বৃহস্পতিবার ৬ মে ২০২১ ২৩ বৈশাখ ১৪২৮

বসুন্ধরার যন্ত্রপাতিতেই চলবে মহাখালী করোনা হাসপাতাল
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২১, ২:৫৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

এক বছরের বেশি সময় ফেলে রাখার পর অবশেষে দুয়ার খুলছে রাজধানীর মহাখালী করোনা হাসপাতালের। বসুন্ধরায় নির্মিত অস্থায়ী করোনা হাসপাতালকে ভেঙে জোড়া দেওয়া হচ্ছে এখানে।

ওখানকার যন্ত্রপাতি এনে মহাখালী আইসোলেশন সেন্টারকে সাজানো হচ্ছে নতুন আদলে।  

আইসোলেশন সেন্টার থেকে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপ দিয়ে নতুন নামকরণ করা হবে। আগামী ২০ এপ্রিল করোনারোগীদের জন্য আনুষ্ঠানিকভবে এই হাসপাতালের দ্বার উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে  জানিয়েছেন মহাখালী করোনা হাসপাতালের নতুন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির বলেন, এটা দেশের সবচেয়ে বড় কোভিড বিশেষায়িত হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এখানে পরিপূর্ণ ১০০ শয্যার নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ) ও প্রায় সমমানের হাই ডিপেনডেনসি ইউনিট (এইচডিইউ) শয্যা থাকছে ১২২টি। এছাড়া সাধারণ শয্যা থাকছে প্রায় ১ হাজার।  

তিনি বলেন, ১৫ এপ্রিল নাগাদ অন্তত ৫০টি আইসিইউ ও ২৫০টি সাধারণ শয্যায় রোগী ভর্তি শুরু করা যাবে। বাকিগুলোর কাজ চলতে থাকবে।  

তিনি বলেন, আশা করছি চলতি মাসের শেষ দিকে পুরো হাসপাতালটি প্রস্তুত হয়ে যাবে পূর্ণাঙ্গ কোভিড বিশেষায়িত সেবার জন্য। এই হাসপাতালের সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেম স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ।

পরিচালক বলেন, এই হাসপাতাল ভবনটি সিটি করপোরেশনের। হাসপাতালটির যন্ত্রপাতি, জনবলসহ অন্যান্য সরঞ্জাম দিচ্ছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। অবকাঠামোগত প্রস্তুতির কাজ বাস্তবায়ন করে দিচ্ছে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। আর পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় থাকছে আর্মস ফোর্সেস মেডিক্যাল ডিভিশন। ৭শ চিকিৎসকের জন্য আবেদন করা হয়েছে এবং ৫০ জন ইতোমধ্যেই নিয়োগ হয়েছে। বসুন্ধরায় নির্মিত অস্থায়ী হাসপাতাল ভেঙে সেখান থেকে উন্নত যন্ত্রপাতি এনে এখানে বসানো হচ্ছে।

ভবনের ছয়তলায় করোনা রোগীদের জন্য আইসিইউ প্রস্তুত করা হচ্ছে। একটা সারির কাজ শেষ। ভেতরে থরে থরে সাজানো আইসিইউ বেড। যেগুলো বসুন্ধরা করোনা আইসোলেশন সেন্টার থেকে এনে এখানে লাগানো হয়েছে। বেডের সঙ্গে পিসিআর যন্ত্রপাতি সংযোগ দেওয়ার কাজ চলছে। অন্য সারিতে চলছে ইলেকট্রনিক কাজ। বেড সাজানো হয়নি, ডেকোরেশনের কাজও অনেক বাকি। শ্রমিকরা কাজ করছেন, ক্লিনাররা ঘষামাজা করছেন। কক্ষগুলোতে শয্যা বসানো হলেও যন্ত্রপাতি নেই। যন্ত্রপাতি ও খাবার রাখার ট্রলি নেই। করোনা নমুনা সংগ্রহের জন্য প্রতিটি তলায় ৩টি করে বুথ বসানো হয়েছে। তবে বুথের ভেতরেও ফাঁকা। চিকিৎসকদের জন্য প্রতিটি ব্লকে ২টি করে আলাদা কক্ষ তৈরি করা হয়েছে। চেয়ার, টেবিল বা মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট মোটামুটি সব প্রস্তুত। বাথরুমে পানির লাইনে সংযোগ থাকলেও দরজাগুলো ফিটিং হয়নি এখনো।  

