বুধবার ২৮ জুলাই ২০২১ ১৩ শ্রাবণ ১৪২৮

সাসটেনেবল উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সঠিক জ্বালানি মিশ্রণ চূড়ান্ত করা বড় চ্যালেঞ্জ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ১২ জুন, ২০২১, ৭:৫৮ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

সাসটেনেবর উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য প্রাথমিক জ্বালানির নিরপাদ সরবরাহ, সঠিক জ্বালানি মিশ্রণ চূড়ান্তকরণসহ জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিযে পরিকল্পনা প্রনয়ন ও বাস্তবায়নের উপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করছেন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বড় ধরনের সাফল্য পাওয়া এখনই সম্ভব নয়। তবে আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে জল বিদ্যুৎ আমদানী বাড়ানো সম্ভব হলে তা নন ফসিল ফুয়েল বিদ্যুৎ মিশ্রণ বাড়াতে সহায়তা করবে। পরিবেশগত বৈশ্বিক পরিবেশগত বাধ্যবাধকতা থাকলেও বাংলাদেশের জন্য আরো ২০ বছর পর্যন্ত নিজস্ব বা আমদানী করা কয়লা ব্যবহারে বাধা নেই। তবে ট্রানিজিশনে জ্বালানি হিসাবে সবচেয়ে উপযুক্ত হচ্ছে প্রাকৃতিক গ্যাস। 

আজ শনিবার (১২ জুন) “সাইটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট অব এনার্জি-পাওয়ার সেক্টর এন্ড বাজেট ফর ২০২১-২২” শীর্ষক এমটুকে ইপি টকস’এ এমন মতামত উঠে আসে। ভার্চুয়াল এই আয়োজনের সঞ্চালনা করেন এনার্জি এন্ড পাওয়ার সম্পাদক মোল্লাহ আমজাদ হোসেন।

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করবে। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। শিল্পের প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর জন্য বিদ্যুৎ ও গ্যাসে ভর্তুকি অব্যাহত রাখা হয়েছে। এনার্জি এন্ড পাওয়ারের ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ঢাকা শহর এককভাবে ৪৬% বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। বিদ্যুৎ ব্যবহার সুষম করতে হলে দেশের অন্যান্য বড় শহরগুলোতে নির্দিষ্ট স্থানে দ্রুত শিল্পায়ন করা প্রয়োজন। নির্দিষ্ট স্থানে শিল্প-কারখানা স্থাপিত হলে সিস্টেমলস কমবে। উন্নত দেশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসছে। বাংলাদেশও জীবাশ্ম জ্বালানি ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে পর্যালোচনা করছে। আগামীতে গ্যাস বা বিদ্যুৎ আমদানিতে সাসটেনেবল বিকল্প খোজা হবে। তিনি আরো বলেন, মানব সম্পদ উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। কাজে পেশাদারিত্ব না থাকলে দ্রুত উন্নয়ন সম্ভব না।
 
কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা পূনমূল্যায়ন করার উদ্যোগ পরবর্তী মাস্টারপ্লানে ছূড়ান্ত করা হবে। দীঘীপাড়ার সমীক্ষায় বলা হয়েছে আন্ডার গ্রাউন্ড খনি করলে সেখান থেকে ১২ শতাংশের বেশি কয়লা উত্তোলন করা যাবেনা। যা লাভজনক হবেনা বিধায় খনির বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হচ্ছেনা। আবার কয়লা আমদানীর অবকাঠামোতে সংকট আছে। এলএনজি আমদানীর জন্য নতুন অবকাঠামোর বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে। আগামী পরিকল্পনা সবগুলো আনা হবে। 

নবরুল হামিদ বলেন, সাসটেনেবল উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য সঠিক জ্বালানি মিশ্রণ এবং জ্বালানি পরিকল্পনা কী হওয়া তা চূড়ান্ত করার জন্য সকল পর্যায়ের বিশেষজ্ঞদেও মতামত নেয়া হবে। এই ধরনের আয়োজন নতুন নতুন মতামত তুলে আনতে সহায়ক হবে। 

সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ খান বলেন, আমরা আজকে যেথানে আসতে সক্ষম হয়েছি, তার পেছনে বড় অবদান বিদ্যুৎ ও জ্বালানির। প্রতি বছর বাজেটের পর দেখি মন্ত্রণালয় যথাযথভাবে বাস্তবায়ণ করতে পারে না। কিন্তু বিদ্যুৎ জ্বালানি মন্ত্রণালয় ব্যতিক্রম। তারে প্রায় শতভাগ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হচ্ছে। আমরা নতুন চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছি, নেট জিরো। আমরাতো পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে কম কার্বন ইমিশন করি। সবচেয়ে বেশি করে ইউএসএ। ওরা ৫০০০ সিসি গাড়ি ব্যবহার করছে সেটি নিয়ে কথা বলে না।

প্রত্যেকটা ইনোভেশনের সঙ্গে অনেকে মুনাফা পেয়েছে। যেমন গাড়ি আবিস্কারের পর রাস্তা হয়েছে। এখন একজনেই মুনাফা লুটছে। অ্যাপল কিংবা অন্যরা। অসমতা এসে গেছে, এরমধ্যে আমরা কিভাবে মোকাবেলা করবো। আমাদের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নতুন জায়গায় এসেছি। ম্যাচের কাঠির চেয়ে গ্যাসের দাম কম ছিল। অনেকে বলছেন সোকলড অয়েল ভিত্তিক বিদ্যুৎ চলবে না। লংটার্মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থানে রয়েছেন বলে মনে করি। গত বছর যখন এলএনজির দাম বেড়ে গিয়েছিল তখন এইচএফও দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে।

সবাই চাই সোলার এবং উইন্ড। সোলার করবো, রেডিয়েশন ম্যাপ দেখেন। ইরেডিয়েশন নাই, জমি নাই, এখানে সোলার হবে না। অবসোরো উইন্ড মিল বলেন, সাইক্লোন হলে কি হবে ভেবেছেন কখনও। সাশ্রয়ী হওয়া দরকার। যে পরিমাণ অপচয় করছি সেখান থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পাওয়ার সেল’র মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসেন বলেন, আমরা ৯৯ শতাংশ ঘরে বিদ্যুৎ দিয়েছি। কিন্তু কতটুকু মানসম্মত দিতে পারছি সেটি নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। আমাদের ক্যাপটিভ রয়ে গেছে, শিল্প নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিয়ে প্রশ্ন আছে। বলা হয় জেনারেশন সারপ্লাস নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। জেনারেশনের মতো ট্রান্সমিশন, ডিস্ট্রিবিউশনে সেখানে গুরুত্ব দেওয়া যায় নি। আমরা এবার সেই জায়গাটাতে ফোকাসড করেছি। ময়মনসিংহ অঞ্চলে ফোর্স লোডশেড করতে হচ্ছে। মানুষ কিন্তু এখন প্রত্যাশিত মানে বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। এর কারণ হিসেবে প্রাথমিক জ্বালানির গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ২ হাজার মেগাওয়াট চালাতে পারছি না। শিল্পকে গ্রিডে যুক্ত করা গেলে সেই গ্যাস দিয়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। দক্ষ জনবল ও এলএনজি আমদানি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফুয়েল মিক্স নিয়ে জোরেশোরে কাজ করতে হবে। কোল টার্মিনাল, এলএনজি টার্মিনাল করতে হবে। বাংলাদেশ নেপাল ভূটানে বিদ্যুৎ রপ্তানি করতে পারে। সেই জায়গাটি আমাদের সিরিয়াসলি দেখতে হবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ম তামিম বলেন, ভারত পাকিস্তানের ওভারঅল আবাসিকে ব্যবহার যদি দেখি ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের বেশি। জিডিপি ভারতের চেয়ে বেশি। তবে ওভারঅল ব্যবহার বাড়াতে হবে। না হলে সংকট থেকে যাবে। সাচটেনিটিবিলিটি দুই ধরনের, আমি আজকে এমনছিু এমনভাবে ব্যবহার করবো না। যেনো পরবর্তী প্রজন্ম সংকটে না পড়ে। আমাদের ৫৫ শতাংশ বিদ্যুৎ আসছে গ্যাস দিয়ে। যে কোনো সময় গ্যাসের উৎপাদনে ধ্বংস নেমে আসতে পারে। যদি কমে আসে কিভাবে মোকাবেলা করবো। এটা বর্তমান সাচটেনিবিলিটি। যদি এলএনজির জাহাজ ঝড়ের কারণে কিংবা অন্যকারণে মাঝ পথে আটকে যায় তাহলে কি হবে। যদি স্টোরেজ না রাখতে পারি না হলে সংকট হতে পার। বিশ্ব এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যাচ্ছে। আমরা প্রায় শতভাগ ফসিল ফুয়েলের উপর নির্ভর করছি। ফসিল ফুয়েল হলে গ্যাসকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

