বৃহস্পতিবার ৬ মে ২০২১ ২৩ বৈশাখ ১৪২৮

পল্টনের চায়না টাউন মার্কেট বন্ধ
মার্কেটে উপচেপড়া ভিড়
কঠোর অবস্থানে সরকার,পরিচালিত হচ্ছে ভ্রাম্যমাণ আদালত
এম উমর ফারুক
প্রকাশ: বুধবার, ৫ মে, ২০২১, ১২:১২ এএম | অনলাইন সংস্করণ

সংগৃহীত ছবি।

সংগৃহীত ছবি।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণ ঠেকাতে আরও কঠোর হয়েছে সরকার। চলমান সর্বাত্মক লকডাউনে ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষের কথা চিন্তা করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট ও শপিংমল খুলে দিলেও মনিটরিং করছে নিয়মিত। তবে কঠোর বিধিনিষেধেও স্বাস্থ্যবিধি তোয়াক্কা না করে মার্কেটগুলোতে ভিড় করছে ক্রেতারা। ফুটপাত কিংবা মার্কেটের ভিতরে ক্রেতাদের দেখা যাচ্ছে উপচেপড়া ভিড়। স্বাস্থ্যবিধি না মানায় রাজধানীর পল্টনে অবস্থিত চায়না টাউন মার্কেট বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। মার্কেট যদি স্বাস্থ্যবিধি না মানে, সেগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হবে। মাস্ক না পরায় বসুন্ধরা সিটিতে ১৭ জনকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ডিএমপি। স্বাস্থ্যবিধি মানাতে অভিযানে নেমেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। রাজধানী ছাড়াও সারাদেশের বিভাগীয় জেলা শহরের মার্কেটগুলোতেও ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। এদিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দূরপাল্লার গণপরিবহন চালু করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে ঢাকা জেলা বাস-মিনিবাস সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন। 

রাজধানীর মার্কেটগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ক্রেতা-বিক্রেতা দোকানে মাস্ক ছাড়া অবস্থান করছেন। এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন সংক্রমণ কমলেও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে অবহেলা করলে ফের সংক্রমণ বাড়তে পারে। তাই প্রতিহত নয়, করোনা প্রতিরোধ করা জরুরি। সে জন্য শতভাগ মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে হবে। বিধিনিষেধ মানতে হবে। রাজধানীর নিউমার্কেট গেলে দেখা যায় ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। ফুটপাতে ও মার্কেটের ভিতরের দোকানে অনেকে ক্রেতা-বিক্রেতা মাস্ক ছাড়াই অবস্থান করছেন। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে গাঁ ঘেঁষাঘেঁষি করে কেনাকাটা করছেন। ফুটপাতের দোকানগুলোতে অধিকাংশ ক্রেতাদের মুখে মাস্ক নেই।

ক্রেতা আব্দুর রহিম পরিবার একাধিক সদস্য নিয়ে রাজধানীর মগবাজার থেকে নিউমার্কেটে ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছেন। দোকানদারদের অনেকের মুখে মাস্ক নেই, স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না কেনো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যবিধি কীভাবে মানবো। এখানে মোড়ে মোড়ে ভিড়। যেখানে যাই সেখানেই মানুষের জটলা। এখন কে মাস্ক পড়ছে আর কে পড়ছে না আপনি কি করে খেয়াল রাখবেন।

নিউমার্কেটর সুলতানা ফ্যাশন হাউসে ঢুকতেই দেখা যায় দোকানের পাঁচ জন কর্মচারীর তিনজনের মুখেই মাস্ক নেই। বিধিনিষেধ কেনো মানছেন না জানতে চাইলে দোকানের মালিক খুরশেদ আলম বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই আমরা চলি। বেচাকেনা নেই, ক্রেতা নেই তাই আমরা মাস্ক খুলে রেখেছি। অবশ্যই আরেকজন কর্মচারী ইশারায় বলার পর তাদের মাস্ক পরতে দেখা গেছে। চন্দ্রিমা মার্কেট, ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড ও বসুন্ধরা সিটি শপিংমলে গেলে একই চিত্র দেখা যায়। নিয়ম মেনে শপিংমলে ঢুকতে দেখা গেলেও মার্কেটের ভিতরে এর উলটো চিত্র। জটলা বেধে চলাচল করতেও দেখা গেছে।

