারে, লোকালয়ে, সমাজে না-কি কর্মক্ষেত্র?

গবেষকরা বলছেন, ঘরেই নারীরা বেশি নির্যাতিত হচ্ছেন। আমাদের পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার কারণে নারীকে হেয় করে দেখার ইচ্ছে থেকেই নির্যাতনের সূত্রপাত হয়ে থাকে। ফলে পিছিয়ে পড়ছে দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী। বাংলাদেশে নারীরা ঠিক কতটুকু নিরাপদ এবং তাদের ক্ষমতায়ন ও নিরাপত্তায় আমাদের কী করণীয় এই বিষয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের মতামত তুলে ধরেছেন স্বদেশ প্রতিদিনের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি শাহীন আলম।

ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী জারিন তাসনিম মাওয়া বলেন-


নারী সহিংসতা মারণব্যাধি ক্যান্সারে রূপ নিয়েছে: নারীরা প্রতিনিয়ত নানান ক্ষেত্রে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এর ফলে অনেক নারী আত্মহত্যা পর্যন্ত করছেন৷ নারীর প্রতি এমন সহিংসতা বাড়ার কারণ হলো নারীদের প্রতি পুরুষের সম্মানের অভাব৷ কেননা তারা সমাজে নারীদের সমানাধিকার দিতে প্রস্তুত নয় এবং নারীর প্রাপ্য সম্মানটুকু তারা দেয় না৷ নারী সহিংসতা আজ মরণব্যাধি ক্যান্সারে রূপ নিয়েছে। নারী নিরাপত্তায় নারীদেরকেই প্রথম বলিষ্ঠ কন্ঠে আওয়াজ তুলতে হবে। এখন বিশ্বনেতৃত্বে পর্যন্ত নারীরা এগিয়ে গিয়েছে। তাই আমাদের আর পিছিয়ে থাকার কোন সুযোগ নেই। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের নিগৃহীত হওয়া থেকে বেরিয়ে আসতে হবে আমাদের। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় সাহায্য অনেকাংশে প্রয়োজন। নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে ক্ষমতায়নেও তারা এগিয়ে যাবে।

 
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মাথিয়া ঐশী বলেন-

নিজেকে একজন মানুষ হিসেবে দেখতে চাই: নারীরাও যে পারে এ বিষয়টি আমাদের সবাইকে মানতে হবে। নারী বলে যদি পিছিয়ে যাই তাহলে আর কখনোই এগিয়ে যাওয়া হবে না। আমৃত্যু নির্যাতিত হতে হবে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের অনৈতিক নিয়মের বেড়াজালে। নারীদের এগিয়ে যেতে হবে নিজস্ব যোগ্যতা এবং আত্মবিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে। তাই আমাদের প্রথম পরিচয় হলো আমি মানুষ তারপর একজন নারী। আমি নিজেকে একজন মানুষ হিসেবে দেখতে চাই। কারণ, একবিংশ শতাব্দীতে এসেও আমাদের সমাজে এখনো নারীকে অবলা হিসেবেই দেখা হয়, মানুষ হিসেবে নয়। নারীর ক্ষমতায়নকে সমাজিক ও পারিবারিকভাবে এখনো সে ভাবে সমর্থন করা হয় না। এখনো নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে নারীদেরকে অনেক প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এমনকি কর্মক্ষেত্রে তাদেরকে বিভিন্নভাবে লিঙ্গ বৈষম্যের শিকার হতে হয়।

ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থী নূর জাহান আক্তার লিপি বলেন-

নারীদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দরকার: সমাজে নারীরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে বঞ্চিত। ২০২২ সাল শেষ হতে চলছে কিন্তু এখনো নারীর নিরাপত্তা, ক্ষমতায়ন ও সমতা নিশ্চিত হয়নি। সংবাদপত্রের পাতা খুললেই আমরা দেখতে পাই ধর্ষণ, নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতনের মতো ঘটনা। বৈষম্য ছিল, এখনো আছে। নয়তো কেন এমন ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। কর্মক্ষেত্রে নারীরা এখনো নিপীড়িত হয়। রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় কাঠামো সবখানেই নারীরা তাদের অধিকার ও স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত। একটা মেয়ের অধিকার আদায় করতে এতো প্রতিবন্ধকতা কেন থাকবে? নারীদের অধিকার নিয়ে কথা বলা দরকার। একজন নারীর নিরাপত্তা ও ক্ষতায়নের জন্য অবশ্যই তার অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দরকার। তবে হয়তো একদিন নারী পুরুষের সমতা আসবে। পুরুষদের সহযোগিতাও এক্ষেত্রে প্রয়োজন।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সুমাইয়া বিনতে ইসলাম বলেন-

অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে পেছনে ফেলে উন্নয়ন সম্ভব নয়: গত কয়েক দশক ধরে আমাদের রাষ্ট্রের শীর্ষ পদগুলো নারীর দখলে। যে দেশের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেত্রী এবং জাতীয় সংসদের স্পিকার নারী সেই দেশে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিয়ে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই৷ এমন কথা শুনতে হয়তো ভালোই লাগে৷ কিন্তু এই সত্যের অপর পিঠেও কিছু অপ্রিয় সত্য রয়ে গেছে৷ বাস্তবতা হচ্ছে বাংলাদেশে নারীর জীবন নিয়ে নিজের সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা এখনো অত্যন্ত সীমিত৷ অনেকে যোগ্যতা সম্পন্ন হয়েও নিজের মতামত প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ পায় না। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে বাধার সম্মুখীন হয়ে থাকেন। নারীর ক্ষমতায়ন শুধু নারীর জন্য দরকার নয়, একটি সমৃদ্ধ সুখী সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এটা দরকার৷ দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে পেছনে ফেলে কখনোই সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়৷ তাই নারীর নিরাপত্তা ও ক্ষ্মতায়নের প্রথম সূচনা পরিবার থেকেই করতে হবে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শারমীন সাথী বলেন-

নিম্ন পর্যায়ে মেয়েরা এখনো অনেক দিক থেকে পিছিয়ে: বর্তমানে নারীরা মানসিক দিক দিয়ে অনেকটা এগিয়ে আছে কিন্তু বাধা হচ্ছে পুরুষতান্ত্রিক প্রগাঢ়তা। নারী নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে আমি বেশ সংকিত। সরকারের উচিত নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে আরও বেশি কঠোর হওয়া এবং সঠিক ভাবে আইনগুলো প্রয়োগ করা। নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেক সুদূর প্রসারী ভুমিকা পালন করছেন। এছাড়াও বর্তমানে আমাদের দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের পাশাপাশি অনেক বড় বড় পদে নারীরা রয়েছে। তবে আমরা যদি একটু নিম্ন পর্যায়ের দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাই মেয়েরা অনেক দিক থেকে পিছিয়ে আছে। সঠিক দিক নির্দেশনা, শিক্ষা ও সুবিধার অভাবে তারা এগিয়ে যেতে পারছে না। অনেক দিক থেকে তারা অবহেলিত এবং ক্ষেত্র বিশেষে তারা নির্যাতিত হয়ে আসছে। এমনকি তারা প্রতিবাদ পর্যন্ত করতে পারছে না কেবল তাদের পায়ের তলায় শক্ত মাটির অভাবে। এসব দিকে আমাদের সরকারের আরও বেশি নজর দেওয়া উচিত বলে আমার মনে হয়।

স্বদেশপ্রতিদিন/ইমরান

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: +৮৮০২-৮৮৩২৬৮৪-৬, মোবাইল: ০১৪০৪-৪৯৯৭৭২। ই-মেইল : e-mail: swadeshnewsbd24@gmail.com, info@swadeshpratidin.com
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।