শনিবার ১৭ এপ্রিল ২০২১ ৪ বৈশাখ ১৪২৮

সব যানবাহন আছে, নেই শুধু যাত্রীবাহী বাস
লকডাউনের বালাই নেই
দোকান খোলা দাবিতে ব্যবসায়ীর বিক্ষোভ
এম উমর ফারুক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ এপ্রিল, ২০২১, ৮:২৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

লকডাউনের বালাই নেই

লকডাউনের বালাই নেই

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে দেশজুড়ে শুরু হওয়া সপ্তাহব্যাপী লকডাউনের দ্বিতীয় দিনের চিত্র ছিল একেবারেই ঢিলেঢালা। প্রধান সড়কের পাশের কিছু দোকানপাট ও ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছাড়া কার্যত প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই ছিল খোলা। তবে উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। কাঁচাবাজার ও অলিগলির চেহারা ছিল স্বাভাবিক। কেবল বিমান, ট্রেন, দূরপাল্লার বাস এবং বড় নগরীগুলোতে গণপরিবহন বন্ধ ছিল। কিন্তু অন্যান্য যানবাহন স্বাভাবিকভাবেই চলেছে। অফিস-আদালত ছিল খোলা। তবে উপস্থিতি ছিল কিছুটা কম। গ্রামে লকডাউনের কোনো ছাপই চোখে পড়েনি। জীবনযাত্রা ছিল একেবারেই স্বাভাবিক। কয়েকটি এলাকায় স্বল্প দূরত্বের গণপরিবহনও চলেছে। কিছু স্থানে ব্যবসায়ীরা মার্কেট খোলা রাখার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। যথারীতি স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের চিত্র ছিল হতাশাজনক। তবে গণপরিবহন বন্ধ থাতায় কর্মজীবী মানুষের কর্মক্ষেত্রে যাওয়া ভোগান্তি

সরকার ঘোষিত লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে রাজপথে রিকশা-সিএনজিচালিত অটোরিকশা- মোটরবাইকে কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা হন। অনেকে প্রতিষ্ঠানের বাসে যাতায়াত করেছেন। কাউকে কাউকে হেঁটেও রওনা হতে দেখা গেছে বিভিন্ন স্থানে। রাজপথে গণপরিবহন না থাকায় নগরে যানজট- কোলাহল ছিল না। অবশ্য কয়েকটি ক্রসিংয়ে কিছু যানজটের চিত্র চোখে পড়েছে।  যাত্রীবাহী কোনো বাস চলাচল করছে না। যারা বাইরে বের হয়েছেন যাতায়াতের জন্য তারা সিএনজি চালিত অটোরিকশা বা রিকশা ব্যবহার করছেন। অন্যদিকে রাইড শেয়ারিং অ্যাপ বন্ধ থাকলেও চুক্তিভিত্তিক মোটরসাইকেল চলাচল করছে শহরের এই প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে।
সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা থাকলেও উপস্থিতি ছিল কম। ব্যাংকগুলো যথারীতি সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত খোলা ছিল। কিছু শাখায় লেনদেনকারীর ভিড় ছিল বেশি। সেগুলোতে নির্ধারিত সময়ের পরও লেনদেন চলেছে। শপিং মল ও বড় বিপণিবিতানগুলো ছিল বন্ধ।

রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে যানজটেরও সৃষ্টি হয়। কয়েকজন মিলে ভাড়া ভাগাভাগি করে অটোরিকশায় সওয়ার হতে দেখা গেছে। সিএনজি চালকরা জানান, এতে যাত্রীরও লাভ। তাদেরও লাভ। যাত্রীরা অভিযোগ করেন, লকডাউনের কারণে অটোরিকশা ও রিকশাচালকরা ভাড়া তিনগুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন। না গিয়ে তো উপায় নেই। গন্তব্যে তো যেতে হবে। এসব ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি।

এবিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লকডাউনের যেসব নিয়ম ঘোষণা করা হয়েছে তা যথাযথ হয়নি। এতে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে। তাদের ভাষ্য, দোকানপাট-বাজার চালু থাকলে মানুষ যাবে। কলকারখানা, অফিস-আদালত খোলা থাকলে মানুষকে সেখানে কাজে যেতে হবে। আবার বিদেশ থেকে মানুষ আসতে পারবে; সঙ্গে লকডাউনে ছুটির আমেজে কয়েক লাখ মানুষ শহর ছেড়েছেন, তারা যাতায়াত করবেন। ফলে লকডাউনের মাধ্যমে মানুষকে ঘরে রাখার উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। কারণ জনসমাগম এবং মানুষের মধ্যে সংস্পর্শের যথেষ্ট সুযোগ রাখা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, এমন লকডাউন কার্যত কোনো কাজে আসবে না। প্রথম দিন দেখা গেল জনসমাগম হলো, দোকানপাট খোলা ছিল, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য-সামগ্রীর বাজারে মানুষের ভিড়। মানুষ স্বাস্থ্যবিধিও যথাযথভাবে মানেনি। অধিকাংশ মানুষের মুখে মাস্ক ছিল না। এমনকি সড়কেও যানজট হয়েছে। তাহলে লকডাউন কীভাবে হলো? এভাবে চললে সংক্রমণ কমবে না। মানুষকে ঘরে থাকতে হবে। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে। মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধিও। তাহলেই কেবল এই ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে থাকবে। অন্যথায় বিপদ আরও বাড়বে।

সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ আছে। অফিস খোলা রেখে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। দ্বিতীয় দিনেও সেই একই চিত্র দেখা যায়।  

গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর রামপুরা ব্রিজে দাঁড়িয়েছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী জুবায়ের আল হাসান। তিনি বলেন, অফিসের কাজে পল্টন যাব, কিন্তু এক ঘণ্টা হলো অপেক্ষা করছি, সিএনজি, রিকশা, ক্ষ্যাপের মোটরসাইকেলের অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে যেতে পারছি না। অফিস খোলা রেখে লকডাউন বা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলা ছাড়া আর কিছুই না। সাধারণ মানুষের কথা না ভেবে এমন সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো এটা কোনোভাবেই বুঝতে পারছি না। বন্ধ হলে সব কিছুই বন্ধ থাকতে হবে, আমাদের অফিস খোলা কিন্তু যাতায়াতের কোনো ব্যবস্থা নেই, এটা কোনো সিদ্ধান্ত হলো? এদিকে সরকারের কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের দ্বিতীয় দিনেও রাজধানীতে কোনো গণপরিবহণ চলাচল করতে দেখা যায়নি। প্রতিটি মোড়ে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে অফিসগামী বা কাজে বের হওয়া মানুষদের। বাস না চলায় গন্তব্যে পৌঁছাতে মানুষকে নির্ভর করতে হয়েছে মূলত সিএনজি ও রিকশার ওপর। এছাড়া ভাড়া মিটিয়ে অনেকে মোটর সাইকেলেও গেছেন।  অলিগলির দোকানগুলো খোলাই দেখা গেছে। শপিং মলগুলো বন্ধ থাকলেও প্রধান সড়কের পাশের বেশিরভাগ দোকানই খোলা দেখা গেছে। বেচাবিক্রি সবই চলছে এসব দোকানে। 

রাজধানীর নতুন বাজার এলাকায় সাজ্জাত হোসেন নামে একজন বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, এ কেমন নিষেধাজ্ঞা? অফিস খোলা রেখে গণপরিবহন বন্ধ করে দেওয়া সাধারণ মানুষের সঙ্গে রসিকতা ছাড়া আর কিছুই না। সব খোলা রেখে সংক্রমণ এড়ানো কীভাবে সম্ভব? একটু আগে দেখা এলাম পাড়ার চায়ের দোকানে গাদাগাদি করে বসে চা খাচ্ছে, আড্ডা দিচ্ছে। আর গণপরিবহন বন্ধ রেখে, অফিস খোলা রাখার কারণে অফিসের কাজে বের হয়ে আমাদের হেঁটে অথবা দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে সিএনজি বা রিকশায় যেতে হচ্ছে।

