রোববার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ৪ আশ্বিন ১৪২৮

‘মুনিয়াকে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করে নুসরাত’
স্বদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ জুলাই, ২০২১, ৫:২৩ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

‘মুনিয়াকে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করে নুসরাত’

‘মুনিয়াকে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করে নুসরাত’

লোভী নুসরাত জাহান তানিয়া আপন বোন মোসারাত জাহান মুনিয়াকে টাকার বিনিময়ে পঞ্চাষোর্ধ্ব ব্যাক্তিসহ বিভিন্ন লোকের সাথে অনৈতিক শারারিক সম্পর্কে জড়াতে বাধ্য করেছিলেন। মা-বাবা হারা এতিম মুনিয়ার ইচ্ছার বিরুদ্ধে চলতো এ পতিতাবৃত্তি। নুসরাতের কথামত কাজ না করলে নেমে আসতো মুনিয়ার উপর অমানবিক শারারিক নির্যাতন। এভাবে সুন্দর জীবনের স্বপ্ন দেখা ফুটফুটে মুনিয়ার ভেতরে থাকা সুন্দর মনের মানুষকে বোন নুসরাত মেরে ফেলে গড়ে তুলেছেন অন্ধকার জগতের এক ভোগের বস্তু হিসাবে।

দেশজুড়ে আলোচিত মুনিয়ার মৃত্যু নিয়ে বড় বোন নুসরাত ও মুনিয়ার প্রতিবেশি, মুনিয়ার স্কুল ও প্রাইভেট শিক্ষক, কুমিল্লা শহরের সাধারণ মানুষ, মুনিয়ার স্কুলের বান্ধবী ও নুসরাত সব সময় নিত্য প্রযোজনীয় পণ্য ক্রয় করেন এমন অন্তত ১২ জনের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। সবাই একটা বিষয়ই মনে করেন, ফুটফুটে মুনিয়ার অকালে চলে যাওয়ার জন্য শুধুমাত্র তার বড় বোন নুসরাত দায়ী। তারা মুনিয়াকে জোর করে বিপথে ঠেলে দেওয়া ও আত্মহত্যা করতে বাধ্য করার অপরাধে নুসরাতকে জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনের আওতায় আনারও দাবি জানান।

মুনিয়ার কুমিল্লা মডার্ণ স্কুলের ঘনিষ্ট বান্ধবী সামিহা আক্তার এ প্রতিবেদককে বলেন, মুনিয়া আর আমি ক্লাস নাইনে এক সাথে পড়তাম। পুরো ক্লাসে সবার চাইতে আমাদের দুজনের মধ্যে খুব ভাল সম্পর্ক ছিল। পরিচয়ের শুরুর দিকে মুনিয়াকে দেখতাম অন্য সবার মত স্বাভাবিক। কয়েক মাস যাওয়ার পর মুনিয়াকে অচেনা মনে হতে লাগলো। সে আমাদের অন্য সহপাঠিদের থেকে দূরে দূরে থাকে। কারো সাথে কথা বলতে চাইতো না। খুবই চিন্তিত থাকতো সে।

তিনি বলেন, একদিন মুনিয়াকে একা ডেকে কোন সমস্যা হয়েছে কিনা জিজ্ঞাসা করতেই হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করে। আর বলে আমার কপাল খারাপ। অল্প বয়সে মা-বাবাকে হারিয়ে আমি বড় বিপদে পড়ে গেলাম। আমি কোথায় যাব, কই থাকবো? বোনের বাসায় থাকতে আমার ভাল লাগে না। বোনের আচার-আচরণ আমার ভাল লাগে না। বোন কোন কারণ ছাড়াই আমাকে শারারিক নির্যাতন করে। মুনিয়ার এই কথা গুলো স্বরণ করে বান্ধবী সামিহা বলেন, সেদিন বুঝতে পারিনি, মুনিয়া কেন এসব বলছে। তাই মুনিয়া না যেতে চাইলেও বুঝিয়ে অনেক দিন জোর করে স্কুল শেষে বোনের বাসায় দিয়ে আসছিলাম। এখন বুঝতে পারছি মুনিয়া কেন বোনের বাসায় যেতে চাইতেন না। কেন বলতেন বোনের আচার-আচরণ তার ভাল লাগে না। বোন হয়ে বোনের এতবড় ক্ষতি কিভাবে করলেন নুসরাত। এ জন্য নুসরাতকে আইনের আওতায় আনা উচিত।

