রোববার ১৩ জুন ২০২১ ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

করোনা ও লকডাউনে ঈদকেন্দ্রিক ব্যবসায় ধস
লোকসানে অর্ধ কোটি ব্যবসায়ী
৭ হাজার কোটি টাকা ক্ষতির মুখে দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো
এম উমর ফারুক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ মে, ২০২১, ১১:৪১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

লোকসানে অর্ধ কোটি ব্যবসায়ী

লোকসানে অর্ধ কোটি ব্যবসায়ী

করোনা মহামারিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের ব্যাবসায়ীরা। দেশের বড় ছোট সবমিলিয়ে প্রায় অর্ধকোটি ব্যবসায়ী এ লোকসানের ঘানি টানছেন। ঈদসহ উৎসবগুলোতে কোটি-কোটি টাকার ব্যবসা করে দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা রাখেন; কিন্তু ঈদে কয়েক দিনের জন্য মার্কেট দোকান পাট খুলে দিলেও বৈশাখী উৎসবসহ সব ধরনের উৎসব ছিল লকডাউন আর কঠোর বিধিনিষেধের কারণে বন্ধ। সে কারণে লোকসানের বোঝা বেড়ে গেছে। শুধু রেমিট্যান্স ছাড়া সবকিছুই নিম্নমুখী। ৮৬ শতাংশ মানুষের আয় কমেছে। পাশাপাশি সীমিত চলাচলে কমছে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। কারণ সব ধরনের পণ্যের উৎপাদন ও পরিবহন ব্যবস্থার স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয়েছে। ফলে হাতেগোনা দু-একটি মার্কেট ছাড়া প্রায় সবখানেই বেচাকেনা কমেছে।

আর শিল্প খাতে ওষুধ ও সিরামিক ছাড়া বিভিন্ন ব্যবসা নিম্নমুখী। এ ছাড়া চরম দুর্দিন চলছে শ্রম খাতে। বিশেষ করে পরিবহণ ও নির্মাণ শ্রমিকদের অবস্থা খুবই নাজুক। এর প্রভাব পড়ছে ব্যবসা-বাণিজ্যে। সবমিলিয়ে আসন্ন ঈদের অর্থনীতিতে বেশ মন্দা চলছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, মানুষের ব্যয় বাড়াতে না পারলে অর্থনীতি চাঙা হবে না।

প্রতি বছর ঈদ সামনে রেখে বাহারি পোশাকের পসরা সাজিয়ে বসে দেশের ফ্যাশন হাউসগুলো। তবে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গত বছর বন্ধ ছিল বৈশাখ উদযাপন। ফলে বিকিকিনি করতে পারেননি ব্যবসায়ীরা। এ বছরও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আউটলেটে তোলা অধিকাংশ পণ্যই অবিক্রিত থেকে গেছে। এ অবস্থায়  ঈদে কতটুকু ব্যবসা হবে তা নিয়ে সংশয়ে আছে ফ্যাশন হাউসগুলো।

সারাদেশে দোকানের সংখ্যা অর্ধ কোটি ছাড়িয়েছে বছর দুয়েক হলো। গত ঈদ ও বৈশাখী পণ্যে লোকসান গুনেছেন তারা। সেই লোকসান পুষিয়ে নিতে এবার ঋণ নিয়ে পণ্য তুলেছেন তারা। কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউ তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। লকডাউন -কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করে খুলে দেওয়া হয়েছে সব ধরনের শপিংমল ও দোকানপাট। কিন্তু তাতেও চিন্তামুক্ত হতে পারছেন না দোকানমালিকরা। কারণ করোনার কারণে স্বাভাবিকভাবেই কমেছে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা। এমন পরিস্থিতিতে তারা ক্ষতি কতটা পুষিয়ে নিতে পারবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েই গেছে।

