শনিবার ২ মার্চ ২০২৪
৩ বছরেও মেরুদণ্ড সোজা করতে পারেনি ইবির বোটানিক্যাল গার্ডেন
ইবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: রবিবার, ২৯ মে, ২০২২, ৮:৫৩ পিএম
৩ বছরেও মেরুদণ্ড সোজা করতে পারেনি ইবির বোটানিক্যাল গার্ডেন

৩ বছরেও মেরুদণ্ড সোজা করতে পারেনি ইবির বোটানিক্যাল গার্ডেন

শিক্ষার্থীদের গবেষণা এবং ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বর্ধনের লক্ষ্যে ২০১৯ সালে ৬ বিঘা জমির উপর প্রায় শতাধিক প্রজাতির গাছ নিয়ে যাত্রা শুরু হয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) বোটানিক্যাল গার্ডেনের। তৎকালীন উপাচার্য এর উদ্বোধন করেন। তবে অবহেলা, অযত্ন ও যথাযথ পরিচর্যার অভাবে প্রতিষ্ঠার ২ বছর ৯ মাসে পরেও মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারেনি গার্ডেনটি। যথাযথ পরিচর্যার আর রক্ষণাবেক্ষনের অভাবে গার্ডেনটির প্রাণ সংকটাপন্ন বলেও অভিযোগ এখানকার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের লেক সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত বোটানিক্যাল গার্ডেনে বিভিন্ন জাতের ফলজ, বনজ, ঔষধি গাছের বদলে জায়গা করে নিচ্ছে জঙ্গল। অবশিষ্ট বেঁচে থাকা গাছগুলোও আগাছার জন্য বেড়ে উঠতে পারছেনা। কেবল অবহেলা আর অযত্নের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে পরিচর্যাহীন মৃতপ্রায় গাছগুলো। গার্ডেনের ভেতরই স্তূপ করে রাখা হয়েছে লেক সংস্কারের কচুরিপানা। এছাড়াও পার্শবর্তী আবাসিক এলাকা থেকে ময়লা আবর্জনা ফেলায় এটি ময়লার ভাগাড়ে রূপ নিয়েছে।

এর পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থাও বেশ অপরিকল্পিত। জায়গাটি নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টি হলেই গার্ডেনের ভেতরে পানি জমে থাকে। কোন বেষ্টনি না থাকায় অরক্ষিত গার্ডেনে প্রায়শই পার্শ্ববর্তী এলাকার শিশুদের খেলাধুলা করতে দেখা যায়। এতে গাছের চারাগুলো তারা অনেক সময়ই ভেঙে ফেলে। তবুও যেন ভ্রূক্ষেপ নেই প্রশাসনের। এছাড়াও পার্শবর্তী আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের গার্ডেনের গাছপালা পুড়িয়ে সবজি চাষ করার অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিষ্ঠাকালীন গার্ডেনটির দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ড. মো: জাকারিয়া রহমান বলেন, বর্তমান ভিসি আসার পর তাকে আমি সব ব্রিফ করেছিলাম। তারপর তো উনি অনেক দিন কোন উদ্যোগ নেননি। পরে এখন কী করেছেন তা জানি না, নতুন কোন কমিটি হয়েছে কি-না তাও জানি না। লেকের পশ্চিম পাশেও অনেকগুলো গাছ লাগিয়ে ছিলাম সেগুলোও দেখি এখন নেই।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের প্রধান উপ-রেজিস্ট্রার মো: টিপু সুলতান জানান, বোটানিক্যাল গার্ডেনের এতো ইতিহাস আছে যে ওখানে আমার হাত দিতেও ভয় লাগে। এরিয়া ঠিক আছে তবে মাঝখান দিয়ে রাস্তা হবে, রাস্তার দুই পাশে গাছ থাকবে কিন্তু ধুলোবালি, একটা লেক হয়েছে লেকেরও কোন আগা নেই। এগুলোতে আমি হাত দিবো কিভাবে। হাত দিতেও তো ভয় লাগছে। ওখানে কাজ করারই বা কী আছে। আট-দশটা গাছ আছে একদিন গিয়ে পরিষ্কার করলেই শেষ। আমাদের অর্থ এবং লোকবল সংকটের কারণে আমরা কোন কাজ করতে পারছি না।

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: মাহবুবুর রহমান বলেন, আমাদের মেঘা প্রকল্পের কাজ চলছে। এই কাজগুলো কমপ্লিট হলে তখন বোটানিক্যাল গার্ডেন, লেকের জন্য আমাদের একটা অন্য ধরণের মাস্টার প্লান রয়েছে। আমরা মেঘা প্রকল্পের কাজগুলোর জন্য অন্য কাজে এখন হাত দিতে পারছি না।

গার্ডনের সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটার জন্য আমাদের অফিস গুলোতে একটু যোগাযোগ করেন। আমি তো সিদ্ধান্ত দিবো তবে কাজের উদ্যোগটা তো ওদের কাছ থেকে আসতে হবে। আর ওখানে আমাদের প্রো-ভিসি, ট্রেজারার ও প্রক্টর আছেন। ওনারা এখন কোথায় কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সব তো আর আমি দেখতে পারবো না। যেই ডিপার্টমেন্ট এই কাজগুলো করে ওরা যদি একটা প্রস্তাব নিয়ে আসে, প্রস্তাব নিয়ে আসলে আমি পজেটিভ, আমি কখনো ওদের ডিস্কারেজ করবো না।

স্বদেশপ্রতিদিন/ইমরান

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






● সর্বশেষ সংবাদ  
● সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : লুৎফর রহমান হিমেল
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: +৮৮০২-৮৮৩২৬৮৪-৬, মোবাইল: ০১৪০৪-৪৯৯৭৭২। ই-মেইল : e-mail: swadeshnewsbd24@gmail.com, info@swadeshpratidin.com
● স্বদেশ প্রতিদিন   ● বিজ্ঞাপন   ● সার্কুলেশন   ● শর্তাবলি ও নীতিমালা   ● গোপনীয়তা নীতি   ● যোগাযোগ
🔝