রোববার ১৩ জুন ২০২১ ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

সিরাজগঞ্জে ভরাট জলাশয় খননে বাড়ছে মাছের উৎপাদন
এম এ মালেক, সিরাজগঞ্জ
প্রকাশ: বুধবার, ৫ মে, ২০২১, ৪:৪৬ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

সিরাজগঞ্জে ভরাট জলাশয় খননে বাড়ছে মাছের উৎপাদন

সিরাজগঞ্জে ভরাট জলাশয় খননে বাড়ছে মাছের উৎপাদন

২০২০-২০২১ অর্থবছরে সিরাজগঞ্জে ভরাট হয়ে যাওয়া ৪০টি জলাশয় সরকারিভাবে পুনঃখননের ফলে মাছ উৎপাদনের হারানো গৌরব ফিরে পাবে বলে আশার আলো দেখছেন জেলার মৎস্য চাষিরা। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ওই জলাশয় গুলো সংস্কার বাস্তবায়ন করছে জেলা মৎস্য দপ্তর।

জেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলার চার উপজেলায় ৩৮ হেক্টর আয়তনের ৪০টি সরকারি ভরাট জলাশয় পুনঃখনন বাবদ মৎস্য অধিদপ্তর এ অর্থবছরে প্রায় ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। যার প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে স্থানীয় সুফলভোগীদের মাধ্যমে সম্পন্ন করেছে করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ কাজ চলমান রয়েছে। যা আগামী ৩০ জুনের মধ্যে শেষ করতে হবে। 

আরও জানা যায় ২০১৩-২০১৪ সালে জেলায় মাছের মোট উৎপাদন ছিলো ৩৩ হাজার ৮৮৬ টন। এর পরবর্তী পাঁচ বছরে উৎপাদনের পরিমান ক্রমশ বেড়ে হয়েছিল যথাক্রমে ৪৫ হাজার ৬৫৬ টন, ৪৭ হাজার ২৭৫ টন, ৪৯ হাজার ১০৪ টন, ৫২ হাজার ৫২১ টন এবং ৫৪ হাজার ৫৪৭ টন। চলতি  অর্থবছরে জেলায় উৎপাদিত হয় ৬৭ হাজার ৫'শ ৮৪ মেট্রিকটন মাছ। জনসংখ্যার আনুপাতিক হিসেবে জেলায় বাৎসরিক মাছের মোট চাহিদা ৬৪ হাজার ৪'শ ৭৫ মেট্রিকটন।

ফলে উদ্বৃত্ত থাকছে ৩ হাজার ১০৯ টন। উদ্বৃত্ত এই মাছ যাচ্ছে রাজধানীসহ দেশের ঘাটতি এলাকার চাহিদা পূরণের জন্যে। 
পূর্বে এ জেলায় মাছ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১ দশমিক ২০ থেকে ১ দশমিক ৫০ মেট্রিকটন। তবে এ বছরে ভরাট জলাশয় গুলো পুনঃখননে লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়াবে ৫ দশমিক থেকে ৫ দশমিক ৫০ মেট্রিকটন পর্যন্ত। 

সোম ও মঙ্গলবার (৩ ও ৪ মে ২০২১) ওই সকল উপজেলা ঘুরে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, বছরের পর বছর ধরে পুকুরগুলো ভরাট অবস্থায় ছিলো।  প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে ভরাট পুকুরগুলো পুনঃখনন করায় সহজেই পুকুরপাড়ে ও এর আশপাশে বসবাসকারী হতদরিদ্ররা মাছ চাষ করে নিজেদের জীবনমান পরিবর্তন করতে সক্ষম হবেন। এ থেকে প্রত্যক্ষভাবে আর্থিক সচ্ছল হবেন জেলার ৫১১ টি পরিবার। পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়ে বৃদ্ধি পাবে তাঁদের সামাজিক মর্যাদা।

উল্লাপাড়া উপজেলার কাটানী দিঘী পুকুরের সুফলভোগীদের দলনেতা মো. রাসেল আহম্মেদ জানান, কাটানী দিঘী পুকুরে ঠিকভাবে পানি থাকতো না। ফলে মাছ চাষ করা যেতো না। এখন সরকার মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে এ বছর আমাদের এ পুকুর খনন করে দিয়েছে। আমরা এখন ভালো ভাবে মাছ চাষ করে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করতে পারবো।

রায়গঞ্জ উপজেলার জোরপূর্ব পুকুর পুনঃখনন প্রকল্পের সভাপতি মো. রহমত আলী বলেন, মাছে-ভাতে বাঙালি—কথাটি এমনি এমনি আসেনি। এমন বাঙালিও আছেন, যিনি কিনা খেতে বসে মাছ রান্না হয়নি জেনে উঠে গিয়ে বাড়ির পুকুর কিংবা পাশের জলাশয় থেকে ছিপ অথবা জাল দিয়ে মাছ ধরে কেটে-ধুয়ে ভেজে নিয়ে তবে ভাত খাওয়া শুরু করেন! সেই হারানো দিন গুলো এখন আমরা ফিরে পাবো এই খননের মাধ্যমে। তাছাড়া পারিবারিক প্রয়োজনে মাছ চাষের ধারণা এখন বদলে গেছে। ভোক্তাদের এখন নিজের পুকুরের মাছ খাওয়ার পাশাপাশি বাজার থেকে কেনার প্রবণতাও বেড়েছে।

জেলা মৎস্য উপ-সহকারি প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, জলাশয় খননের কাজ ৭৫ শতাংশ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ আগামী জুনের মধ্যে শেষ হবে। তবে আশা করা যায় আবহাওয়া ভালো থাকলে খুব দ্রুত কাজ সম্পন্ন করে পুকুর গুলো মাছ চাষের উপযোগী করা হবে। 

এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সাহেদ আলী বলেন, শুধু ভরাট জলাশয় মাছ চাষের উপযোগী করা নয়। এর সঙ্গে অসংখ্য মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হচ্ছে। বর্তমান সরকার মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করছে। এটি সে ধরনের একটি প্রকল্প। কেননা, জলাশয়ের পাড়ে নানা ধরনের কৃষিজ পণ্য তৈরি করে মানুষ অর্থ পাচ্ছে। মাছ চাষকে কেন্দ্র করে জীবিকা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই সিরাজগঞ্জে অনেক মানুষ এর সুফল ভোগ করছে। আমাদের উর্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে আমরা একটা দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে পারছি। 

মৎস্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (রাজশাহী) মো. তোফাজউদ্দিন বলেন, ‘জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি’ প্রকল্পটি অন্যান্য জেলার ন্যায় সিরাজগঞ্জে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছে। ফলে প্রতিনিয়ত সরকারী খাস পতিত/ভরাট জলাশয় পুনর্খননের মাধ্যমে মৎস্য চাষের আওতায় আনার চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন

প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।