বৃহস্পতিবার ৬ মে ২০২১ ২৩ বৈশাখ ১৪২৮

বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ
রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ মার্চ, ২০২১, ৯:৩২ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

রফিকুল ইসলাম রতন

রফিকুল ইসলাম রতন

‘যতকাল রবে পদ্মা যমুনা গৌরী মেঘনা বহমান
ততকাল রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান।’

তুমি জন্মেছিলে বলেই জন্মেছে এই দেশ, মুজিব তোমার আরেক নাম স্বাধীন বাংলাদেশ।  মুজিব মানেই বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশ মানেই শেখ মুজিবুর রহমান। একটি নাম ও একটি দেশ যেন সমান্তরাল-সমার্থক। একটিকে ছাড়া অপরটি নিরর্থক। এমন অবিস্মরণীয় দেশ ও নামের মিশ্রণ বিশ্বে আর দ্বিতীয়টি নেই। তাইতো তিনিই আমাদের জাতির পিতা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। বাঙালি জাতি আমৃত্যু তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ। 

বঙ্গবন্ধু মানেই যেন বাংলার মুক্ত আকাশ, অবিরাম মুক্তির সংগ্রাম। বঙ্গবন্ধু মানেই বাঙালি জাতির অস্তিত্ব, বাঙালির ঠিকানা, জাতির আশা-ভরসার স্থল। বঙ্গবন্ধু মানেই ঝড়-ঝঞ্ঝার মাঝে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে সঠিক পথে চলা। বঙ্গবন্ধু মানেই বাঙালির আদর্শ, মৃত্যুঞ্জয়ী চেতনা। বঙ্গবন্ধু মানেই সাম্য-অধিকার-গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, দেশের জনগণের প্রতি মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা। বঙ্গবন্ধু মানেই নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা, অসাম্প্রদায়িক চেতনা আর বাঙালির আলোর দিশারী। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মানেই তো বাংলাদেশ, আমাদের অস্তিত্বের ঠিকানা, লাল-সবুজের পতাকা আর স্বপ্নের সোনার বাংলা।
শেখ লুৎফর রহমান ও সায়েরা খাতুনের কোল আলোকিত করে বাংলার আকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে আবির্ভাব ঘটেছিল এই মহান পুরুষের। এই মুক্তির মহানায়কের হাত ধরেই এসেছে দেশের স্বাধীনতা। কে জানতো সেদিনের সেই ছোট্ট ডানপিটে খোকাই একদিন হবে বিশ্বনন্দিত হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি?

১৭ মার্চ যেন বাংলার স্বাধীন রক্তিম সূর্যের উদয়। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় এই শিশুটির সেদিন জন্ম না হলে বিশ্বের মানচিত্রে আমরা একটি স্বাধীন দেশ পেতাম না।

বঙ্গবন্ধু স্কুলজীবনেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র থাকাকালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যোগদানের কারণে তিনি কারাবরণ করেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা স্বীকৃতির দাবিতে সাধারণ ধর্মঘট চলাকালীন বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২ সালে শিক্ষা কমিশনবিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৬ সালে ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি উত্থাপন, ১৯৭০ সালের নির্বাচন এবং সর্বশেষ ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি তৈরি ও নেতৃত্বদানের মাধ্যমে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতার রক্তিম সূর্যকে ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হন। এটাই সত্য যে, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টি হতো না। সে কারণেই বঙ্গবন্ধুর জন্ম ও জন্মদিনকে আমি বাংলার আকাশে স্বাধীন রক্তিম সূর্যের উদয় বলে মনে করি। তবে বঙ্গবন্ধু শুধু একটি স্বাধীন দেশ দিয়ে যাননি, স্বাধীন বাংলায় গরিব-দুঃখীসহ তার সাড়ে সাত কোটি সন্তান যাতে বিশ্বে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারেন সে ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন। 

বঙ্গবন্ধু আমাদের অসীম সাহসিকতার প্রতীক। তিনি সমগ্র বাঙালি জাতির সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বীর। ক্ষুদিরাম, সূর্যসেন, তিতুমীর, সুভাষ বোস, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জগদীশ চন্দ্র বসু, শেরেবাংলা, সোহরাওয়ার্দী, মওলানা ভাসানীর মতো সাহসী নেতৃত্বের নির্যাস তিনি নিজের মধ্যে ধারণ করতেন। তিনি হয়ে উঠেছিলেন গরিব-দুঃখীসহ সমগ্র বাঙালির সত্যিকারের মহান বীরপুরুষ। বঙ্গবন্ধুর সমগ্র জীবনটাই ছিল সংগ্রামে পরিপূর্ণ। অধিকার আদায়ে আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে বহুবার তিনি জেল খেটেছেন। তার জীবনের ১৪টি বছর জেলের মধ্যেই কেটে গেছে।

