রোববার ১৩ জুন ২০২১ ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

ভালুকার সিডষ্টোর-সখিপুর সড়কের বেহাল দশা!
আনোয়ার হোসেন তরফদার, ভালুকা প্রতিনিধি :
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ জুন, ২০২১, ৭:৫৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

রাস্তার বেহাল দশা

রাস্তার বেহাল দশা

ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভালুকা উপজেলার সিডষ্টোর বাজার হতে বাটাজোর হয়ে সখীপুর উপজেলা সদর পর্যন্ত শহীদ শমসের সড়কটির প্রায় ১৪ কিলোমিটার অংশ যান চলাচল অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। এই সড়কটি বর্তমানে এলাকাবাসীর জন্য অভিশাপ ও মরণফাঁদে পরিনত হয়েছে। সড়কের প্রায় সবটুকু জুড়ে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হওয়ায়  যাত্রী বা পণ্যবাহী কোন যান চলাচল করতে পারছে না। 

সড়কটি দিয়ে যান চলাচল করতে না পাড়ায় একদিকে উপজেলার শিল্পাঞ্চল হবিরবাড়ী, কাচিনা ও ডাকাতিয়া ইউনিয়নসহ পাশ্ববর্তী সখিপুর উপজেলার বেশির ভাগ এলাকার কৃষকদের উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে পারছেন না। ফলে কৃষকরাও ব্যাপক ক্ষতির সম্মূখীন হচ্ছে। অপরদিকে সড়কটির দু'পাশে শতাধিক শিল্প উদ্যোক্তারা বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের লক্ষে জমি ক্রয় করলেও শিল্প –কারখানা স্থাপনের কাজ করতে পারছেন না। শিল্প স্থাপনে প্রয়োজনীয় মালামাল আনা-নেওয়া করতে না পাড়ায় শিল্পায়নে সৃষ্টি হয়েছে বড় বাঁধা। আর যে সব শিল্প প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই স্থাপিত হয়ে চলমান রয়েছে সেগুলোর উৎপাদিত পন্য বাজারজাতের জন্য সরবরাহ বা কাঁচামাল আনার ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে।

উপজেলা প্রকৌশলৗ অফিস সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত ভূক্তভোগীরা এ গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি মেরামত করার দাবী জানিয়ে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসুচীর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আসছে। দুই বছর পূর্বে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর ঢাকা-ময়মনসিংহ হাইওয়ে হতে সীডস্টোর-সখিপুর হেড কোয়ার্টার সড়কের ভালুকা উপজেলাধীন ১৩.৭০ কিঃ মিঃ সড়ক পাকা করণের জন্য ২৪ কোটি ৯৫ লক্ষ ৩৩ হাজার ২শত ৩৩ টাকা ব্যয় নির্ধারণ পূর্বক দরপত্র আহবান করে। ওই প্রকল্পের জন্য রাফিয়া কনস্ট্রাকশন লিমিটেড নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ প্রাপ্ত হয়ে গত ০৮/১০/২০১৯ খ্রিঃ তারিখে কাজ শুরু করেন। ০১/০৩/২০২১ খ্রিঃ কাজ শেষ হওয়ার তারিখ থাকলে, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান শুরুতে ২/৩ মাস সময় নিয়মিত কাজ করে দুই কিঃমিঃ এর কিছু বেশি অংশ মেকাডাম পর্যন্ত করে প্রকল্পের মূল কাজের আনুমানিক ২০/২৫ শতাংশ সম্পন্ন পূর্বক নির্বাহী প্রকৌশলী, এলজিইডি ময়মনসিংহ বরাবর ১০ কোটি টাকার আংশিক বিল জমা দেয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজের অগ্রগতি যাচাই-বাছাই পূর্বক ১ কোটি টাকার আংশিক বিল প্রদান করেন। বিল নেওয়ার কিছুদিনের মধ্যে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হঠাৎ কাজ বন্ধ করে লাপাত্তা হয়ে যায়।  

এলাকাবাসী জানান, হাজার হাজার শিক্ষার্থীরা কর্তৃপক্ষের কাছে বিভিন্নভাবে দাবী জানিয়ে আসছে। এমনকি মানববন্ধনসহ বহুবার বিভিন্ন কর্মসুচী পর্যন্ত পালন করা হয়েছে। অবশেষে ২০১৯ সালের শেষের দিকে রাস্তাটির নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্থি ফিরে এসেছিল। বর্তমানে সামান্য বৃষ্টি হলেই সৃষ্টি হওয়া অসংখ্য খানা-খন্দরে পানি জমে থাকে। এসব গর্তে প্রায়ই মালবোঝাই গাড়ী উল্টে যাচ্ছে, চাকা আটকে যাচ্ছে। যাত্রী বাহী বাস, লেগুনা, সিএনজি, টেম্পু এসব চলতে না পারায় জন সাধারণ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। 

তারা আরও জানান, এ সড়কটি দিয়ে একটি কলেজ, দুইটি ফাজিল মাদ্রাসা ও তিনটি দাখিল মাদ্রাসা, একটি গার্লস হাই স্কুলসহ বেশ ক'টি হাই স্কুল ও প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র ছাত্রীরা দীর্ঘদিন যাবত ঝুঁকি নিয়ে কষ্ট করে প্রতিদিন যাতায়ত করে আসছে। 

ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা খাতুন জানান, পূর্বের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিলের পর দ্রুত ওই রাস্তার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নির্বাহী প্রকৌশলী ময়মনসিংহের সাথে জন গুরুত্বপূর্ণ ওই সড়কটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সমন্বয় করে আসছি। আশা করি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ওই সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু হবে।

স্বদেশ প্রতিদিন/এস

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন

প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।