করোনার এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি না মানা নিয়ে হেলথ অ্যান্ড হোপ স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, করোনা সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে গণপরিবহন এবং মার্কেটগুলো থেকে। যেহেতু সরকার ব্যবসায়ীদের কথা চিন্তা করে মার্কেটে খুলে দিয়েছে সেহেতু তাদের উচিত স্বাস্থ্যবিধি শতভাগ মেনে চলা। সেক্ষেত্রে প্রথম কাজ হলো- অবশ্যই ক্রেতা-বিক্রেতাকে মাস্ক পড়তে হবে। করোনা প্রতিহত নয়, প্রতিরোধ করতে হবে। যদি ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ঢুকে যায় তাহলে আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। স্বাস্থ্যবিধিকে অবহেলা করলে আবার সংক্রমণ বাড়বে। আবারও আমাদের শঙ্কায় পড়তে হবে।

স্বাস্থ্যবিধি না মানায় পল্টনের চায়না টাউন মার্কেট বন্ধ: চায়না টাউন মার্কেট বন্ধ করে দেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, মার্কেটে আসা অধিকাংশ মানুষের মুখে মাস্ক ছিল না। দোকানদারদের মুখেও মাস্ক ছিল না। মার্কেটের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ছিল না। ‘ নো মাস্ক নো সার্ভিস’ এর ব্যানার ছিল না। প্রবেশমুখে তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র ছিল না। এক গেট দিয়ে ঢুকে আরেক গেট দিয়ে বের হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওই মার্কেটে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি। যে গেট দিয়ে ঢুকছে, আবার সেই গেট দিয়ে বেরও হচ্ছে। এসব কারণে মার্কেটটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। 

দোকান মালিক সমিতির সভাপতি বলেন, যেহেতু দোকানমালিকদের রুটিরুজির বিষয় আছে, আমরাও চাই মার্কেট খুলে দিতে। তবে মার্কেট খোলার আগে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে। তারা চেষ্টা করছে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার জন্য। যদি পারে, তাহলে মার্কেট খুলে দেওয়া হবে। চায়না টাউন মার্কেট যে স্বাস্থ্যবিধি মানছে না, তা গত কয়েক দিনের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই সকালে ওই মার্কেটে গিয়ে স্বাস্থ্যবিধি না মানার সত্যতা মেলে। অবশ্য দোকান মালিক সমিতি বলেছে, তাদের একার পক্ষে দুই কোটি মানুষের এই শহরে সবার স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা প্রয়োজন। হেলাল উদ্দিন বলেন, সবাই মিলে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের সমন্বয়ে গতকাল  থেকে বিভিন্ন মার্কেটে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে অভিযান পরিচালনার কথা রয়েছে। তাছাড়া সব মার্কেটে পুলিশ থাকবে। যারা স্বাস্থ্যবিধি মানবে না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জরিমানা করা হবে বলে জানা গেছে।

দোকান মালিক সমিতির সভাপতি বলেন, আমরা অন্য মার্কেটেও যাব। চায়না টাউন মার্কেট বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে সব মার্কেটকে কঠোর বার্তা দেওয়া হলো। কেউ যদি শর্ত পূরণ করতে না পারে, তাহলে মার্কেট বন্ধ করে দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা কঠিন সময় পার করছি। একক প্রচেষ্টায় নয়, সবাইকে নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা জরুরি।

নিউমার্কেটে স্বাস্থ্যবিধি সচেতনতায় অভিযান: রাজধানীর নিউমার্কেটে স্বাস্থ্যবিধি সচেতনতায় অভিযান চালাচ্ছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জীব দাসের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের অংশ হিসেবে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সচেতন করতে মাইকিং করে মাস্ক পরার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সেইসঙ্গে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতেও বলা হচ্ছে। এর আগে কোভিড-১৯ সংক্রমণ রোধে গত ১৪ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে আটদিনের কঠোর লকডাউন শুরু হয়। লকডাউনের মধ্যে দোকান-শপিংমল বন্ধ রাখাসহ ১৩টি নির্দেশনা দেওয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে। তবে দোকান মালিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১১ দিন বন্ধ থাকার পর গত ২৪ এপ্রিল থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান ও শপিংমল খুল দিয়েছে সরকার।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, করোনাভাইরাসজনিত রোগের ( কোভিড-১৯) বিস্তার রোধে শর্তসাপেক্ষে সার্বিক কার্যাবলি/চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আগের নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় ব্যাপক সংখ্যক মানুষের জীবন-জীবিকার বিষয় বিবেচনা করে নতুন এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বাজার/সংস্থার ব্যবস্থাপনা কমিটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। মার্কেট খুলে দেয়ার পর ক্রেতা কম আসলেও কোথাও কোথাও বিক্রেতারা মাস্ক পরছেন না এমন অভিযোগ উঠেছে।

