রোববার ২৭ নভেম্বর ২০২২ ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

মুসলিমদের কেন রাজনীতি করা উচিত?
মোঃ আমিনুর রহমান
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর, ২০২২, ৭:৩৭ পিএম আপডেট: ০৬.১০.২০২২ ৭:৪১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

লেখক: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

লেখক: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

ইসলাম সামগ্রিক। বিশ্ব মানবতার জন্য একমাত্র গ্রহণযোগ্য জীবনবিধান। ষোড়শ শতাব্দীর পর থেকে জ্ঞান-বিজ্ঞানসহ সকল ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ার কারণে মুসলিমদের মধ্যে একপ্রকার স্থবিরতা কাজ করছিল। মোগল সাম্রাজ্যের পতনের পর একটি মাত্র মুসলিম রাষ্ট্র (উসমানী) মাথা উচু করে দাঁড়িয়েছিল। সেই উসমানী খিলাফাতের পতনের পর মুসলিমদের মধ্যে হতাশা চরম আকার ধারণ করেছিল।

জাতিরাষ্ট্রের উদ্ভব, দেশে দেশে কট্টর জাতীয়তাবাদের উত্থান এবং এমন লোকেরা ক্ষমতায় আসছিল যারা সমাজ ও রাষ্ট্র উত্তরণের বদলে পাশ্চাত্যের গোলামীতে মন দিয়েছিল। জ্ঞান-বিজ্ঞানের পাশাপাশি মুসলিমরা রাজনীতি থেকে নিজেদের যতই গুটিয়ে নিচ্ছিল, রাজনীতির কর্তৃত্ব ততই পাশ্চাত্য ঘরণার লোকদের হাতে চলে যাচ্ছিল।

এই দুরবস্থা অবলোকন করে আল্লামা ইকবাল বলেছিলেন-Political activity is the expression of islam's spirituality.
তার এই একটি কথা পুরো মুসলিম বিশ্বকে নাড়িয়ে দেয়। দেশে দেশে এক জাগরণ তৈরী হয়। যার পরিক্রমায় বিশ্বে মুসলিমরা রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ শুরু করে। কিন্তু অধিকাংশ মুসলিম আলেমরা ছিলেন রাজনীতি বিমুখ।

তুরস্কও এর ব্যাতিক্রম ছিল না। রাজনীতি বিমুখতার ফলাফল ছিল মুসলিমদের উপর সেক্যুলার আদর্শ চাপিয়ে দেয়া। তার্কির সুলেমানী, নুরজু এবং নকশাবন্দীদের বিশাল এবং ব্যাপক অনুসারী থাকা পরও তাদের রাজনীতির প্রতি অনাগ্রহ থাকার দরুণ গুটিকয়েক সেক্যুলাররা ভালোভাবেই ক্ষমতা কুক্ষীগত করেছিল। ১৯৬৯ সালে মিল্লি গুরুশ আন্দোলনের মাধ্যমে শুধু তুরস্কে নয়, পুরো দুনিয়ায় এক আলোড়ন সৃষ্টি করেন প্রফেসর নাজিমুদ্দীন এরবাকান।

এরপরের ইতিহাস অনেক বড়। অনেক ঘাত-প্রতিঘাত ও ঝড় উপেক্ষা করে কঠিন এক পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। রাজনীতিতে প্রবেশ সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল- "আপনি তুরস্কের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গণিতবিদ, শ্রেষ্ঠ প্রকৌশলী এবং বিজ্ঞানী। আপনি ইস্তানবুল টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সেরা শিক্ষক ছিলেন। লিওপারড ট্যাঙ্ক সহ অন্যান্য যুদ্ধাস্ত্র এবং ইঞ্জিনবিদ্যায় আপনার যে জ্ঞান, তা তুরস্ক সহ সমগ্র বিশ্বের জন্য অনেক বড় একটি নিয়ামত।  আপনি কেন এসব ছেড়ে রাজনীতিতে আসলেন?

