সোমবার ২৭ জুন ২০২২ ১২ আষাঢ় ১৪২৯

বেগমগঞ্জে ছাত্রলীগের তিন কমিটি নিয়ে উপজেলা আ’লীগ নেতাদের অভিযোগ
নোয়াখালী
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ মে, ২০২২, ৬:১৮ পিএম আপডেট: ১৯.০৫.২০২২ ৭:১৮ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

সদ্য অনুমোদন পাওয়া বেগমগঞ্জ উপজেলা, চৌমুহনী পৌরসভা ও চৌমুহনী কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কমিটিতে স্থান পেয়েছেন ছাত্রশিবিরের কর্মী, বিবাহিত ও অছাত্ররা এমনটাই অভিযোগ করেছেন উপজেলা উপজেলা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

গত ১ মে এই বিতর্কিত কমিটি অনুমোদন দেয় নোয়াখালী জেলা ছাত্রলীগ।যদিও এই কমিটিগুলো ২০১৭ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি স্থগিত করে রেখেছিল। অনুমোদনের পর পরই দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। 

স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি যদি কোন জেলা উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত অথবা স্থগিত করে রাখে তাহলে তা আবার কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন বা নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সে অবস্থায় থাকে সাংগঠনিক নিয়মে।

এদিকে অনুমোদন পাওয়া বেগমগঞ্জ উপজেলা, চৌমুহনী পৌরসভা ও চৌমুহনী কলেজ শাখা ছাত্রলীগের এ কমিটি স্থগিত করা জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ বরাবর চিঠি পাঠিয়েছেন বেগমগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. এবিএম জাফর উল্ল্যাহ, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আকতার হোসেন ফয়সাল ও সাধারণ সম্পাদক আবু বাকর টিপু।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. এবিএম জাফর উল্ল্যাহর অভিযোগ পত্রের ভিত্তিতে জানা যায়, সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামোর বিরুদ্ধে যে কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে তার মধ্যে বেগমগঞ্জ উপজেলা শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি করা হয় বিবাহিত তৌহিদুল ইসলাম রাতুলকে। যিনি নোয়াখালী সদর উপজেলার নোয়াখালী পৌরসভার নাগরিক।

কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক করা হয় রাহাত চৌধুরীকে। যিনি গত ২০১৬ সাল পর্যন্ত ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিল এবং ২০২০ সালের চৌমুহনী পৌরসভার নির্বাচনে মোবাইল প্রতীকের প্রার্থী খালেক সাইফুল্লার ভোটের সরাসরি অংশগ্রহণ করে নৌকার বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নেন।

গত এক বছর আগে তাঁকে জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক করলে তৃণমূলে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এরপরে এক বছরের মাথায় এখন তাকে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক করেন যাতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি করেছে।

চৌমুহনী পৌর শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি করা হয় মাকসুদুর রহমানকে তার ছাত্রত্ব নেই। বিবাহিত একাধিক নারী কেলেঙ্কারি ও মাদক ব্যবসায় জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

সাধারণ সম্পাদক করা হয় সাইফুল ইসলামকে। তারও ছাত্রত্ব নেই এবং বিবাহিত একাধিকবার মাদক ও চাঁদাবাজির অভিযোগে অভিযুক্ত।

চৌমুহনী সরকারি এস এ কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি করা হয় আব্দুল্লাহ আল মামুন হুমায়ুন কে। সে কলেজের ছাত্র নয় বলে অভিযোগ উঠেছে। 

বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. এবিএম জাফর উল্ল্যাহ  মুঠোফোনে অভিযোগ করে বলেন, নতুন গঠিত এই কমিটি সর্ম্পকে আমরা অবগত নয়। আমাদের সাথে কোন আলাপ আলোচনা করা হয়নি। যাদের নামে কমিটি করা হয়েছে তারা অনেককেই ছাত্রলীগের রাজনীতিতে কখনো দেখিনি দলীয় সভা সমাবেশে তাদের অংশগ্রহণ দেখা যায়নি। আমরা বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটিকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।

এছাড়াও তিনি জানান, বেগমগঞ্জে অনেক দলীয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা রয়েছে যাদের রাজনীতিতে অনেক পরিশ্রম রয়েছে। এসব পরিশ্রমী ছেলেগুলোকে দিয়ে কমিটি করা উচিত। আমি আশা করি অবিবাহিত, মাদকমুক্ত এবং প্রকৃত ছাত্র যাদের পরিবারও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত তাদেরকে দিয়ে কমিটি করবে। 

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: +৮৮০২-৮৮৩২৬৮৪-৬, মোবাইল: ০১৪০৪-৪৯৯৭৭২। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।