শ্রমিকরা বলেন, এখনো টেকনিক্যাল অনেক কাজ বাকি। ভবনের দোতলায় ১৩৯০ বেডের হাসপাতালের জায়গায় ৫০ বেডের ইমার্জেন্সি বেড প্রস্তুত করা হচ্ছে। যার ৩০টি নারী এবং ২০টি পুরুষ রোগীর জন্য। জরুরিভিত্তিতে রোগী ভর্তি ও পরে আইসিইউতে নেওয়ার আগে এখানে রাখা হবে।

হাসপাতালটির বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. ফরিদ উদ্দিন মিয়া বলেন, কেবল মহাখালীর হাসপাতালই নয়, এর সঙ্গে আরো ১০টি হাসপাতালকে করোনা রোগীদের সেবায় বিশেষভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গত বছর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কোভিড রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম চালু করা হলেও সংক্রমণ কমে যাওয়ায় তা বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে, গত সপ্তাহ থেকে ওই হাসপাতালে আবার আগের মতোই ২০০ শয্যার কোভিড ইউনিট চালু হয়েছে।  

বসুন্ধরা হাসপাতালটিকে কেন ভেঙে ফেলা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বুঝতে হবে- ওটা হাসপাতাল নয়; আইসোলেশন সেন্টার ছিলো। মাঝে করোনা পরিস্থিতি কমে যাওয়ায় ওখানে কোনো রোগী যেত না। খালি পড়ে থাকার কারণেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ওখানকার যন্ত্রপাতিগুলো বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানোর।

জানা গেছে, এই হাসপাতালটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। তবে প্রথম থেকেই হাসপাতালটিতে যন্ত্রপাতি কেনায় মোটা অঙ্কের দুর্নীতি ছিল। একই ভবনে দুটি হাসপাতালের যন্ত্রপাতি কেনার জন্য আলাদা হিসাব জমা দেওয়া হয়। ১ হাজার শয্যার হাসপাতালের জন্য কেনাকাটায় ৭১ কোটি ২৭ লাখ ৭১ হাজার ৭১৫ কোটি টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। যেখানে লিস্ট দেওয়া হয় ৮৯ ধরনের চিকিৎসা সরঞ্জামের। অন্যদিকে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ২৫০ শয্যার জন্য ৬৯ কোটি ৭৫ লাখ ৬ হাজার ৬১৭ টাকা প্রস্তাব দেওয়া হয়। ৪৪ ধরনের চিকিৎসা ও সহচিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার কথা বলা হয় সেখানে।

জানা যায়, হাসপাতালের জন্য মেডিসিন ও ইলেক্ট্রোমেডিকেল ইকুইপমেন্ট চাহিদাকরণ প্রসঙ্গে দুটি আলাদা স্মারকও দেওয়া হয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে।  

১ হাজার শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রীর চাহিদাপত্র দেওয়া বিবরণীতে দেখা যায়, বালিশ থেকে শুরু করে এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন পর্যন্ত প্রায় ৮৯ ধরনের সরঞ্জাম চাওয়া হয়। এর মধ্যে ৫০টি ইলেক্ট্রিক কেটলি, ৫০টি খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ট্রলি, ১ হাজার ম্যাট্রেস, ১ হাজার বালিশ, ২ হাজার রোগীর পোশাকের কোনো মূল্য ধার্য করা হয়নি। বাকি ৮৪ ধরনের পণ্যের মূল্য ধরা হয় ৭১ কোটি ২৭ লাখ ৭১ হাজার ৭১৫ কোটি টাকা। এসব হিসাবে তালগোল পাকানোর জেরেই একপর্যায়ে হাসপাতালের কাজ থেমে যায়।  

সম্প্রতি করোনা পরিস্থিতি বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন হাসপাতালে শয্যা সংকট ও নানা সমালোচনার মুখে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সিটি করপোরেশন যৌথ বৈঠকে সিদ্ধান্তে ডা. নাসিরকে দায়িত্ব দিয়ে তড়িঘড়ি পুনরায় হাসপাতালটি প্রস্তুতির কাজ শুরু করা হয়।

গত ৬ এপ্রিল হাসপাতালের কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এ সময় তিনি বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ প্রতিরোধে ঢাকার সব হাসপাতালে শয্যা বাড়ানোর ব্যবস্থা করছি। আড়াই হাজার শয্যাকে ৫ হাজার করা হয়েছে, এরচেয়ে বেশি বাড়ানো সম্ভব নয়।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন

প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।