বুধবার ১৪ এপ্রিল ২০২১ ৩০ চৈত্র ১৪২৭

দেশে ভোটার এখন ১১ কোটি ১৭ লাখ
ভোটার হওয়ার উৎসবে তরুণ-তরুণীরা
নতুন যুক্ত হলেন ১৯ লাখ ১৮ হাজার ৫৬ জন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ৩ মার্চ, ২০২১, ১২:০৯ এএম | অনলাইন সংস্করণ

সংগৃহীত ছবি।

সংগৃহীত ছবি।

তরুণ-তরুণীদের তাৎক্ষণিকভাবে ভোটার হওয়ার সুযোগ করে দিতেই আয়োজন করা হয় ভোটার দিবসের। সারাদেশে ভোটার হওয়ার উৎসবে মেতেছিলেন তরুণ-তরুণীরা। ‘বয়স যদি আঠারো হয়-ভোটার হতে দেরি নয়’ শ্লোগানে গতকাল মঙ্গলবার তৃতীয়বারের মত সারা দেশে পালিত হয়েছে জাতীয় ভোটার দিবস। বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে দিবসটির উদ্বোধন করা হয়েছে। এই ভোটার দিবসেই প্রকাশ করা হয়েছে ২০২০ সালের ভোটার তালিকা হালনাগাদের চূড়ান্ত ভোটার সংখ্যা। হালনাগাদ ভোটার তালিকায় বর্তমানে মোট ভোটার এখন ১১ কোটি ১৭ লাখ ২০ হাজার ৬৬৯ জন। এরমধ্যে নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন ১৯ লাখ ১৮ হাজার ৫৬ জন।

এদিকে ভোটার দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে বিকেলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় পাল্টাপাল্টি বিস্ফোরক মন্তব্য করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা ও নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। নির্বাচন কমিশন ভবনে অনুষ্ঠিত সভায় নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে ধারাবাহিকভাবে সমালোচনা করে আসা নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারকে নিয়ে তার সামনেই প্রকাশ্যে ক্ষোভ ঝারলেন নূরুল হুদা। তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে ‘হেয়, অপদস্ত ও নিচে নামানোর জন্য’ যা করা দরকার, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার সবই করে চলেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ‘ব্যক্তিগত স্বার্থে ও উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে’ ইসিকে ‘হেয়’ করে চলেছেন কমিশনের এই সদস্য। সিইসির ঠিক আগেই অনুষ্ঠানে নিজের লিখিত বক্তব্য মাহবুব তালুকদার বরাবরের মতই দেশের নির্বাচন পরিস্থিতি এবং কমিশনের ভূমিকা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনে সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা জাতয়ি ভোটার দিবস-২০২১ উদ্বোধন করেন। এসময় নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, বেগম কবিতা খানম, রফিকুল ইসলাম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী এবং ইসি সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার, অতিরিক্ত সচিবসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। ইসির যুগ্ন-সচিব ও পরিচালক (জনসংযোগ) এস এম আসাদুজ্জামান জানান, এ বছর করোনা মহামারির কারণে সীমিত পরিসরে ভোটার দিবস উদযাপন করা হয়। এবারের ভোটার দিবসের প্রতিপাদ্য ‘বয়স যদি আঠারো হয়- ভোটার হতে দেরি নয়’। 

ভোটার দিবস উদযাপন উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার বিকেল তিনটায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার সব আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সেরে মাধ্যমে সভায় যুক্ত হন। এছাড়া উপজেলা, জেলা ও আঞ্চলিক পর্যায়েও যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় ভোটার দিবস পালন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে নির্বাচন ভবন ও মাঠপর্যায়ের অফিস ভবনে আলোকসজ্জা এবং ভবনের সামনের রাস্তায় ব্যানার, ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয়। 

এস এম আসাদুজ্জামান আরও জানান, ঢাকাসহ আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা/থানা পর্যায়ে বিভিন্ন কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, ভবনগুলোতে আলোকসজ্জা, প্রিন্ট মিডিয়ায় বিশেষ ক্রোড়পত্র ও বিজ্ঞাপন প্রকাশ, গুরুত্বপূর্ণ ও দর্শনীয় স্থানে ব্যানার ঝোলানো ইত্যাদি। জাতীয় ভোটার দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব বাণী দিয়েছেন।