মানুষের প্রতি বঙ্গবন্ধুর ভালোবাসা ছিল সীমাহীন। তিনি বাংলাদেশের জনগণকে নিজ সন্তানের মতোই ভালোবাসতেন। ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড ফ্রস্টের ‘আপনার সবচেয়ে বড় যোগ্যতা কী’ এ প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আমি আমার দেশের মানুষকে ভালোবাসি।’ ডেভিড ফ্রস্টের ‘আপনার বড় দুর্বলতাটা কী’- এ প্রশ্নের উত্তরে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আমি আমার দেশের মানুষকে বড় বেশি ভালোবাসি।’ এ কথার মাধ্যমে জনগণের প্রতি জাতির পিতার অকৃত্রিম ভালোবাসা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে জনগণের প্রতি বিশ্বাসেরও বিষয়টিও সুস্পষ্ট। বঙ্গবন্ধুর সমগ্র জীবনটাই ছিল যেন মানুষকে ভালোবাসার। দেশকে ভালোবাসতে হবে, দেশের মানুষকে ভালোবাসতে হবে এটা ছিল বঙ্গবন্ধুর জীবনের অন্যতম দর্শন। তিনি শুধু জনগণকে ভালোই বাসতেন না, বাংলার জনগণকে নিয়ে তিনি গর্ববোধও করতেন। সে কারণেই ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ভাষণে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে কবিগুরুর উদ্দেশে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, কবিগুরুর আক্ষেপকে আমরা মোচন করেছি। বাঙালি জাতি প্রমাণ করে দিয়েছে যে তারা মানুষ, তারা প্রাণ দিতে জানে। এমন কাজ তারা এবার করেছে, যার নজির ইতিহাসে নাই। ‘হে কবিগুরু আপনি এসে দেখে যান, আমার ৭ কোটি বাঙালি আজ মানুষ হয়েছে।’ ঢাকা স্টেডিয়ামে মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র সমর্পণের দিন বঙ্গবন্ধু তার ভাষণে বলেছিলেন, ‘আমি সব ত্যাগ করতে পারি, তোমাদের ভালোবাসা ত্যাগ করতে পারব না।’

জাতির পিতা তার রাজনৈতিক জীবনে প্রায় ৫ হাজার দিন কারাভোগ করেছেন। কিন্তু মানুষের অধিকার ও দেশের স্বাধিকার আন্দোলনে এবং দেশের স্বাধীনতার সংগ্রামে কখনই পিছু হটা তো দূরের কথা বিন্দুমাত্র ভয়ও পাননি। এমনকি মহান মুক্তিযুদ্ধের শেষ সময়ে পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় নির্জন সেলের সামনে কবর খুঁড়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ভয় পাইয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু অসীম সাহসী বাঙালির নেতা শেখ মুজিব ভয় পাননি; বরং পাকিস্তান কর্তৃপক্ষকে বলেছেন, ‘আমি বাঙালি, আমি মুসলমান, আমি মানুষ। মানুষ একবার মরে, বারবার মরে না। আমি কখনই আত্মসমর্পণ করব না। যদি তোমরা আমাকে মেরে ফেল, মৃত্যুর পর, আমার লাশটা আমার দেশে আমার মানুষদের কাছে পৌঁছাইয়া দিও।’ বঙ্গবন্ধুর এমন বক্তব্যের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতার জন্য তার আপসহীন মনোভাব, অসীম দেশপ্রেমের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের অকুতোভয় মৃত্যুঞ্জয়ী মহান বীরের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বাঙালি জাতির জন্য রেখে গেছেন। বঙ্গবন্ধু আমাদের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতীক। বাংলার খোকা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গোপালগঞ্জ ডিঙিয়ে কলকাতা ও ঢাকা ছাপিয়ে সমগ্র বিশ্বের বঞ্চিত-নিপীড়িত মানুষের হৃদয়ে আসন করে নিয়েছেন। বিশ্বখ্যাত কিউবার সংগ্রামী নেতা ফিদেল ক্যাস্ত্রো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে দেখে বলেছিলেন, ‘আমি হিমালয় দেখিনি, হিমালয়সম মুজিবুর রহমানকে দেখলাম।

