মঙ্গলবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২ আশ্বিন ১৪২৯

একসময়ের ছাত্রলীগের ক্যাডার এখন কেন্দ্রীয় যুবদলের পদপ্রত্যাশী
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৩:১০ পিএম আপডেট: ২১.০৯.২০২২ ৪:৩৬ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

একসময়ের ছাত্রলীগের ক্যাডার এখন কেন্দ্রীয় যুবদলের পদপ্রত্যাশী

একসময়ের ছাত্রলীগের ক্যাডার এখন কেন্দ্রীয় যুবদলের পদপ্রত্যাশী

সাঘাটা ফুলছড়ির সাবেক এমপি ও ডেপুটি স্পীকার এ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়ার অত্যান্ত স্নেহভাজন ছিলেন সাঘাটার পদুমশহর গ্রামের ঘোর আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান এবিএম সাইদুর রহমান রয়েল। ঢাকার জগন্নাথ কলেজে পড়ার সময় আওয়ামী লীগের ১৯৯৬-২০০১ সময়ে জডিয়ে পড়েন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে। তৎকালীন জগন্নাথ কলেজের রিপনের গ্রুপ করতেন তিনি। পরবর্তী ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতা আসলে তিনি ভোল পাল্টে হয়ে যান ছাত্রদল। গ্রুপিং শুরু করেন পুরান ঢাকার পারভেজ রেজা গ্রুপ, তারপর গ্রুপিং রাজনীতিতে পারভেজ রেজা পিছিয়ে পড়লে সুযোগ সন্ধানী রয়েল গ্রুপিং শুরু করেন আনিসুর রহমান তালুদার খোকনের সাথে।

২০০৯ সালে খোকন তালুকদার ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাংগাঠনিক সম্পাদক হলে, রয়েল সেই কমিটিতে খোকন তালুকদারকে ৫ লক্ষ টাকা দিয়ে সদস্যপদ বাগিয়ে নেন। কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা হওয়ার পর থেকেই রয়েল যে টাকা খরচ করেছেন তা ওঠানোর জন্য পাগল হয়ে যান। জেলা ছাত্রদলের কমিটি করে গাইবান্ধার তিমুর কাছ থেকে নেন ৩ লক্ষ টাকা। এছাড়া সাঘাটা উপজেলা ছাত্রদল নেতা জাহাঙ্গীর কবির জুয়েলের কাছ থেকে নেন ৫০ হাজার টাকা এবং তৎকালীন সাঘাটা উপজেলা ছাত্রদলের দায়িত্বপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রনির কাছ থেকে নেন ২ লক্ষ টাকা।

পাশাপাশি রয়েলকে যারা টাকা দিতে পারেনি, তারা আজ নেতাও হতে পারেনি। সেই রয়েল যুবদল কেন্দ্রীয় নেতা হওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে রয়েছে। রয়েল যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা হলে পুরো গাইবান্ধা জেলা যুবদলের রাজনীতি ধংব্বস হবে মনে করছেন বর্তমান সভাপতি-সম্পাদক রাগীব হাসান ও আব্দুর রাজ্জাক ভুট্টো।

জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্ববায়ক আতিক হাসান রনি বলেন, রয়েল যদি যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা হয় তবে পুরো গাইবান্ধা জেলায় কেউ টাকা ছাড়া যুবদল করতে পারবে না। কারণ এই জেলার সন্তান হিসেবে তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে যে পরিমাণ ডিস্টার্ব করেছে, যুবদল কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে তারচেয়ে চারগুণ বেশি ডিস্টার্ব করবে বলে মনে করি।

সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলা বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী মাঝে এখন গুন্জন একটাই আওয়ামী পরিবারের সন্তান রয়েল যদি ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে যুবদলের কেন্দ্রীয় পদ নিয়ে আসে তবে দুই উপজেলা কমিটি বিক্রি করবে কত দিয়ে? এই বিরোধী দলের আমলে সম্ভাব্য নেতারা আসলেই পদ পাবে না কি অযোগ্যরা টাকা দিয়ে আবার নেতৃত্বে আসবে?

এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রদলের সাবেক নেতা সাইদুর রহমানের ফোনে বারবার কল দেওয়া হলেও তিনি এসব বিষয়ে কোন উত্তর দিতে পারেননি।

সাঘাটা-ফুলছড়ি উপজেলা বিএনপির নমিনী (অভিভাবক) ফারুক আলম সরকারকে ফোন দেওয়া হলে তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি  রয়েলের মত অযোগ্য একজন ছেলেকে যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটিতে কোনক্রমেই স্থান দেওয়া হবে না। সে যদি কোন ক্রমে স্থান পায় তবে দুই উপজেলার রাজনীতি ধংব্বস হয়ে যাবে। কারণ তার অন্য কোন পেশা নেই, তার পেশা হচ্ছে রাজনীতি, তাই আমার এলাকার নেতাকর্মীদের পকেট কাটা শুরু করবে সে। তাই যুবদল কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে অনুরোধ করবো যেন কোন ক্রমেই এই চিটার ছেলেকে পোস্ট না দেয়।

স্বদেশপ্রতিদিন/ইমরান

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: +৮৮০২-৮৮৩২৬৮৪-৬, মোবাইল: ০১৪০৪-৪৯৯৭৭২। ই-মেইল : e-mail: swadeshnewsbd24@gmail.com, info@swadeshpratidin.com
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।