মঙ্গলবার ১৬ আগস্ট ২০২২ ১ ভাদ্র ১৪২৯

পহেলা বৈশাখ : বাঙালির সর্বজনীন উৎসব
মোহাম্মদ ইলিয়াছ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২২, ১১:৪২ এএম আপডেট: ১৬.০৪.২০২২ ৮:৩৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

ছবি: স্বদেশ প্রতিদিন

ছবি: স্বদেশ প্রতিদিন

বিশ্বব্যাপী মানব সম্প্রদায় সর্বত্র আপন আপন অস্তিত্ব রক্ষায় জীবন সংগ্রামে অবতীর্ণ। আনন্দ-বেদনা, সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না এসবই মানুষকে সতত সইতে হয় এ জীবন সংগ্রামে। সকল বৈরী এবং প্রতিকূল প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকাও মানুষের জীবন অন্তর্গত স্বভাব। এইসব আশা-নৈরাশ্য, শুভ-অশুভ তথা সময়ের বিভ্রান্তিকর সকল পরিস্থিতি মোকাবেলা করে মানুষ চায় একটা শুভ দিনের সূচনা। সেটা এমন একটা দিন যেদিন থেকে অনন্তকালের কাছে সকল মানুষের একই প্রার্থনা হয়ে দাঁড়ায় যে, আগামী দিনগুলো যেন শুভ হয়ে সুন্দর হয়ে কেটে যায়। আর সেই একটি দিন হচ্ছে বছরের প্রথম দিন।

বাঙালি তার আপন দেশ বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এই শুভদিনটি পালন করে থাকে। কোনো কোনো সময় এ মাসটির প্রায় প্রথম থেকেই শুরু হয় কালবৈশাখীর ঝড় তথা প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড়ের অবলীলা। আর তা দেশের কোথাও কোথাও বয়ে আনে মহা দুর্যোগ। নৈসর্গিক ও দুর্যোগ-দুর্বিপাকে বছরে বছরে কত মানুষ যে হতাহত হয়, কত ঘরবাড়ি যে বিধ্বস্ত হয়, কত মানুষ যে সর্বস্বান্ত হয়ে যায় তার কে হিসাব রাখে জানি না, বাংলাদেশি জনগণ তবু যে দুর্জয় সংকল্পে এ সকল বৈরী প্রাকৃতিক প্রতীক‚লতার সঙ্গে লড়াই করে আপন অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখে চলেছে যুগ যুগ ধরে তা সত্যিই বড় বিস্ময়ের বিষয়।

শুভ নববর্ষ থেকে সকলেই কামনা করে আপন আপন ভাগ্যের পরিবর্তন। নতুন কর্ম, নতুন প্রত্যাশা আর নতুন উদ্দীপনায় নতুন জীবনের উৎকর্ষতা নিয়ে সহসা যেন বাঙালি-মানস উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠে এবং নববর্ষের সূচনায় জেগে ওঠে নতুন নতুন স্বপ্ন আর তা বাস্তবায়নের প্রদীপ্ত দীশায় হয়ে ওঠে সবাই উৎফুল্ল। তাই বাঙালির ঘরে ঘরে আসে ঐদিন উল্লসিত উৎসবমুখরতা। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হিসাব নিকাশ হালখাতা প্রণয়ন, দোকানে দোকানে ক্রেতাসাধারণের বকেয়া পরিশোধকল্পে ক্রেতা সাধারণের বাড়ি বাড়ি চৈত্র মাসের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে সাদর সম্ভাষণ জানিয়ে নানা বাহারি রংয়ের কার্ড শৈল্পিক নৈপুণ্যে লেখা আমন্ত্রণপত্র দেয়া শুরু করেন ব্যবসায়ী মহাজনেরা। পহেলা বৈশাখের দিন হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে ক্রেতাদের মাঝে মিষ্টান্ন বিতরণ করে ব্যবসায়ী মহাজনগণ প্রকাশ করেন পরম সহৃদয়তাভরা প্রীতি ও শুভেচ্ছা। বাঙালিদের মতন ক্রেতাদের ধরে রাখার এমন হৃদ্যতাপূর্ণ মহাজনী কারবার পৃথিবীর আর কোথাও আছে বলে মনে হয় না। এটা আবহমানকালের বাঙালি ব্যবসায়ীদের খরিদ্দার আপ্যায়নের রুচিশীল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। সকল ধর্মীয় সম্প্রদায়কে এক মোহনায একত্রে আপ্যায়নের এ দৃষ্টান্তেই প্রমাণিত বাঙালি মানসের অসাম্প্রদায়িক চরিত্র তথা জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে সমন্বিত স্বার্থ পরম্পরায় এই উৎসবমুখর সামাজিকতা এবং নান্দনিক পরিবেশ বড়ই সুখকর ও মনোমুগ্ধকর। এমন সম্বুদ্ধি সঞ্জাত মানসিকতা যদি বাঙালিদের সকলের জীবনে প্রতিদিন প্রতিফলিত হতো তাহলে বাংলাদেশ হতো বিশ্বের এক অনন্য অনুকরণযোগ্য দেশ। সকল সম্প্রদায় সম্প্রীতির আর সহৃদয়তার এই সত্য সুন্দরের চিত্রটি কেবল পহেলা বৈশাখেই মেলে। এ অনুভূতি অনির্বচনীয়।

সমগ্র দিবসের উৎসবমুখরতা এখানেই সীমাবদ্ধ থাকে না বরং ভিন্ন ভিন্ন লোকাচার সম্পৃক্ত অনুষ্ঠানাদি এরই সঙ্গে থাকে সক্রিয়। সাংকৃতিক অনষ্ঠানাদির মধ্যে উল্লেখয়োগ্য হচ্ছে ঋতুভিত্তিক সংগীতানুষ্ঠান, লোকনৃত্য, লোকসঙ্গীত, বিভিন্ন রকমারি কুঠির শিল্প-মেলা, পুতুলনাচ, সার্কাস, কৃষিজাত পণ্যের প্রদর্শনী, কারুশিল্প, হস্তশিল্প, মৃতশিল্পের সমাহারে দর্শনীয় বিপণি সামগ্রীর বিকিকিনি, নববর্ষ সম্পৃক্ত সাহিত্য আলোচনা, কবি-সাহিত্যিক সমাবেশ, কবিতা আবৃত্তি, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, মসজিদে, মঠে, মন্দিরে, গির্জায় উপসনাকালে আগামী দিনগুলো যাতে শুভ হয়, শান্তিময় হয়, মানুষের জীবন যাতে সুখ-সমৃদ্ধি তথা বৈষয়িক প্রাচুর্যে উন্নততর হয় সেই লক্ষ্যে পরম করুণাময় সর্বসৃষ্টিকর্তার সদয় আনুক‚ল্য পাওয়ার জন্য আকুল প্রার্থনা জানানো।

লেখক: ৩১তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা)
সহকারী অধ্যাপক
বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর
বাংলাদেশ, ঢাকা

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: +৮৮০২-৮৮৩২৬৮৪-৬, মোবাইল: ০১৪০৪-৪৯৯৭৭২। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।