মুনিয়ার শিক্ষক মনির হোসেন বলেন, মুনিয়া ছিল আমাদের স্কুলের একটি ফুটন্ত গোলাপ। মুনিয়াকে শুরু থেকে দেখে কখনো মনে হয়নি ও এমনটা হয়ে যাবে। খুবই শান্ত-শিষ্ট স্বভাবের ছিল মুনিয়া। কিন্তু এ অবস্থা বেশি দিন মুনিয়ার মধ্যে দেখা যায়নি। মুনিয়া যে সময়টা থেকে বোনের বাসায় থাকতে শুরু করেছিল তখন থেকেই পাল্টে যেতে শুরু করে। স্কুলে আসা অনিয়ম, মাঝে মধ্যে আসলে ও ক্লাসের পড়ায় শেষ করতে না পারাসহ তার পাল্টে যাওয়াটা আমাদের চোখে পড়ে। সুতরাং মুনিয়ার এ বিকৃত রুপ ধারণের কারিগর ছিল তার বড় বোন নুসরাত। নুসরাতই মুনিয়ার এ মৃত্যুর জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ি। কারণ মুনিয়ার মত্যুতো একদিনে হয়নি। তার ভেতরের ভাল মানুষটা অনেক আগেই মেরে ফেলেছিল নুসরাত।

মুনিয়ার মৃত্যু নিয়ে নুসরাতের প্রতিবেশি বেসরকারী একটি ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্টের ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়। কুমিল্লা বাগিচাগাঁওয়ের এ বাসিন্দা বিষয়টি নিয়ে কথা বলতেই বড় বোন নুসরাতের প্রতি বিষেধাগার প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মুনিয়া নবম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় বিবাহিত ছেলের সঙ্গে চলে যেতে বাধ্য করাসহ সকল ঘটনা প্রবাহের জন্য দায়ী শুধুমাত্র নুসরাত। নুসরাতকে জানোয়ার আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বোন হয়ে নিজের আপন বোনকে এভাবে অন্ধকার জগতে কি উদ্দশ্যে ঠেলে দিলেন তা তদন্ত করে দেখা দরকার। তাহলে নুসরাতের অনেক কুকীর্তি বেরিয়ে আসবে।

মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সদাই করেন কুমিল্লা নিউ মার্কেটের নিচে অবস্থিত একটি দোকন থেকে। সপ্তাহে তিন থেকে ৪ দিন ওই দোকানে যান নুসরাত। তিনি বলেন, ওনার খরচ দেখে এতদিন আমি ভেবেছিলাম উনি অনেক ভিত্তশালী। কিন্তু ওনার বোন মারা যাওয়ার পর যা জানতে পেরেছি তা আমার ধারনার সঙ্গে মিলছে না।

তিনি বলেন, এখন আমাদের কাছে পরিষ্কার ছোট বোন মুনিয়া ছিল তার টাকার ব্যাংক। মুনিয়াকে তিনি এ জন্যই ছোট বেলা থেকে খারাপ পথে ঠেঁলে দিয়ে নিজে বিলাসী জীবন-যাবন করেছেন।

এছাড়া কুমিল্লা টাউন হল মাঠ, রানীর বাজার, বাগিচাগাওয়ের অন্তত ১০ জনের সঙ্গে কথা বলে মুনিয়ার মৃত্যুর বিষয়ে মন্তব্য জানতে চায় এ প্রতিবেদক। সবাই বলেছেন, মুনিয়া কি কারণে আত্মহত্যা করছে সেটা জানতে নুসরাতকে আইনের আওতায় আনা উচিত।

প্রসঙ্গত ১৯ এপ্রিল গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে কুমিল্লার তরুণী মোসরাত জাহান মুনিয়ার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, নুসরাতের নানা চাপের কারণেই আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছিলেন মুনিয়া।


স্বদেশ প্রতিদিন/নিশাদ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন

প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: +৮৮০২-৮৮৩২৬৮৪-৬। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।