এ বিষয়ে রাজধানীর বসুন্ধরা শপিংমলের পোশাকের বিক্রেতা মো. জামির হোসেন বলেন, ‘গতবার করোনার সময়ে বেচাকেনা করা সম্ভব হয়নি। পুরোনো পণ্য কমিশনে বিক্রি করতে হয়েছে। এবারও ব্যাংকঋণ নিয়ে পণ্য উঠিয়েছি। দোকান ভাড়া ও কর্মচারীর বেতন-বোনাস দিতে পারব কি না জানি না। দোকান বন্ধ থাকলে শুধু ভাড়া দিতে হতো। এখন চালু হলে বিক্রি হোক বা না হোক কর্মচারীর পেছনে প্রতিদিন খরচ আছে। 

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) সারাদেশের দোকানপাট ও কর্মরত কর্মচারীর সংখ্যা নিয়ে একটি জরিপ পরিচালনা করেছিল ২০১৯ সালে। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে দোকানপাটের সংখ্যা ৫৩ লাখ পাঁচ হাজারের বেশি। প্রতি দোকানে চার কর্মচারী হিসাবে সারা দেশে দোকানপাট ও শপিং মলগুলোয় কাজ করছেন দুই কোটি ১২ লাখের বেশি মানুষ। প্রতিবছর ১০ শতাংশ হারে দোকান ও কর্মচারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, করোনা মহামারিতে গত বছরের মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দোকানপাট খুব একটা খোলেনি। এজন্য প্রবৃদ্ধি খুব একটা বেশি হবে না। কিন্তু বর্তমানে দোকানপাটের সংখ্যা কত, তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান জানা নেই বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির।

জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, অর্থনীতি চাঙা করতে হলে মানুষের ব্যয় বাড়াতে হবে। আর ব্যয় বাড়ানোর জন্য আগে আয় করা দরকার। কিন্তু করোনার কারণে বড় একটি অংশের আয় কমেছে। মানুষের চলাচল সীমিত। যা অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, এটিই স্বাভাবিক। তিনি বলেন, এর বিকল্প কিছু করার ছিল না। তবে আগামী বাজেটে কর্মসংস্থানকে জোর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

জানা গেছে, প্রতিবছর ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের অর্থনীতিতে টাকার প্রবাহ বাড়ে। তবে কী পরিমাণ বাড়ে তার সুনির্দিষ্ট কোনো হিসাব নেই। তবে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন হিসাব বলছে, চলতি মাসেই অর্থনীতিতে অতিরিক্ত আরও ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা লেনদেন। খাদ্যপণ্য, পোশাক, বিনোদন ও পরিবহণ খাতে এই বাড়তি অর্থ যোগ হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবী, দোকান কর্মচারী, পোশাক ও বস্ত্র খাতের শ্রমিকসহ বিভিন্ন ধরনের শ্রমজীবীদের বোনাসও এই কর্মকাণ্ডে যোগ হয়। উৎসবকে ঘিরে বিভিন্ন খাতে বিপুল অঙ্কের অর্থ ঘন ঘন হাতবদল হওয়ায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যেমন বাড়ে, তেমনি চাঙা হয় গোটা অর্থনীতি। 

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের হিসাবে করোনায় দেশের ৬২ শতাংশ মানুষ কাজ হারিয়েছে। আর ৮৬ শতাংশ মানুষের আয় কমেছে। ৭৮ শতাংশ মানুষ তাদের খরচ কমিয়েছে। এর মধ্যে ৫২ শতাংশ মানুষ খাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন। আবার অনেকের ঋণ বেড়েছে। কেউ কেউ সম্পদ বিক্রি করে দিয়েছেন। তবে কাজ হারানো বড় একটি অংশ কৃষিতে যোগ দিয়েছে। যা পুরো দেশের অর্থনীতিতে ভোগের চাহিদা কমিয়ে দিয়েছে।  

জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের হিসাবে দেশের মোট জিডিপির আকার হচ্ছে ৩১ লাখ ৭১ হাজার কোটি টাকা। তিনটি খাত থেকে এই উৎপাদন আসে। এগুলো হলো- সেবা খাত থেকে ৫৪ শতাংশ, শিল্প ৩১ এবং কৃষি খাত থেকে ১৫ শতাংশ। কিন্তু করোনার কারণে কৃষি ছাড়া সেবা ও শিল্প দুটি খাতেই মন্দা। দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন তার নিজস্ব একটি সমীক্ষায় উল্লেখ করেছেন, রোজায় অতিরিক্ত ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার লেনদেন যোগ হচ্ছে। তার সমীক্ষার হিসাব মতে, পোশাকের বাজারে যোগ হচ্ছে ৩৫ হাজার ২শ কোটি টাকা। নিত্যপণ্যের বাজারে বাড়তি যোগ হচ্ছে ২৭ হাজার কোটি টাকা। ধনী মানুষের দেওয়া জাকাত ও ফিতরা বাবদ আসছে ৬৭ হাজার কোটি টাকা। পরিবহণ খাতে অতিরিক্ত যাচ্ছে ৬৬০ কোটি টাকা। ঈদকে কেন্দ্র করে ভ্রমণ ও বিনোদন বাবদ ব্যয় হয় ৪ হাজার ৫শ কোটি টাকা। এছাড়া আয়ের হিসাবে সাড়ে ১২ লাখ সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর, ৬০ লাখ দোকান কর্মচারী, তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের ৭০ লাখ শ্রমিকের বোনাস। যা ঈদ অর্থনীতিতে আসে। এছাড়া আরও রয়েছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের টাকা। ঈদের সময়ে প্রবাসীরা তাদের আত্মীয়স্বজনের কাছে বাড়তি ব্যয় মেটাতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়ে থাকেন। কিন্তু এবার সরকারি চাকরিজীবীদের বাইরে বেসরকারি খাতে বোনাসের হার একেবারেই কমেছে। ৩৫ শতাংশ পোশাক কারখানায় ঈদ বোনাস দেওয়া হয়নি। তবে রেমিট্যান্স কিছুটা বেড়েছে। ঈদের মাসে রেমিট্যান্স আড়াই বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। টাকার অঙ্কে যা ২১ হাজার কোটি টাকার বেশি। তবে এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্সের হার বেড়েছে। কেউ কেউ বলছেন, পাচার হওয়া টাকা রেমিট্যান্স আকারে ফিরে আসছে। 

কাপড়ের পাইকারি বাজারের জন্য বিখ্যাত পুরান ঢাকার ইসলামপুর। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা এসে এখান থেকে শাড়ি, থ্রি পিসসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে যান। বছরজুড়েই ইসলামপুরে পাইকারি ব্যবসায়ীদের আনাগোনা থাকে। ঈদের মৌসুমে কেনাবেচা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। তবে এবারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। করোনা সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধের কারণে দীর্ঘদিন যান চলাচল বন্ধ থাকায় আসতে পারেননি দূর-দূরান্তের পাইকারি ব্যবসায়ীরা। এর প্রভাব পড়েছে ইসলামপুরের ব্যবসায়।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ইসলামপুরের বিভিন্ন দোকানে মালিক কর্মচারীরা বসে আছেন। ক্রেতার দেখা নেই। মাঝেমধ্যে দুই-একজন খুচরা ক্রেতা এ দোকান ও দোকান ঘুরে কাপড় পছন্দ করছেন। ইসলামপুর পাইকারি মার্কেটের আয়ান সিটির কর্মচারী দেলোয়ার হোসেন সুমন বলেন, ব্যবসার অবস্থা খুব খারাপ। দেশের এ পরিস্থিতিতে বেচাকেনা নেই বললেই চলে। কীভাবে বিক্রি করব? মানুষজন তো ঢাকায় আসতে পারে না। বাস চলাচল করলে বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা ঢাকায় আসতে পারতেন। তাতে আমাদেরও ব্যবসা ভালো হতো। ব্যবসায়ীরা ঢাকায় আসতে না পারায় আমাদের ব্যবসা খারাপ যাচ্ছে। গত দুই বছর ধরে টানা লোকসানের কারণে অনেক ব্যবসায়ী এরই মধ্যে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন।

