রোববার ১৬ মে ২০২১ ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

তিতুমীর কলেজ বিতর্ক ক্লাব নিয়ে নানা অভিযোগ
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ৭ মার্চ, ২০২১, ৫:২৪ পিএম আপডেট: ০৭.০৩.২০২১ ৫:৪৪ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

তিতুমীর কলেজ বিতর্ক ক্লাব নিয়ে নানা  অভিযোগ

তিতুমীর কলেজ বিতর্ক ক্লাব নিয়ে নানা অভিযোগ


৬৩ হাজার শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখরিত থাকে রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজ। বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী থাকায় প্রতিষ্ঠানটিতে তৈরি হয়েছে অনেকগুলো সহ-শিক্ষামূলক সংগঠন। তবে স্রোতের বিপরীতে চলে বরাবরই আলোচনায় রয়েছে তিতুমীর কলেজের বিতর্ক ক্লাব। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর নানা আয়োজন সামনে আসায় খোদ দায়িক্তপ্রাপ্তরায় অভিযোগ তুলছেন অনেকে।

ঠিক ৪ বছর আগে  উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের  ১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থী মাহবুব হাসান রিপনের হাত ধরে পুনঃপ্রতিষ্ঠা পায় তিতুমীর কলেজে বিতর্ক ক্লাব। সফলতায় পথ মাড়ানো হলেও আর্থিক অসচ্ছতা ও সভাপতির একক আধিপত্য ধরে রাখার নানা অপকৌশল বিতর্ক রয়েছে তার উপর।

এছাড়া ৪ বছর আগে কলেজ থেকে অনুমতি পাওয়া সহ-শিক্ষামূলক সংগঠনটি প্রথম অনুমোদিত সংগঠন বলে দাবি করায় অন্যন্য সংগঠনের মধ্যেও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠাকালীন বেশ কয়েকজন সদস্য আর্থিক অনিয়ম, নিয়ম বহির্ভূত সভাপতির ইচ্ছেমতো সংগঠন পরিচালনার অভিযোগে ক্লাবটি ছেড়ে গেছে বেশ কয়েকজন সদস্য। যার মধ্যে রয়েছে সহ সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সাধারণ সদস্য।

সূত্র জানায়, আজ প্রতিষ্ঠার ৪ বছর পূর্ণ করে ৫ বছরে পা দিয়েছে সরকারি তিতুমীর কলেজ বিতর্ক ক্লাব। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সফলতার সাথে বেশ কিছু ইস্যুতে বিতর্কিত হয়ে আসছে সংগঠনটি। খোদ সভাপতির একক আধিপত্যের অভিযোগ জানান বিতর্ক ক্লাবের সিনিয়র সদস্যরা। এই আধিপত্য কাজে লাগিয়েই নির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা প্রণয়ন করেননি তিনি। সভাপতির পদ টিকিয়ে রাখতে নির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরীতে কালক্ষেপণ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, অর্থনৈতিক অস্বচ্ছতা, মনগড়া সিদ্ধান্তের ওপর ক্লাব পরিচালনা করছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র সহ-সভাপতি জাবেদ ইকবালও পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এতে তিনি সংগঠনের সভাপতি মো: মাহবুব হাসান রিপনের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারীতার অভিযোগ তুলে বেশ কিছু অনিয়মের উল্লেখ করেন। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি অভিযোগ হলো কর্মশালা হতে প্রাপ্ত অর্থের ৫০ শতাংশ নিয়মবহির্ভূতভাবে সভাপতির নিয়ে নেওয়া। এছাড়া সভাপতির প্ররোচনায় জুনিয়র সদস্য দ্বারা হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন জাবেদ ইকবাল৷ এছাড়া সংগঠনটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাসনাইন, সিনিয়র সদস্য ইশতিয়াক খান অয়ন, মেহজাবীন, মোঃ রাশিদ , সাইফুল ইসলাম রাঁজসহ অনেক সদস্য সভাপতির বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারীতার অভিযোগ তুলে সংগঠন থেকে সরে দাড়িয়েছেন বলে কার্যনির্বাহী কমিটির একজন সিনিয়র সদস্য নিশ্চিত করেছেন।

সংগঠনটির ৪র্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নানা অসংগতি তুলে ধরে একটি স্টাটাস দিয়েছেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা মোঃ হাসনাইন।

তিনি লিখেন “ক্লাব প্রতিষ্ঠার পর ৫ বছর কেটে গেলেও আমাদের আরো বড় সফলতা থাকতে পারতো। সাংগঠনিক কিছু দুর্বলতা, সংবিধান ছাড়া সংগঠন চালিয়ে নেওয়া, সংগঠনকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়া, সংগঠনটিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য বাঁধা সৃষ্টি করছে। এই সমস্যা গুলোর সমাধান খুব বেশি জরুরি হয়ে দাড়িয়েছে”।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্লাবের সাবেক একজন সহ-প্রতিষ্ঠাতা বলেন “মাহবুব ক্লাবকে ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত নিজের স্বার্থ হাসিল করে চলেছে। ক্লাবের সদস্যদের এনডিএফ বিডিতে কাজ করারনোর লোভ দেখিয়ে নানাভাবে পরিশ্রম করাচ্ছে। নিজের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য আমাদের মতো প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের ক্লাব থেকে সরিয়ে দিয়েছে।”

এছাড়া ব্যক্তিগত দ্বন্দের জেরে ক্লাবের মেসেঞ্জার গ্রুপ থেকে বেশ কিছু সদস্যকে রিমুভ করার অভিযোগ করেন তিনি।

সভাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে করোনাকালীন সময়ে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম নিয়েও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কার্যনির্বাহী কমিটির একজন সদস্যের দাবি মানবিক সহায়তা কার্যক্রম থেকে পাওয়া অর্থের আয়-ব্যয়ের সুষ্ঠু হিসাব দিতে পারেননি তিনি। কালেকশনকৃত অর্থের একটি অংশ শিক্ষা ঋনের নামে কাছের লোকজনকে দেওয়ার কথাও জানান তিনি। তার দাবি সভাপতির সাথে প্রেমের গুঞ্জন রয়েছে এমন একজন কার্যনির্বাহী সদস্যকে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের টাকা দিয়ে মোবাইল কিনে দিয়েছেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগের অধিকাংশই অস্বীকার করেন সভাপতি মো: মাহবুব হাসান। জাবেদ ইকবালের পদত্যাগপত্রের ব্যাপারে তিনি বলেন “সিনিয়র সহ-সভাপতি অব্যাহতি পত্র জমা দিয়েছেন প্রতিষ্ঠাতা বরাবর, সভাপতি বরাবর দেননি। তাই ওনার অব্যাহতি পত্র গ্রহণ করা হয়নি”।

যদিও মাহবুব হাসান রিপন নিজেকে প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হিসেবে দাবি করে থাকেন। কর্মশালা হতে প্রাপ্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন “আমি ক্লাবের প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে অনেককে বিতর্ক শিখিয়ে আসছি। এমনকি বিভিন্ন সংগঠনে যারা আছে তাদেরকেও আমি বিতর্ক শিখিয়েছি, কাজেই বিতর্ক শিখিয়ে টাকা নেওয়া এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়”।

তবে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের টাকার বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

সামগ্রিক অভিযোগের বিষয়ে বিতর্ক ক্লাবের মডারেটর ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালমা মুক্তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি এসব বিষয়ে অবগত নন বলে জানান।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন

প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।