জাতিসংঘের ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড ডকুমেন্টারি হেরিটেজের অংশ হিসেবে অর্থাৎ বিশ্ব ঐতিহ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ সাড়ে সাত কোটি বাঙালিকে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে মন্ত্রমুগ্ধের মতো উদ্বুদ্ধ করেছিল। বিশ্বের ইতিহাসে এমন ভাষণ আর দ্বিতীয়টি নেই। বঙ্গবন্ধুর মতো এমন নেতা ও নেতৃত্ব বিশ্বের ইতিহাসে সত্যিই বিরল।

একজন মানুষের মধ্যে যত ধরনের গুণাবলি থাকা সম্ভব, বঙ্গবন্ধুর মাঝে তার সবগুলোই ছিল; যে কারণে বঙ্গবন্ধু আজও আমাদের মাঝে উজ্জ্বল, চিরভাস্বর ও স্ব-মহিমায় উদ্ভাসিত। ক্ষমা, দয়া ও দানশীলতা বঙ্গবন্ধুর অন্যতম মহৎ গুণ। বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠে ছিল ঐন্দ্রজালিক মহাশক্তি। তিনি সফল স্বপ্নদ্রষ্টা, রাজনীতির মহান কবি; তার ভাষণে ছিল অমৃতময় কাব্যিক ব্যঞ্জনা, বাংলা ভাষণে একজন অপ্রতিদ্বন্দ্বী বাগ্মী। তিনি বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রবর্তক, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও বাঙালি জাতির পিতা। বঙ্গবন্ধু ছিলেন সাম্যবাদী, শোষণবিরোধী এবং সুষম অর্থনীতিতে বিশ্বাসী।

সাদাসিধে জীবনযাপন ছিল বঙ্গবন্ধুর অন্যতম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। বঙ্গবন্ধু ছিলেন বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের চেতনার মূর্ত প্রতীক। নীতির ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন আপসহীন। বঙ্গবন্ধু ছিলেন কোমল হৃদয় ও অসীম সহ্য ক্ষমতার অধিকারী। ত্যাগী ও সংগ্রামী নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধুর তুলনা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। বঙ্গবন্ধুর চিন্তা-চেতনায় সব সময় ছিল তার দেশের জনগণের ও বিশ্বের মানুষের উন্নতি ও কল্যাণ। বঙ্গবন্ধুর অন্যতম মহৎ গুণ ছিল সাধারণ মানুষের প্রতি সীমাহীন ভালোবাসা। তিনি ছিলেন একজন খাঁটি বাঙালি। নিজের ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি বঙ্গবন্ধুর ভালোবাসা ছিল প্রবল। দেশকে তিনি নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসতেন। মানুষের প্রতি বঙ্গবন্ধুর ছিল অবিচল বিশ্বাস। তিনি ছিলেন বিশ্বের মানবতাবাদী ও শান্তিকামী মানুষের আদর্শ। নেতৃত্বের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু ছিলেন অসাধারণ ও তার নেতৃত্বে মন্ত্রমুগ্ধের মতো জাদুকরি শক্তি ছিল। সে কারণেই বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এবং নিজের জীবন বিলিয়ে দিতে একটুও ভাবেননি। নেতৃত্বের উচ্চতায় ও চরিত্রের দৃঢ়তায় রাষ্ট্রনায়ক জননেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে আর কারও তুলনা করা যায় না বলেই আমি মনে করি। বঙ্গবন্ধু এমন একজন অসাধারণ ব্যক্তিত্ব; যিনি ত্যাগের মহিমা ও দেশপ্রেমের কঠিন পরীক্ষায় সম্পূর্ণরূপে উত্তীর্ণ।

তিনি বাঙালির প্রাণের প্রদীপ ও বাংলার আকাশের স্বাধীনতার উজ্জ্বল নক্ষত্র। বঙ্গবন্ধুই বাঙালির ইতিহাস, সমগ্র বাঙালি জাতি তার কাছে চিরঋণী। তাই আবারও জোর দিয়ে বলতে চাই- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্বের বিরল নেতৃত্ব, বিশ্ব নেতা; হাজারও গুণে গুণান্বিত আমাদের জাতির পিতা। বঙ্গবন্ধুর হৃদয় ছিল আকাশের মতো বিশাল। ব্যক্তিত্বে তিনি ছিলেন হিমালয় পর্বতের চেয়েও উঁচু। সে কারণেই বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করায় সমগ্র বাঙালি জাতির হৃদয় ক্ষতবিক্ষত হয়েছে ঠিকই কিন্তু মুজিব আদর্শ ও চেতনাকে তারা এক মুহূর্তের জন্যও ভুলে যায়নি। ইতিহাসের নির্মাতা, গরিব-দুঃখী-কাঙাল বাঙালির স্বপ্নের বীরপুরুষ বঙ্গবন্ধু আজও আমাদের ভালোবাসা ও ভরসার কেন্দ্রবিন্দু।