খাত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে ২০২০ সালের বৈশাখ ও ঈদে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে ছোট-বড় প্রায় পাঁচ হাজার ফ্যাশন হাউসকে। এবারও সেই অনাকাঙিক্ষত কঠোর বিধিনিষেধের কারণে বৈশাখে হয়নি লক্ষ্যপূরণ। লোকসান হয়েছে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। ঈদকে ঘিরে দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো পাঁচ থেকে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এই লক্ষ্য অর্জন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। লক ডাউন আর কঠোর বিধিনিষেধ এরপরও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ হয়তো অর্জিত হতে পারে। টাকার অংকে ১৬০০-২২০০ কোটি টাকার মতো বিক্রি হতে পারে। এটিও আবার নির্ভর করছে করোনা পরিস্থিতি ও সরকারের যথাযথ সহযোগিতার ওপর।

ফ্যাশন এন্ট্রাপ্রনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের বর্তমান সভাপতি শাহীন আহমেদ ও সাবেক সভাপতি আজহারুল হক আজাদসহ দেশীয় ফ্যাশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ীদের বক্তব্যে গত বছরের লোকসান ও এ বছরের আশঙ্কার চিত্র ফুটে উঠেছে।
দেশীয় ব্র্যান্ড সাদা-কালো’র স্বত্বাধিকারী ও ফ্যাশন এন্ট্রাপ্রেনার্স অব বাংলাদেশের বর্তমান কমিটির নির্বাহী সদস্য আজহারুল হক আজাদ বলেন, আমাদের কাছে বৈশাখ ও ঈদ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সারা বছরের বেচাকেনার অর্ধেকই এ দুই উৎসবকে ঘিরে হয়। করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই আমরা সমস্যায় পড়েছি। গত বছরও বৈশাখের আগে লকডাউন শুরু হয়েছে, এবারও তাই। গত বছর বৈশাখ ও ঈদে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। এরপর গত এক বছরে স্বাভাবিক অবস্থায় যেতে পারিনি আমরা। হিসাব করলে দেখা যাবে, স্বাভাবিক সময়েও আমরা প্রায় এক থেকে দেড় হাজার কোটি টাকার বাজার হারিয়েছি। এবার ঈদকে ঘিরেও একই অবস্থা দাঁড়িয়েছে।কারণ রোজার শেষ দিকে মানুষ বাড়ি যাওয়ার জন্য অস্থির থাকে। ফলে আমাদের হাতে সময় থাকবে খুব কম। ইতোমধ্যে ৫০ ভাগ লোকসান হয়ে গেছে। 

সংগঠনের সভাপতি ও অঞ্জন’সের স্বত্বাধিকারী শাহীন আহমেদ বলেন, সারাদেশে প্রায় পাঁচ হাজার ফ্যাশন হাউস আমাদের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। গত বছর বৈশাখে তো একেবারেই বেচা-বিক্রি হয়নি। এবার শুরুতে কিছুটা হয়েছিল। ঈদকে কেন্দ্র করে বড় আয়োজন রয়েছে। পরিস্থিতি কিছুটা পরিবর্তন হয়েছিল দেখেই আমরা সেভাবে প্রস্তুতিও নিয়েছিলাম। করোনা সংক্রমণ রোধে সরকারের দেওয়া সর্বাত্মক বিধিনিষেধ চলছে। এখন ঈদে যদি আশানুরূপ বিক্রি না হয়, তাহলে এই খাত আবার বড় রকমের ক্ষতির কবলে পড়বে, যা কাটিয়ে ওঠা সহজ হবে না।