এ পরিস্থিতিতে সোমবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ক্রেতা ও বিক্রেতারা মাস্ক না পরলে মার্কেট বন্ধ করে দেওয়া হবে। পুলিশ, সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় প্রশাসন এই ব্যবস্থা নেবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটা মিটিং হয়েছে। সেখানে কিছু সুপারিশ করা হয়। আজকে সেই বিষয়ে ক্যাবিনেট সিদ্ধান্ত দিয়েছে। রোববার  থেকে পুলিশ, সিটি করপোরেশন, ম্যাজিস্ট্রেট ও অ্যাডমিনিস্ট্রেশন তারা দেশের প্রত্যেকটি মার্কেট সুপারভাইজ করবে। কোনো মার্কেটে এত লোক হয়তো কন্ট্রোল করা যাবে না, কিন্তু মাস্ক ছাড়া যদি বেশি লোকজন ঘোরাফেরা করে প্রয়োজনে আমরা সেসব মার্কেট বন্ধ করে দেব। ক্লিয়ারলি এটা বলে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দোকান মালিক সমিতির সভাপতিরা আমাদের সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। ওনারা নিজেরাও এটা সুপারভাইজ করবেন।

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম আরও বলেন, বাইরে প্রচার করতে হচ্ছে যে, কোনো অবস্থায় যদি স্বাস্থ্যবিধির ব্যাপক ভায়োলেশন হয় তাহলে প্রয়োজনে আমরা ওই মার্কেট বন্ধ করে দেব।

বসুন্ধরা সিটিতে ১৭ জনকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা জরিমানা: ঈদ সামনে রেখে খোলা থাকা মার্কেট ও দোকানপাটে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানার কথা বলা হলেও অনেকেই তা মানছেন না। এজন্য স্বাস্থ্যবিধি মানাতে অভিযানে নেমেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর পান্থপথে বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সে অভিযান চালিয়ে ১৭ জনকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ডিএমপির ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অভিযানে কারও নাকের নিচে, কারও হাতে, কারও বা থুতনিতে মাস্ক থাকায় মোট সাড়ে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ রফিকুল হক। বসুন্ধরা শপিংমলের পূর্ব পাশে অভিযান শুরুর পরই নাকের নিচে মাস্ক পরে ঘোরাফেরার সময় নিশাদ নামে এক দোকান কর্মচারীকে ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযান চলাকালে শাওমির মোবাইল শো রুমে মাস্ক না পরেই ক্রেতার সঙ্গে কথা বলছিলেন কর্মচারী আহসান। বিষয়টি ম্যাজিস্ট্রেটের নজরে আসায় তাকে ৫০০ টাকা জরিমানার আদেশ দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ রফিকুল হক বলেন, সোমবার  থেকে মার্কেটে স্বাস্থ্যবিধি পরিপালনের বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটরিং করতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয়। আজকের অভিযানের উদ্দেশ্য জরিমানা নয়, মূলত করোনার সংক্রমণ রোধে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নই লক্ষ্য। অভিযানে দেখা যায়, অনেকেই মাস্ক পরছেন না, পরলেও কারও নাকের নিচে, কারও থুতনি কিংবা হাতে। এতে করে তারা নিজে যেমন করোনার ঝুঁকিতে পড়ছেন, তেমনি অন্যদেরও ঝুঁকিতে ফেলছেন। সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে খোদ বিক্রেতারাও অনেকে মাস্ক পরছেন না। এজন্য ক্রেতা-বিক্রেতা মিলে ১৭ জনকে দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ২৬৯ ধারা অনুযায়ী সাড়ে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জরিমানা করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য নয়। মূল উদ্দেশ্য জনসাধারণকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে উদ্বুদ্ধ করা। এ সময় জনসাধারণের মাঝে মাস্ক বিতরণ করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রাজধানী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরের মার্কেটে উপচেপড়া ভিড়, মানা হচ্ছে না নির্দেশনা। ঈদকে সামনে রেখে নতুন পোশাক কিনতে ভিড় বেড়েছে দোকানগুলোতে। মার্কেট খোলার সঙ্গে সঙ্গে উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। কিন্তু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। ফলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়েই কেনাকাটা করছেন লোকজন। করোনার ভয় উপেক্ষা করে সকাল ১০টার আগেই মার্কেটমুখী সড়কগুলোতে মানুষের ঢল নামতে শুরু করে।