দোকান খোলা রাখার দাবি জানিয়ে ব্যবসায়ীর কান্না: মার্কেট খুলে দেওয়ার দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত চাঁদনী চক শপিং কমপ্লেক্সের সামনে বিক্ষোভ করেন ব্যবসায়ী ও দোকানমালিকেরা। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীরা দিনের নির্দিষ্ট একটা সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে মার্কেট খোলা রাখার দাবি জানান। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকারের বিধিনিষেধের কারণে এসব দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কামাল হোসেন নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, সরকার ভাবুক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান না টিকলে দেশও টিকবে না। আমরা নির্দিষ্ট একটা সময় মার্কেট খোলা রাখতে চাই। রমজানে দোকান খোলা না থাকলে কী হবে, জানি না। গত বছরের ক্ষতিই পুষিয়ে উঠতে পারিনি।’ এ কথা বলেই কেঁদে ফেলেন গ্লোব শপিং কমপ্লেক্সের এই ব্যবসায়ী। দিলশাদ আফরিন একজন নারী উদ্যোক্তা। তিনি নারায়ণগঞ্জ থেকে এসেছেন বিক্ষোভে যোগ দিতে। সেখানে তাঁর একটি কাপড়ের কারখানা আছে। দিলশাদ নিউমার্কেট ও চাঁদনী চকের বিভিন্ন দোকানে কাপড় সরবরাহ করেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমার মতো হাজারো নারী উদ্যোক্তা ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে। উদ্যোক্তা হয়েছে। অনেক নারী উদ্যোক্তাই এখন খেয়ে না খেয়ে আছে।’ এ অবস্থায় মার্কেট বন্ধ থাকলে তাঁদের ঋণ শোধ কঠিন হয়ে দাঁড়াবে বলে জানান তিনি। দিলশাদ অভিযোগ করে বলেন, ‘সরকার নাকি নারীদের বিভিন্ন সুবিধা দিচ্ছে। আমরা তো সেসব সুবিধা পাচ্ছি না।’ চাঁদনী চক বিজনেস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন বলেন, গত বছরের সাধারণ ছুটি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ধাক্কা জানুয়ারি মাস থেকে একটু একটু করে সামলে উঠছেন তাঁরা। মনির হোসেন আরও বলেন, ‘আমাদের কাপড়টা পাইকারি বিক্রেতাদের কাছ থেকে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে যাবে। তারপর কাস্টমাররা কিনবেন, তারপর টেইলরের কাছে বানাতে দেবে। আমাদের পিক আওয়ার এখন।

মনির হোসেন জানান, থ্রিপিস এবং অন্যান্য জামা ১০ থেকে ১৫ রোজার পর আর বিক্রি হয় না। কারণ, টেইলরের কাজ থাকে পরে। টেইলর যদি অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দেন, তখন তাঁদের কাপড়ও কেউ কিনবে না। তিনি বলেন, ‘আমরা যে বিনিয়োগ করেছি, সেই টাকা কাপড় প্রস্তুতকারী, ব্যাংকের ঋণ, দোকান ভাড়া, কর্মচারীর বেতন, পারিবারিক খরচ—এগুলোর পেছনে খরচ করা হয়। সব মিলিয়ে আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত। এমনকি আমরা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা রাষ্ট্রীয় প্রণোদনাও পাই না।

এদিকে, বন্দর নগরী চট্রগ্রামেও একইচিত্র। বেলায়েত মিয়া কাজ করেন একটি পোশাক কারখানায়। লকডাউনের প্রথম দিন থেকে শুরু হয়েছে তার কর্মস্থলে যাওয়ার নতুন এক যুদ্ধ।গণপরিবহন বন্ধ থাকায় দ্বিগুণ ভাড়ায় কখনো হেঁটে, কখনো রিকশায় আবার কখনো মিনিট্রাকে চড়ে পৌঁছাতে হয়েছে গন্তব্যে। বেলায়েত বলেন, প্রতিদিন পোশাক কারখানায় এমনিতেই যেতে দুর্ভোগে পড়তে হয়। তার ওপর লকডাউনে যুক্ত হয়েছে বেশি ভাড়ার খড়গ। গণপরিবহন না থাকায় রিকশাই এখন শেষ ভরসা।  

শুধু বেলায়েত নন, গতকাল মঙ্গলবার লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে নগরের বিভিন্ন ব্যস্ততম মোড়ে এমন চিত্রের দেখা মেলে। বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে অপেক্ষমাণ অফিসগামী মানুষের জটলা ছিল বেশি। সড়কে রিকশার পাশাপাশি বেশি চলাচল করতে দেখা গেছে প্রাইভেট গাড়ি।  

বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন বলেন, সাধারণ মানুষের ভালোর জন্য লকডাউন দেওয়া হলেও আদৌও মানুষ মানছে কিনা তা নিয়ে নিবিড় তদারকি নেই। আবার লকডাউন দিয়ে অফিস আদালত খোলা রাখার যৌক্তিকতাও নেই। কর্মস্থলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে যারা বাসা থেকে বের হয়েছেন তাদের কী পরিমাণ ভোগান্তি তা শুধু তারাই জানেন।তিনি বলেন, ভালো ভাবে বেঁচে থাকার জন্য আমরা চাকরি করছি। কিন্তু অফিসে আসা-যাওয়াতে যে পরিমাণ খরচ হচ্ছে এতে মাস শেষে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হবে।  

এদিকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলছে কিনা তা তদারকিতে  গতকাল মঙ্গলবারও মাঠে নামছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল আলম অক্সিজেন এলাকায়, সনিয়া হক কর্ণফুলী সেতু এলাকায় এবং প্রতীক দত্ত নগরের একে খান এলাকায় অভিযান পরিচালনা করবেন বলে জানা গেছে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন

প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।