এ দেশের লাখো কোটি শ্রমিক, কৃষক, গরিব মানুষ বঙ্গবন্ধুর জন্য আজো নীরবে নিভৃতে কাঁদেন। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়, বঙ্গবন্ধুর প্রতি সাধারণ বাঙালির ভালোবাসা কতটা শক্তিশালী। কোনো মানুষই চিরকাল বেঁচে থাকবে না। তবে সমগ্র বাঙালির মাঝে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ চিরদিনই বেঁচে থাকবে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অন্যতম বিষয় হলো অসাম্প্রদায়িকতা ও উন্নয়ন; কৃষক-শ্রমিকসহ সবাই মিলে একটি সমতাভিত্তিক সোনার বাংলা গড়ে তোলা। বর্তমান প্রজন্মসহ সমগ্র দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা সেই লক্ষ্য পূরণেই দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছেন।

জাতির পিতাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করার মধ্য দিয়ে বাঙালির সত্তাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে। স্বাধীনতাবিরোধী, কুচক্রী-যড়যন্ত্রকারীদের সেই অভিলাষ পূরণ হয়নি। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড বাঙালি জাতির হৃদয়কে ক্ষতবিক্ষত করেছে। কারণ জাতির পিতা ছিলেন ধর্মীয় চেতনায় একজন সত্যিকারের মুসলমান, তিনি ছিলেন সমাজসেবী, ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী, ছিলেন জনদরদি, সাদা মনের সহজ-সরল মানুষ, ছিলেন আদর্শবান সংগ্রামী জননেতা। এর মধ্য দিয়েই প্রমাণিত হয়, বিশ্ব নেতা, বিরল নেতৃত্বের অধিকারী জাতির পিতাকে কুচক্রীমহল যে হীন উদ্দেশ্যে হত্যা করেছিল, তাদের সেই উদ্দেশ্য পূরণ হয়নি এবং ঘাতকরা সফল হয়নি; বরং বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের রক্তের ঋণ শোধ করতে বর্তমান সময়ে বাংলার কোটি কোটি জনতা নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রস্তুত রয়েছে। যদিও বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের রক্তের ঋণ, যা বাঙালি জাতি কোনোদিনই শোধ করতে পারবে না।

বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘সোনার বাংলা গড়তে চাইলে সোনার মানুষের দরকার। তাহলেই সোনার বাংলা গড়তে পারব। বঙ্গবন্ধু আরও বলেছিলেন, ‘ভাইয়েরা বোনেরা আমার, দেশে একদল লোক সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। জীবনভর আমি সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছি। স্বাধীতার জন্য এ দেশের মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে। রক্ত দিয়েছে একটা আদর্শের জন্য। জাতীয়তাবাদ, তোমরা বিশ্বাস কর এটা হলো, আমি বাঙালি, বাংলা আমার ভাষা, বাংলার কৃষ্টি, বাংলার সভ্যতা, বাংলার ইতিহাস, বাংলার মাটি, বাংলার আকাশ, বাংলার আবহাওয়া, তাই নিয়ে বাংলার জাতীয়তাবাদ। আমি সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করি, তা তোমরাও কর। শোষণহীন সমাজ, সুষম বণ্টন, সম্পদের মালিক জনগণ- তোমরা তা বিশ্বাস কর। এ লক্ষ্যে পৌঁছবার কোনো শর্টকাট রাস্তা নেই। আস্তে আস্তে যেতে হবে।’

বঙ্গবন্ধুর এ কথার প্রয়োজনীয়তা ২০২০ সাল অর্থাৎ মুজিবশতবর্ষে আরও বেশি প্রযোজ্য- বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে আমাদের সবাইকে সোনার মানুষ হতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে উগ্র সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে। আমি আরও মনে করি, মুজিব শতবর্ষ হলো- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে মুজিব আদর্শ বাস্তবায়নের বছর। কারণ দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতীক, ভাগ্য পরিবর্তনের নির্মাতা, দেশের উন্নয়নের রূপকার, বাংলার আকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্র, মাদার অব হিউম্যানিটি, বিশ্বনন্দিত নেতা, দেশরত্ন শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার মাধ্যমেই বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়া ও মুজিব আদর্শ বাস্তবায়ন সম্ভব।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন

প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।