বৃহস্পতিবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৪ আশ্বিন ১৪২৯

প্রেম-বিচ্ছেদের নিরব নাট্যকার ইবির পশ্চিম পাড়া রোড
শাহীন আলম
প্রকাশ: শুক্রবার, ১ জুলাই, ২০২২, ৩:৫৬ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

প্রেম-বিচ্ছেদের নিরব নাট্যকার ইবির পশ্চিম পাড়া রোড

প্রেম-বিচ্ছেদের নিরব নাট্যকার ইবির পশ্চিম পাড়া রোড

‘একটি চিঠি আর দেয়া হয়নি; আমার চাকরির চিঠি। তোমার প্রিয় বেলীফুল দিয়ে মুড়িয়ে ছিলাম। তুমি ক্যান্সারের সাথে লড়ছিলে। আর ২০ মিনিট লড়তে পারোনি? সেদিন আমি হাসপাতালে গিয়েছিলাম কিন্তু, আড়াল থেকেই তোমার মা-বাবার কান্না দেখে চলে এসেছি। আমি আজও বেঁচে আছি; একাকিত্বে।’ এমন সহস্র গল্পের সাক্ষী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পশ্চিম পাড়া রোড।

তবে শুধু বিচ্ছেদ নয়, হাজারো প্রণয় গল্পের সাক্ষী এই রোড। অসংখ্য নব্য প্রেমের সূচনা যেমন হয়েছে এখ‍ানে, তেমনই নব্বই হতে একবিংশের বিচ্ছেদ গল্পের নিরব নাট্যকারও সে। একই দৃশ্যপটে কেবল পরিবর্তন এসেছে মঞ্চায়িত জীবন নাট্যের প্রধান চরিত্রে। গ্রীষ্ম, বর্ষা কিংবা বসন্তের মায়াবী বিকেলের কন্যা সুন্দর লগ্নে প্রেয়সীর হাসি, কান্না, বিষন্নতার জীবন্ত স্বাক্ষী সে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সরব রাস্তাগুলোর মধ্যে অন্যতম পশ্চিম পাড়া রোড। যা সকাল-সন্ধ্যা মুখরিত থাকে শিক্ষার্থীদের পদচারণায়। রাস্তার দুই পাশে থাকা সুবিশাল গাছগুলোর পাতার ফাঁক দিয়ে যখন প্রভাতের প্রথম আলো এসে পড়ে তখন মনে হয় এ যেন কোন এক মায়াবী সরণী। যেখায় সহস্র প্রজাপতি তার পাখা নেড়ে অভিবাদন জানাচ্ছে। এই রাস্তার প্রকৃত সৌন্দর্য প্রকাশ পায় বসন্তের আগমনের সাথে। বাহারী সব ফুল আর পাতা বাহরে অনিন্দ্য মিশলে রূপ নেয় নন্দ কাননে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাড়াও বাহির থেকে মানুষ এসে ভিড় জমায় এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে। কেউ কেউ প্রিয় মানুষটির সাথে নিজেকে বন্দী করেন একই ফ্রেমে। কেউ বা পাশাপাশি হেঁটে চলেন উদ্দেশ্যহীন। রাস্তার পাশের কংক্রিটের বেঞ্চগুলোতে জমে উঠে সুখ-দুঃখ, পাওয়া না পাওয়ার গল্পগুলো।

রোডের সর্ব দক্ষিণ প্রান্তের পশ্চিম পাশে রয়েছে ইবি ছাত্রীদের তিনটি আবাসিক হল- দেশরত্ন শেখ হাসিনা হল, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা হল, বেগম খালেদা জিয়া হল এবং আরও দুইটি ছাত্রী হল নির্মাণাধীন। তার ঠিক বিপরীতেই রয়েছে ইবির প্রেম উদ্যান হিসেবে পরিচিত পেয়ারা তলা। যেখানে পড়ন্ত বিকেলে সময়ের সাথে সমানুপাতিক হারে বাড়ে প্রেমিক যুগলের সংখ্যা।