এনবিআর’র সাবেক চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদ বলেন, একটা সময় অনেক খারাপ গেছে। এখন আমরা অনেক ভালো অবস্থানে আসতে পেরেছি। বিদ্যুৎ এবং এনার্জি খাতে যে ধারকর্য করে এনে দিয়েছি, বিপুল টাকা। বাজেট বরাদ্দ শুধু চাইলে হবে না। সরকারের পাওনাগুলো দিতে হবে। সরকারের পাওনা না দিয়ে ব্যাংকে রাখছে অনেকে। সরকার যথেষ্ট দিয়েছেন। সরকারের পাওনাগুলো দিয়ে দিতে হবে।

পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, মেইন সমস্যা হচ্ছে গ্রামে, প্রতিদিনেই প্রায় বিদ্যুতের লোডশেডিং হচ্ছে। জেনারেটর চালাতে হচ্ছে এই জায়গাটিতে বেশি মনোযোগ দিতে হবে। পারক্যাপিটা এনার্জি ব্যবহার অনেক কম। ইনকাম বাড়লে ব্যবহার পাড়বে। নাকি দাম বেশি জন্য ব্যবহার কম করছে।  কম আয়ের দেশে বেশি ব্যবহার হচ্ছে সেটি ভাবতে হবে। বাংলাদেশে এখনও জ্বালানির দাম অন্যদেশের চেয়ে বেশি।

ঢাকা চেম্বারের সাবেক প্রেসিডেন্ট আবুল কাশেম খান বলেন, দাম বেশি বেড়ে গেলে কিন্তু প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে। শুধু শ্রমের উপর ভিত্তি করে দাড়ানো কঠিন হবে। এ জন্য সাশ্রয়ী এনার্জি নিশ্চিত করা জরুরি।

খন্দকার আব্দুস সালেক বলেন, এই সরকারকে নিঃসন্দেহে মোবারকবাদ দিতে হবে শতভাগ বিদ্যুতায়নের জন্য। কোয়ালিটি নিশ্চিত করার দু’টি চ্যালেঞ্জ, একটি হচ্ছে প্রাইমারী এনার্জি আরেকটি হচ্ছে বিদ্যুতের ডিস্ট্রিবিউশন ও ট্রান্সমিশন সিস্টেম। ট্রান্সমিশনের বিষয়ে অনেক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে আশা করা ২-৩ বছরের মধ্যে ভালো অবস্থায় যাবে। আমাদের বিদ্যুতের চাহিদা কিন্তু বাড়ছে না। আর চাহিদা না বাড়ার কারণে অনেক সময় ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। এলএনজি এবং বিদ্যুতে, ভর্তুকি নিয়ে কোনো সেক্টর ভালোভাবে দাঁড়াতে পারে না।

গ্যাসের উৎপাদন এখন ২৫০০ নিচে নেমে এসেছে। আরও উৎপাদন কমতে পারে। আগামী ৩-৪ বছরে এলএনজি আমদানি বাড়ানোর সুযোগ নেই। সেটি সামাল দেওয়া চ্যালেঞ্জ মনে হচ্ছে। প্রাইমারী ফুয়েলকে বড় চ্যালেঞ্জ মনে করছি। গ্রিন এনার্জির দিকে যাওয়া উচিত।

স্বদেশ প্রতিদিন/নিশাদ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন

প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।