অভ্যন্তরীণ পোশাকের বাজার: ঈদ অর্থনীতির একটি বড় চালিকাশক্তি হচ্ছে পোশাকের বাজার। এ সময় পোশাকের বেচাকেনা দোকানগুলোতে তিন থেকে চারগুণ বেড়ে যায়। অভ্যন্তরীণ পোশাকের সবচেয়ে বড় জোগান আসছে পুরান ঢাকার উর্দু রোডের অভ্যন্তরীণ পোশাক মার্কেট থেকে। ঢাকার বিভিন্ন মার্কেটসহ দেশের বিভাগ ও মফস্বল মার্কেটগুলোতে দেশি পোশাক সরবরাহ হয় এই মার্কেট থেকে। কিন্তু এবার একদিকে মার্কেট বন্ধ। কিন্তু রমজানের শেষদিকে মার্কেট খুলে দিলেও পরিবহণ বন্ধ থাকায় সারা দেশে সরবরাহে ব্যাপকভাবে বিপর্যয় এসেছে। 

ভোগ্যপণ্যের বাজার : ঈদে সব ধরনের নিত্যপণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- বিশেষ ভোজ্যতেল, মাংস, চিনি, ডাল, সেমাই এবং পেঁয়াজ উল্লেখযোগ্য। ফলে এসব পণ্যের আমদানিও বাড়ে। রোজা ও ঈদে ভোজ্যতেলের চাহিদা হচ্ছে প্রায় আড়াই লাখ টন, চিনি সোয়া ২ লাখ টন থেকে পৌনে তিন লাখ টন, ডাল ৬০ হাজার টন, ছোলা ৫০ হাজার টন, খেজুর ১৩ হাজার টন, পেঁয়াজ ৩ লাখ ২৫ হাজার থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টন, রসুনের চাহিদা প্রায় ৮০ হাজার টন। এসব পণ্য আমদানিতে ব্যবসায়ীদের নিজস্ব টাকার পাশাপাশি ব্যাংক থেকে মোটা অঙ্কের টাকার জোগান দেওয়া হয়। কিন্তু এবার এই চাহিদা একেবারেই কমেছে। 

দোকান কর্মচারী বোনাস : ঈদ উৎসব অর্থনীতিতে সারা দেশের দোকান কর্মচারীদের বোনাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির হিসাবে দেশে ২০ লাখ দোকান, শপিংমল, বাণিজ্য বিতান রয়েছে। গড়ে একটি দোকানে ৩ জন করে ৬০ লাখ জনবল কাজ করছে। সংগঠনটির হিসাবে নিম্নে একজন কর্মীকে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বোনাস দেওয়া হয়। ওই হিসাবে গড়ে বোনাস ৮ হাজার টাকা ধরে ৪ হাজার ৮শ কোটি টাকা বোনাস দেওয়া হয়। কিন্তু এবার পুরো রমজানে দোকান বন্ধ থাকায় বোনাস তো দূরের কথা, বেতনই পাচ্ছে না অনেক শ্রমিক।

এদিকে অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা করোনাকালে ই-কমার্স ব্যবসায় জোর দিচ্ছেন। বর্তমানে ই-কমার্সের আওতায় কাজ করছেন প্রায় সাড়ে চার লাখ অনলাইনভিত্তিক উদ্যোক্তা। ২০১৯ সালে প্রায় ৫০ হাজারের মতো পেজ ছিল উদ্যোক্তাদের। করোনাকালে সে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে চার লাখ।

তবে দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলোর ব্যবসায়ীদের দাবি, অফলাইন বা শো-রুমভিত্তিক যে পরিমাণ ব্যবসা হয় এখনো অনলাইনে তা হচ্ছে না। অনলাইনে বাজার এখনো বেড়ে ওঠেনি। বিশেষ করে, যারা অফলাইনে ব্যবসা করি। দেশীয় পণ্যকে যারা একটি মাত্রা যোগ করে মানুষের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি, তাদের ক্ষেত্রে অনলাইন সে অর্থে এগিয়ে যায়নি। কারণ মানুষ আসলে দেখে ও যাচাই করে পণ্য কিনতে অভ্যস্ত। তাছাড়া অনলাইন ব্যবসায়ীরা এখনো মানুষের আস্থার জায়গায় পৌঁছাতে পারেনি। তাই লকডাউনের কারণে যে ক্ষতি হয়েছে তা অনলাইন ব্যবসার মাধ্যমে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন

প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।