 বর্ষায় পশ্চিম পাড়া রোড সাজে এক নবরূপে। তার সেই সৌন্দর্যের বর্ণনা দিতে গেলে কবি মহাদেব সাহার ভাষায় বলতে হয়- “কাগজ আবিষ্কারের পূর্বে মানুষ প্রেমের কবিতা লিখে রেখেছে আকাশে। সেই ভালোবাসার কবিতা এই বৃষ্টি, এই ভরা বর্ষা।”

সময়ের আবর্তনে পরিবর্তন আসবে লাভ রোড তথা পশ্চিম পাড়া রোডে রচিত গল্পগুলোর চরিত্রে। আসন্ন বর্ষায় আসবে আরও কিছু নতুন মুখ। বেড়ে যাবে আরও কিছু প্রেম-বিচ্ছেদের গল্প। পরিচিত রাস্তায় শূন্য পকেটে হাঁটবে না আজকের এই মধ্যবিত্ত ব্যাচেলর। রুক্ষ দুপুরের অবসন্ন ক্লান্তিতে ক্যাম্পাস বাসের গিঞ্জি ভীড়ে চেপে টিউশনিতে ছুটবে না স্বপ্নবাজ এই তরুণ। মায়াবী বিকেলে দু'পয়সার একটি গোলাপ আর প্রিয় বেলী ফুলের মালা হাতে দাঁড়িয়ে থাকবে না আবেগ প্রবণ প্রেমিক হয়ে। ব্যস্ত ভালোবাসা সরণীর (পশ্চিম পাড়া রোড) চায়ের কাপের অলস আড্ডায় ঘোরলাগা বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যে উপভোগ করবে না আজকের এই বেকার যুবক। সেই রুক্ষ দুপুর, মায়বী বিকেল, বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যের গল্প মঞ্চায়নে আসবে নতুন আরেকটি শিল্পীর দল। অতঃপর দু'পয়সায় আরও একটি গোলাপ কেনা হবে। প্রিয়তমার জন্য গাঁথা হবে সদ্য ফুটন্ত বেলীর নতুন আরেকটি মালা। আর এভাবেই ধারাবাহিক চক্রে ভালোবাসার গল্পগুলো বেঁচে থাকবে শতাব্দীর পর শতাব্দী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, তাকে প্রথম দেখেছিলাম কোন এক বিকেলে এই রোডে। আর সেই দেখাতেই ভালোলাগা এবং ভালোবাসার শুরু। তারপর কেটে গিয়েছে ক্যাম্পাস জীবনের সবটা সময়। অসংখ্য স্মৃতি এই রাস্তাকে কেন্দ্র করে। পৌষের সকালে খালি পায়ে দু’জনে এক সাথে হাঁটা, প্রিয় মানুষটার জন্য বকুল ফুল কুড়ানো এমন ছোট ছোট কাজ গুলোই ছিলো ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। ৬ বছরের সমপর্ক আমাদের আর বিয়ের বয়স ৩ বছর। বাড়ি থেকে এখনও মেনে নেয়নি। তারপরেও দু’জন একসাথে আছি; আলহামদুলিল্লাহ। সারা জীবন এভাবেই যেন থাকি।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, বিচ্ছেদের দুই দিন আগেও হাতে তিনটা গোলাপ নিয়ে দু’জন বিকেল বেলা এলোমেলো ঘুরছিলাম এই রাস্তায়। হঠাৎ কি একটা ঝড়ে সব এলোমেলো হয়ে গেলো। কেমন শান্ত স্বরে বলে ফেললো- এখন আর তোমায় আমি ভালোবাসি না, তুমি তোমার মতো করে বাঁচো। অথচ এই চোখের দিকে চেয়েই কতো বার মনে মনে প্রার্থনা করেছি বেঁচে থাকার। সবশেষে একটা কথায় তাকে বলেছিলাম তোমার হাসিই আমার খুশি।

স্বদেশপ্রতিদিন/ইমরান

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: +৮৮০২-৮৮৩২৬৮৪-৬, মোবাইল: ০১৪০৪-৪৯৯৭৭২। ই-মেইল : e-mail: swadeshnewsbd24@gmail.com, info@swadeshpratidin.com
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।