শারীরিক বা নিরাপদ কোনো দূরত্ব মানার অবকাশ যেন নেই ক্রেতাদের মধ্যে। বিক্রেতাদের অনেকের মুখেই নেই মাস্ক। হাত ধোয়ার জন্যও নেই কোনো ব্যবস্থা। স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলছে কেনাবেচা। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের শহরের বিভিন্ন সড়কে এবং মোড়ে মোড়ে অবস্থান নিতে দেখা গেলেও জনতার চাপে তারা অসহায় হয়ে পড়েছেন।

সরেজমিনে ঠাকুরগাও  শহরের চৌরাস্তা, বাসস্ট্যান্ড, রোড এলাকার মার্কেটগুলো ঘুরে দেখা যায়, বাজারের তৈরি পোশাক, দর্জির দোকান, শাড়ি কাপড়, জুতা, স্যান্ডেল ও কসমেটিকসের দোকানে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। ধাক্কাধাক্কি করেও পণ্য কিনছেন ক্রেতারা। এদিকে করোনাভাইরাসকে পুঁজি করে ‘ দোকান বন্ধ হয়ে যাবে’ এমন কথা বলে দ্রুত কেনাবেচা করছে বিক্রেতারা।

একটি দোকানে অল্প সময় দাঁড়িয়ে প্রায় কোনো দরদাম ছাড়াই জামা-কাপড় কিনতে দেখা গেছে ক্রেতাদের। বাজারঘুরে দেখা যায়, ক্রেতাদের অধিকাংশেরই কোনো মাস্ক নেই। ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে নারী ক্রেতাদের চাপ দোকানগুলোতে সবচেয়ে বেশি।

সুলতানা বেগম নামের এক ক্রেতা বলেন, দোকানপাট নাকি সব বন্ধ হয়ে যাবে শুনতেছি। এজন্য তাড়াতাড়ি করে কেনাকাটা করতে এসেছি। বাচ্চাদের তো নতুন জামাকাপড় দিতে হবে ঈদে। শহরের চৌরাস্তায় সন্তানকে নিয়ে কেনাকাটা করতে আসা ফাতেমা বেগম জানান, তিনি তার ১৬ বছর বয়সী ছেলের জন্য জুতা আর নিজের জন্য একটি থ্রিপিস কিনতে এসেছেন। নিজে মাস্ক পরলেও ছেলের মুখে কোন মাস্ক ছিল না। এভাবে ঝুঁকি নিয়ে কেনাকাটার কারণ জানতে চাইলে ওই গৃহবধূ কিছুটা বিরক্তি নিয়ে বলেন, ‘করোনা নিয়ে আর ভয় দেখাবেন না। যা হওয়ার হবে। এখন একটু কেনা-কাটা করতে দিন।

মুনমুন নামে এক কলেজছাত্রী বলেন, ভেবেছিলাম খুব একটা ভিড় হবে না। কিন্তু এবারের চিত্র তো সম্পূর্ণ ভিন্ন। দোকানগুলোতে ভিড় দেখে ফিরে যাচ্ছি। ঝুঁকি নিতে চাই না। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, করোনার কারণে ব্যবসা এতো দিন প্রায় বন্ধই ছিল। ঈদকে সামনে রেখে খোলার সুযোগ পাচ্ছি। ক্রেতারাও আসছে অনেক। এত মানুষের জন্য তো স্বাস্থ্যবিধি মানা কষ্টকর। তবে আমরা মাস্ক ব্যবহার করি। ক্রেতাদের মাস্ক পরে আসতে বলি।

এদিকে মার্কেটগুলোতে মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঠাকুরগাঁও চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি হাবিবুল ইসলাম বাবলু। তিনি বলেন, দোকান-পাট ও মার্কেট খোলা হলে সেখানে মানুষ ভিড় করবে বলেই আমরা আশঙ্কা করেছিলাম। যেহেতু আমরা সচেতন নই তাই কোন কিছু দিয়েই মানুষের ভিড় ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, দোকানে নিরাপদ দূরত্ব মেনে কেনাবেচা করার জন্য দোকানদারদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নির্দেশনা বাস্তবায়নে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন

প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।