বুধবার ২৮ জুলাই ২০২১ ১৩ শ্রাবণ ১৪২৮

ব্যস্ততা নেই রংপুরের কামারপল্লীতে, কোরবানি দাতার সংখ্যাও কম
এস. এম জাকির হুসাইন, রংপুর :
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ জুলাই, ২০২১, ৬:১৪ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

ঈদের দিন আসার বাকি মাত্র একদিন। পশু কোরবানিতে ব্যবহার্য ছুরিসহ যাবতীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ, ধারালোকরণ করতে কামারপল্লীতে নেই ব্যস্ততা ও মসলার বাজারে নেই তেমন ভীড়। এ ছাড়া এবারের ঈদে কোরবানিদাতার সংখ্যাও অনেক কম। তবে গ্রামের তুলনায় শহরে কিছুটা বেশি।

করোনা যখন গোটা বিশ্ব প্রায় কুপোকাত। চলছে লকডাউন, কঠোর লকডাউন ও শিথীল। সেখানে আসন্ন মুসলিম বিশ্ব পরিবারে পবিত্র হজ্বব্রত, ঈদুল আযহার আনন্দ ঘরে ঘরে। তবে ২০২০ বর্ষের ঈদুল আযহার চেয়ে এ বছর ২০২১ এর  ঈদের আগে কামারপল্লী, পশুরহাট ও মসলার বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি সামান্যই।

রংপুর মহানগরীর বিভিন্ন পয়েন্টের কামারের দোকানগুলোতে লোকজনকে অলস বসে থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া মসলার দোকানগুলোতেও দেখা গেছে তেমন ভীড় নেই। মসলার দোকানদাররা বলছেন, গতবারের চেয়ে এবারে বাজারে মসলার দাম কমলেও ক্রেতারা আসছেন তুলনায় অনেক কম।

অন্যান্য সময় প্রতি কেজি কালো এলাচ ১২০০ টাকায় বিক্রি হলেও তা এখন অর্ধেক বা ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ২৫শ টাকা কেজির সাদা এলাচের দাম কমে ১৫শ টাকায়, ৩৫০ টাকার জিরা ২৬০ টাকায়, দাম কমেছে গোলমরিচেরও। ৭শ-৮শ টাকা কেজির গোল মরিচের দাম এখন ৫শ টাকায়।এছাড়া কমেছে রান্নার অন্যান্য মসলার দামও।

ঈদকে সামনে রেখে পুরোবছরের মসলা আমদানি করে ব্যবসায়ীরা। কিন্তু আশানুরূপ বেচাকেনা না হওয়ায় এবং ঈদের পর আবারও সরকারি নির্দেশনায় কঠোর লকডাউনের ঘোষনায় মসলা ব্যবসায় ব্যপক লোকসান হবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে ঈদের আগ থেকেই ইস্পাতের উপর টুংটাং শব্দে কান পাতা মুশকিল নগরীর কামারপল্লীতে। কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে নগরীর কামার পাড়ায় কামারপল্লীতে ব্যস্ত সময় পার করে কারিগররা। এই এলাকার ২০-২৫ জন কামার ও ২০টির মত খুচরা দোকানে দোকানিদের অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে। ঈদের মাত্র একদিন বাকি থাকলেও বেচাকেনা না থাকায় কামারপট্টির বাতাসে মিশেছে দীর্ঘশ্বাস কামারদের চোখেমুখে এখন হতাশার ছাপ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কামারদের তৈরি পণ্যের বাজারে ক্রেতার চেয়ে বিক্রেতাই এখন বেশি। দোকানগুলোতে ছোট-বড় ছুরি, চাপাতি, দা-বঁটির পসরা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। ক্রেতাদের উপস্থিতি তেমন উল্লেখযোগ্য না থাকায় দোকানিরা কেউ দাঁড়িয়ে,কেউবা টুলে বসে ঝিমাচ্ছে এমন দেখা গেছে।

বদরগঞ্জের বড়পাড়ার কামারপট্টির একজন কারিগর জানান, বেচাকেনা নাই। অনেকে রেডিমেড ছুরি-চাপাতি কিনছে। তবে কেউ কেউ পুরাতন ছুরি, চাপাতি, বটি শান দিতে নিয়ে আসছে। এভাবে চললে আমাদের এ ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, হয়তো এমনিভাবে চললে আমাদেরকে পেশা বদল করতে বাধ্য হতে হবে।

রংপুর মহানগরীর ও নগরতলীতে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, গত বছরের চেয়ে এ বছর কুরবানী দাতার সংখ্যা তুলমুলক কম। কারণ, করোনায় কাজ নেই। ব্যবসা নেই, নেই তেমস জৌলুস। শুধু হা হাকার পরিস্থিতি। আগের বছরগুলোতে একটি পাড়া মহল্লায় প্রায় বাড়িতে কুরবানীর গরু ছাগল কুরবানী হতো। এবারে একটি গ্রামে মাত্র ৪/৫টির বেশি নয়। আর রংপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গ্রামগুলোতে এবারের কুরবানীদাতার সংখ্যা অনেক কম হবে। তুলনামুলক শহরে কিছুটা বেশি। যদিও কুরবানীর পশু ও হাটগুলোতে ক্রেতার সংখ্যা উল্লেখ্যযোগ্য দেখা মিললেও বাস্তবে এবারের কুরবানীর সংখ্যা অনেক অনেক কম হওয়ার বিষয় অনেকটাই নিশ্চিত হওয়া গেছে।

স্বদেশ প্রতিদিন/এস

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন

প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।