বৃহস্পতিবার ৬ মে ২০২১ ২৩ বৈশাখ ১৪২৮

মশার উপদ্রব থেকে নগরবাসী বাঁচবে কবে
কে এম মোস্তাক আহম্মেদ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ মার্চ, ২০২১, ৫:১৯ পিএম আপডেট: ১৬.০৩.২০২১ ৬:০২ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

কে এম মোস্তাক আহম্মেদ

কে এম মোস্তাক আহম্মেদ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মশা নিয়ে বইছে সমালোচনার ঝড়। মশা নিয়ন্ত্রণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ধুপ জ্বালানোর কথাও শোনা গেছে। মশা নিয়ে শুধু নাগরিকরাই নন, অভিযোগ করেছেন সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও মশক নিধনে নিয়োজিত ব্যক্তিরাও। অনেকে আবার সিটি করপোরেশনের ছিটানো ওষুধ পরীক্ষার দাবিও জানিয়েছেন। নগর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিসেম্বর থেকে মার্চ কিউলেকস মশার প্রজনন মৌসুম। প্রতি বছরের এ সময় মশার আধিক্য দেখা যায়। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খুব দ্রুত মশা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়াসহ মশাবাহিত রোগ ভয়াবহ আকারে ছড়াতে বেশি সময় লাগবে না। রাজধানীর উত্তর সিটি করপোরেশনে বসবাস করেন তানজিরুল বাশার। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। খুব অতিষ্ঠ হয়ে ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘মশার জ্বালায় আর বাঁচি না।’ গ্রিন রোডের বাসিন্দা নাজমুস সাকিবের পরিবারের পাঁচজনেরই চিকুনগুনিয়া হয়েছিল। তার মা এখনো চিকুনগুনিয়ার সমস্যায় ভুগছেন। মশার প্রকোপ বাড়ায় বেশ চিন্তায় আছে পরিবারটি। তানজিরুল বাশার ও নাজমুস সাকিবের মতো রাজধানীর বেশ কয়েকজনের সঙ্গে ফোনে কথা বলে জানা গেছে, তারাও মশার উপদ্রবে রয়েছেন এবং মশাবাহী রোগে ভুগছেন। মশা বেড়ে যাওয়ায় সিটি করপোরেশনের প্রতি নানান অভিযোগ করছেন তারা। তাদের দাবি, যে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে, তা কোনো কাজ করে না। শুধু জনগণকে দেখানোর জন্যই এসব করা হচ্ছে। 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রিউম্যাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিনহাজ রহিম চৌধুরী বলেন, ‘শহরবাসী কিন্তু বিপদমুক্ত নয়। মশা বাড়ছেই। এখনই প্রতিরোধ না করা হলে পুনরায় বড় ধরনের স্বাস্থ্যগত সমস্যা হতে পারে। মশা থেকে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়ার পাশাপাশি মানুষ জিকা ভাইরাসেও আক্রান্ত হতে পারে।’ বছরের অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে ঢাকায় কিউলেকস মশা বেড়েছে প্রায় চারগুণ। আগে যেখানে প্রতি ডিপ-এ (মশার ঘনত্ব বের করার পরিমাপক) মশার ঘনত্ব ছিল ১০ থেকে ১৫টি, সেখানে এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০টির মতো। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় জরিপ চালিয়ে এ তথ্য জানান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। মশা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে কীটতত্ত্ববিদরা সিটি করপোরেশনের অবহেলা ও অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসকে দায়ী করেছেন। কীটত্ত্ববিদ খায়রুল বাশার বলেন, ‘যদি প্রতিটি ওয়ার্ডে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম নেওয়া হয়, তাহলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। তবে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রকৃতির ওপর ভরসা করা ছাড়া কিছুই করার নেই।’

দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৮৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল করিম সিটি করপোরেশনের প্রতি নানান অভিযোগ এনে বলেন, ‘এই ওয়ার্ডে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের ওষুধ ছিটাতে দেখিনি; অথচ একটু সন্ধ্যা নামলেই মশার যন্ত্রণায় বাইরে তো নয়ই, ঘরের ভেতরেও থাকা যায় না।’ তিনি আরও বলেন, ‘যদি সিটি করপোরেশন আগে থেকেই কিছু উদ্যোগ নিত, তাহলে মশা এত বেড়ে যেত না।’ সিটি করপোরেশনের ভূমিকা নিয়ে মেয়র বরাবর চিঠি দিচ্ছেন কাউন্সিলররা। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজি মো. ইব্রাহিম মেয়রকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তিনি বলেন, তার ওয়ার্ডের জন্য সিটি করপোরেশনের বরাদ্দকৃত মশার ওষুধ প্রতিদিন ছিটানো হচ্ছে; কিন্তু কাজ হচ্ছে না। একই অভিযোগ করে ৮৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাহানা আক্তার জানান, ‘মেয়র বরাবর আবেদন করেছি। যাতে প্রতিদিন আমার ওয়ার্ডে মশার ওষুধ ছিটানো হয়; কিন্তু আবেদনের ১০ দিন পার হয়ে গেলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ও মশা গবেষক ড. কবিরুল বাশার নতুন কীটনাশকেও মশা নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনা দেখছেন না। তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরে এখনো এত বেশি ছোট ছোট বদ্ধ জলাশয় রয়েছে, যেগুলো আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সুতরাং সে সব জায়গা থেকে মশা বৃদ্ধি পায়, বিস্তার লাভ করে, প্রজনন ছড়ায়, সেসব জায়গায় মশার বংশবিস্তার আগে রোধ করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জরুরি পদক্ষেপ না নিলে মার্চের পর থেকে আরও বাড়তে থাকবে। ডিসেম্বরেই মিডিয়াকে বলেছিলাম, মার্চ মাস নাগাদ মশার পরিমাণ বেড়ে যাবে এবং বাড়তেই থাকবে। এখন মশার অবস্থা খুবই খারাপ। ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত মশার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। এগুলো কিউলেকস মশা।’

তবে আশার কথা শুনিয়ে তিনি বলেন, ‘মশা নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব অনেক। যদি তারা নিজেদের দায়িত্ব বোঝে এবং সে অনুযায়ী কাজ করে, তাহলে হয়তো মশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বিশেষ করে, যদি ডোবা-নালা বা ড্রেনগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়, পানির ফ্লো চলমান থাকে এবং লার্ভিসাইড ও অ্যাডাল্টিসাইড একযোগে প্রত্যেক ওয়ার্ডে ছিটানো হয়, তাহলে হয়তো কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে; কিন্তু পুরোটা নিয়ন্ত্রণে আসবে না। কারণ, মশার ঘনত্ব অনেক বেড়ে গেছে।’

ড. বাশার আরও বলেন, ‘মশার রয়েছে দুটি ধাপ। একটি লার্ভার ধাপ, যা পানিতে থাকে। অন্যটি পূর্ণাঙ্গ, যা উড়ন্ত মশা। গবেষণার ক্ষেত্রে আমরা এসব মশার ডেল সিটি ইনডেক্স বের করি। লার্ভার ডেল সিটি ইনডেক্সের ক্ষেত্রে ডিভাইস দিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে পানি নিয়ে এর সংখ্যা হিসাব করি। গড় বের করে দেখি, প্রতি ডিপে মশার সংখ্যা কত। সেখানে আমরা এপ্রিলের পর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পেয়েছি গড়ে ১৫ থেকে ২০টি মশা। এখন গড়ে প্রতি ডিপে পাচ্ছি ৬০টি। প্রায় চারগুণ বেশি। অর্থাৎ এ মুহূর্তে চারগুণ বেশি মশা রয়েছে বছরের অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায়।’ অন্য পদ্ধতিতে পরিমাপের বিষয়ে এ গবেষক বলেন, ‘এডাল্ট ঘনত্বের ক্ষেত্রে একজন মানুষকে আমরা কোনো একটি স্থানে বসাই। এরপর নিচ থেকে হাঁটু এবং হাত পর্যন্ত খুলে দেই। তখন দেখি বাইট রেট কত হলো, সেটি গড় করি। এটিকে বলে হিউম্যান ল্যান্ডিং ক্যাচ। অর্থাৎ প্রতি ঘণ্টায় মানুষের ওপর কতটি মশা ল্যান্ড করে। এটিও বৈজ্ঞানিক উপায়ে মশার ঘনত্ব পরিমাপক। এই পরীক্ষায়ও দেখা গেছে, অন্য সময়ের চেয়ে মশার পরিমাণ চারগুণ বেড়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বাসা-বাড়ি কিংবা রাস্তা-ঘাটে পড়ে থাকা পাত্রে বা পানি জমতে পাড়ে এমন পাত্রগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার অভিযান এপ্রিলের আগেই শুরু করা দরকার। বৃষ্টির পূর্বে এ ধরনের অভিযান শুরু করতে পারলে, চলতি বছর ডেঙ্গু থেকে অনেকটাই মুক্ত থাকতে পারবে নগরবাসী।

সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘মশার ওষুধ বা কীটনাশকের মান যেন ঠিক থাকে, সে জন্য আমরা বারবার পরীক্ষা করাই। আর দীর্ঘদিন যদি কোনো কীটনাশক বারবার ব্যবহার করা হয়, তখন তাতে মশক সহনশীল হয়ে যায়। পরিস্থিতি উন্নয়নে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন কীটনাশক আনা হবে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে যে কীটনাশক প্রয়োগে সুফল পাওয়া গেছে, কিউলেকস মশার জন্য তা কার্যকর হয় না। সে জন্য কীটনাশকের পরিবর্তন করছি। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন কীটনাশক চলে আসবে। সেটি আমরা কিউলেকস মশার জন্য ব্যবহার করব। মশার উপদ্রব বাড়ার যে অভিযোগ আসছে, সেটিরও নিরসন করা হবে।’

তবে এ বিষয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেন ড. কবিরুল বাশার। তিনি বলেন, ‘কীটনাশক পরিবর্তন করলে মশক পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে, ব্যাপারটা এমন না। কীটনাশক দিয়ে পুরো জায়গা দিয়ে ক্র্যাশ করতে হবে। মানে যত জায়গায় মশা জন্মায়, সবখানে কীটনাশক দিতে হবে। যদি মশা জন্মানো, ডিম পাড়া কিংবা মশার আবাসস্থলে একযোগে লার্ভিসাইড ও অ্যাডাল্টিসাইড ছিটানো হয়, তাহলে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। সেটি আমাদের এখন যে কীটনাশক আছে, তা দিয়েও সম্ভব।’

উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজাও মশা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘মশা বেড়েছে সত্য। তবে বিগত সময়ে আমরা কয়েকবার চিরুনি অভিযান চালিয়েছি। এখনো বিশেষ অভিযান চলছে।’

মশার ওষুধের গুণগত মান সম্পর্কে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী বলেন, ‘মশার ওষুধ আমরা পরীক্ষা করি না। কাজটি করে আইইডিসিআর, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারের প্ল্যান্ট প্রটেকশন। তারা যে ওষুধ সার্টিফায়েড করে আমরা সেটিই ব্যবহার করি।’

উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা বলেন, ‘আমরা সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম মনিটরিংয়ের পাশাপাশি ওষুধের গুণগত মান পরীক্ষা করছি। বলা যায়, গুরুত্বের সঙ্গেই মশার উপদ্রব রোধে কাজ করে যাচ্ছি। পাশাপাশি বিভিন্ন খাল ও ড্রেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে, যাতে মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস হয়। আশা করছি, শিগগিরই মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে আসবে।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মীর মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘মশা নিয়ন্ত্রণে ইতিমধ্যে একটি ক্রাশ কর্মসূচি চালানো হয়েছে, যেখানে একটি অঞ্চলে ডিএসসিসির সব লোকবল একসঙ্গে কাজ করেছে। প্রয়োজন হলে আরও বাড়তি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ মশার প্রকোপ নিয়ে জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাকির হাসান বলেন, ‘নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি মশা নিয়ন্ত্রণে গত অক্টোবর ও নভেম্বরে বিশেষ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এতে মশা নিয়ন্ত্রণে ওষুধ ছিটানোর পরিমাণ দ্বিগুণ করা হয়; কিন্তু কাক্সিক্ষত ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, নালাগুলো অপরিষ্কার। আবার অনেক মানুষ সচেতন নন।’ এর পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়হীনতাকেও একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

লেখক: সাংবাদিক


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন

প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।