অনেকে আবার বলেছিল- "আপনি The Union of Chambers and Commodity Exchanges of Turkey (TOBB) এর সভাপতি থাকা অবস্থায় তুর্কির ব্যবসায়ী উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছে। আপনার হাত ধরেই তুরস্ক শিল্পায়নের দিকে অগ্রসর হয়েছে। আপনি কেন এসব ছেড়ে রাজনীতিতে আসলেন?

অপরদিকে সকল "আলেম-উলামারা" বলেছিলেন- "তুরস্কের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাও যে নামাজ পড়তে পারে, ইসলামপন্থী হতে পারে এটা আপনি শিখিয়েছেন। ১৯৪৪ সালে, সেক্যুলারদের স্বর্ণযুগে তাদেরই প্রাণকেন্দ্র ইস্তাম্বুল ট্যাকনিকাল বিশ্ববিদ্যালয়ে "মসজিদ প্রতিষ্ঠা" করে পুরো তার্কির মুসলিমদের ভেতরে সাহসের সঞ্চার করেছিলেন। কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েও আল্লাহর খাটি বান্দা হওয়া যায় এই দীক্ষা আপনি তুরস্ককে শিখিয়েছেন। জাতির যুব সমজের মধ্যে ইসলামের বীজ বপন করে যুব সমাজকে ইসলামের সমুহান আদর্শ তুলে ধরেছেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট তুরগুত অজাল বলেছিলেন যে- "আমি ইসলাম এবং নামায কালাম শিখেছি আমার উস্তাজ এরবাকনের কাছ থেকে।" আপনাকে নিয়ে এত স্বীকৃতি, এত বড় খেদমত আপনি ইসলামের জন্য করেছেন আর আপনি এই দাওয়াত ছেড়ে কেন রাজনীতিতে আসলেন? অথচ এখানে আপনাকে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

প্রফেসর এরবাকান বলেছিলেন- "যত দিন পর্যন্ত রাষ্ট্রের পরিচালকরা ভাল মুসলমান না হবে এবং ইসলামের আলোকে রাষ্ট্র যতদিন না পরিচালিত হবে, ততদিন পর্যন্ত আপনাদের বলা এই সকল কাজ কোনদিনও পূর্ণতা লাভ করবে না। আমরা-আপনারা হয়ত নল দিয়ে ইসলামের আলো ছড়াচ্ছি আর তারা বড় পাইপ দিয়ে জাহেলিয়াত ছড়াচ্ছে। এই বড় পাইপকে ইসলামের সমুহান আদর্শ প্রচার করার জন্য কাজে লাগাতে হবে। তাই এ বড় পাইপের নিয়ন্ত্রণ শক্তিকে দখল করতে হবে। তা না হলে কুচক্রি শাসকবর্গ পাশ্চাত্যের সাথে মিলে মিশে কাজ করে আমার দেশের অস্তিত্বই বিলিন করে দিবে। তখন না থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়, না থাকবে যুব সমাজ আর না থাকবে এই দেশ ।আপনারা যে সকল কাজের কথা বলছেন এগুলাকে আরও বেশি করে করার জন্যই এই রাজনীতিতে আমি। আর আমি এমন রাজনীতি করি যে রাজনীতি মুসলমানদেরকে তার স্বর্ণালী অতীত ফিরিয়ে দিবে।"

রাজনীতি কেন করবে সে লক্ষ্যে যুবসমাজকে উদ্দেশ্য করে প্রফে. ড. নাজমুদ্দিন এরবাকান বলেছিলেন- "Muslims who don't care about politics, get ruled by 'Politicians' who don't care about Islam".

লেখক: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

স্বদেশপ্রতিদিন/ইমরান

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: +৮৮০২-৮৮৩২৬৮৪-৬, মোবাইল: ০১৪০৪-৪৯৯৭৭২। ই-মেইল : e-mail: swadeshnewsbd24@gmail.com, info@swadeshpratidin.com
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।