বুধবার ১৪ এপ্রিল ২০২১ ৩০ চৈত্র ১৪২৭

খাদ্যশস্যের উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ
প্রকাশ: বুধবার, ৩ মার্চ, ২০২১, ১২:৪৮ এএম | অনলাইন সংস্করণ

খাদ্যশস্যের উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ

খাদ্যশস্যের উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষি উৎপাদনে আরও সফলতা অর্জনের কথা জানিয়ে মানুষের যাতে খাদ্য সংকট না হয় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। তাই কৃষি উৎপাদন বিঘ্নিত এবং মানুষের যেন খাদ্য সমস্যা না হয় সেই নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। করোনাকালে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হলে খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে সেই আশঙ্কায় প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে দিয়েছেন। আমরা মনে করি, সঠিক সময়ে তিনি সঠিক দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। কারণ আমাদের দেশ কৃষিপ্রধান। এদেশের ৮০ ভাগ মানুষ এখনো কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কাজেই কৃষির উৎপাদন ব্যাহত হলে তার নেতিবাচক প্রভাব যে গোটা জাতির ওপর পড়বে সেকথা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, করোনাকালে সারাবিশ্বে যেখানে অর্থনীতি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে, সেখানে আমরা যেভাবে অর্থনীতিকে চালু রেখেছি, সেটা বজায় রাখতে হবে। আমাদের এখন গুরুত্ব দিতে হবে যে, খাদ্য উৎপাদন, মানুষকে খাদ্য সরবরাহ, সেজন্য অর্থসংস্থান রাখার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। 

আমরা জানি, খাদ্যশস্য উৎপাদনের দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশ ১১তম অবস্থানে রয়েছে। ২০১৭ সালে চীনের মোট খাদ্যশস্য উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৬১ কোটি ৭০ লাখ টন। বিশ্বে যত খাদ্য উৎপাদন হয়, তার ২০ দশমিক ৭৫ শতাংশই উৎপাদন হয় এই দেশটিতে। শীর্ষ পাঁচ দেশের তালিকায় অন্যরা হলো যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, রাশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। বিশ্বের মোট খাদ্যশস্য উৎপাদনে এই পাঁচ দেশের অংশ অর্ধেকেরও বেশি, ৫৪ দশমিক ২ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের মোট উৎপাদন ৪৭ কোটি ৬০ লাখ টন। তৃতীয় স্থানে থাকলেও ভারতের উৎপাদন এর প্রায় অর্ধেক, ২৯ কোটি ৭৮ লাখ টন। রাশিয়ার আরও কম, ১১ কোটি ৭৭ লাখ টন। আর ইন্দোনেশিয়ার ১০ কোটি ৩০ লাখ টন। এরপরের পাঁচ দেশের মধ্যে ব্রাজিলের খাদ্যশস্য উৎপাদনের পরিমাণ ৮ কোটি ৪২ লাখ টন। ইউক্রেনের ৬ কোটি ৫২ লাখ টন। আর্জেন্টিনার ৬ কোটি ১১ লাখ টন। কানাডার ৫ কোটি ৮৮ লাখ টন। এবং ফ্রান্সের উৎপাদন ৫ কোটি ৪৭ লাখ টন। ধান বিশ্বে গড় উৎপাদনশীলতা প্রায় তিন টন, আর বাংলাদেশে তা ৪ দশমিক ১৫ টন। তা ছাড়া এক কোটি নয় লাখ টন আলু উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায়। সাড়ে ১০ লাখ টন আম উৎপাদনের মাধ্যমে বিশ্বে নবম স্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশ। তা ছাড়া হেক্টরপ্রতি ভুট্টা উৎপাদনে বৈশ্বিক গড় ৫ দশমিক ১২ টন। বাংলাদেশে এ হার ৬ দশমিক ৯৮ টন। খাদ্যশস্যে প্রতি হেক্টরে ১০ দশমিক ৩৪ টন উৎপাদন করে বাংলাদেশের ওপরে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের পরে রয়েছে আর্জেন্টিনা, চীন ও ব্রাজিল। বাংলাদেশ এখন চাল, আলু, ভুট্টা, মাছ ও সবজিসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য রপ্তানি করছে। 

বাংলাদেশের ১১তম অবস্থানে থাকায় উৎপাদন ৫ কোটি ৪২ লাখ ৬২ হাজার টন। এরপরের পাঁচটি দেশ হচ্ছে ভিয়েতনাম, জার্মানি, পাকিস্তান ও মেক্সিকো। এর মধ্যে ভিয়েতনামের উৎপাদন ৪ কোটি ৮৪ লাখ টন, জার্মানির ৪ কোটি ৫৪ লাখ টন, পাকিস্তানের ৪ কোটি ২৬ লাখ টন এবং মেক্সিকোর ৩ কোটি ৮৫ লাখ টন। এসব তথ্য এক জায়গায় করে এই তালিকা প্রকাশ করেছে দ্য ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্ট ইউনিট। 

বাংলাদেশে বর্তমানে এক কোটি ৬২ লাখ কৃষক পরিবার রয়েছে। এসব কৃষক পরিবার নানা ধরনের খাদ্য উৎপাদন দিয়ে সফলতা অর্জন করছে। প্রতি বছরই তারা বাম্পার ফলন দেয়ার গৌরব অর্জন করছে। খাদ্যশস্যে উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। ফলে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে অনেক খাদ্যপণ্য বিদেশেও রপ্তানি করা হয়ে থাকে। তারপরও আমাদের কৃষক পরিবারের অভাব মোচন হয় না। আমাদের কৃষক সর্বদাই হচ্ছে নিষ্পেষিত ও বঞ্চিত। চড়া দামে কৃষি উপকরণ ক্রয় করে উৎপাদন দিয়ে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কৃষক। কৃষকের এই দৈন্য নিরসন হওয়া জরুরি বলে আমরা মনে করি। 

আমরা চাই, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করুক বাংলাদেশ। কারণ আমাদের উৎপাদন বাড়ানো ছাড়া খাদ্যের সংকট মোচন করা সম্ভব নয়। এজন্য কৃষকের প্রতি নজর দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, কৃষি ও কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। অথব এই বিষয়টি আমরা জেনেও মেনে চলি না। এ লক্ষ্যে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণসহ কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে হবে। তবেই কৃষক উৎপাদন বাড়াতে উৎসাহিত হবেন। মধ্যস্বত্বভোগীদের কারসাজি থেকে কৃষকের রক্ষা করতে হবে। এ লক্ষ্যে নিতে হবে সরকারিভাবে জোরালো উদ্যোগ। তবেই কৃষক বেশি বেশি উৎপাদন দিতে আগ্রহী হবে। তবেই কৃষি উৎপাদন বাড়বে বলে আমরা আশা করতে পারি। তখনই কৃষি উৎপাদনে সফলতা আসবে। সেই লক্ষ্যে সরকার জোরালো পদক্ষেপ নিবে সেটাই আমাদের প্রত্যাশ ও দাবি। 

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন

প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।