ভোটার দিবসে সরাসরি তরুণ-তরুণী বা নতুন ভোটারদের ভোটার হওয়ার সুযোগ দিয়েছে সরকার। নির্বাচন কমিশনের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল ভোটার দিবসে সারা দেশে স্বত:স্ফূর্তভাবে তরুণ-তরুণীরা ভোটার হয়েছেন। তারা মেতেছিলেন ভোটার হাওয়ার উৎসবে। 

দেশে এখন ১১ কোটি ১৭ লাখ ভোটার: জাতীয় ভোটার দিবসে হালনাগাদ ভোটার তালিকার তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনের যুগ্মসচিব ও জনসংযোগ শাখার পরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, ২০২০ সালের ভোটার তালিকা হালনাগাদের চূড়ান্ত ভোটার সংখ্যা এখন ১১ কোটি ১৭ লাখ ২০ হাজার ৬৬৯ জন। এর মধ্যে তৃতীয় লিঙ্গের ৪৪১ জন; পুরুষ ভোটার পাঁচ কোটি ৬৫ লাখ ৯৮ হাজার পাঁচজন ও নারী ভোটার পাঁচ কোটি ৫১ লাখ ২২ হাজার ২২৩ জন। তিনি বলেন, এবার হালনাগাদে ১৯ লাখ ১৮ হাজার ৫৬ জন ভোটার যুক্ত হয়েছেন তালিকায়। আর বিদ্যমান তালিকা থেকে মৃত্যুজনিত কারণে বাদ পড়েছেন ১৬ হাজার ৪৯৯ জন। 

গত ১৭ জানুয়ারি হালনাগাদের খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়। দাবি ও আপত্তি নিষ্পত্তি শেষে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। আসাদুজ্জামান জানান, ২০২০ সালের ২ মার্চ দেশে ভোটার ছিল ১০ কোটি ৯৮ লাখ ১৯ হাজার ১১২ জন। এর মধ্যে পাঁচ কোটি ৫৪ লাখ ৮২ হাজার ৫৩০ জন পুরুষ; পাঁচ কোটি ৪৩ লাখ ৩৬ হাজার ২২২ জন নারী এবং ৩৬০ জন তৃতীয় লিঙ্গের। হালনাগাদের খসড়া তালিকায় ছিল ১৪ লাখ ৬৫ হাজার ৪৬ জন নতুন ভোটার। তাদের মধ্যে নয় লাখ এক হাজার ৯৮৩ জন পুরুষ; পাঁচ লাখ ৬৩ হাজার ৪৮ জন নারী এবং ১৫ জন তৃতীয় লিঙ্গের। তালিকায় রিভাইজিং অথরিটির মাধ্যমে যুক্ত হয়েছেন ৪ চার লাখ ৫৩ হাজার ১০ জন।

ভোটার দিবসের প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পদযাত্রায় নতুন একটি সংযোজন হচ্ছে জাতীয় ভোটার দিবস। ২০১৩ সালে সার্কভুক্ত দেশগুলোর নির্বাচন বিষয়ক সংগঠন ফেমবোসার চতুর্থ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সদস্য দেশগুলো জাতীয়ভাবে ভোটার দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। এরপরই মূলত জাতীয় ভোটার দিবস উদযাপনের চিন্তাভাবনা শুরু। এরই ধারাবাহিকতায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয় জাতীয়ভাবে ভোটার দিবস উদযাপনের একটি প্রস্তাব কমিশন সভায় উপস্থাপন করে। কমিশন প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিতে গ্রহণ করে এবং নীতিগতভাবে জাতীয় ভোটার দিবস উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে জাতীয় ভোটার দিবস উদযাপনের প্রস্তাবটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হলে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ২০১৮ সালের ৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত সভায় তা সরকারের অনুমোদন পায়। সে সময় প্রতিবছরের ১ মার্চ জাতীয় ভোটার দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পরে তা পরিবর্তন করে ২ মার্চ করা হয়।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন

প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।