বুধবার ১৪ এপ্রিল ২০২১ ৩০ চৈত্র ১৪২৭

আজ বীমা দিবস
বীমা খাতে সম্ভাবনায় রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ
জাতীয় বীমা নীতি বাস্তবায়ন জরুরি
জোনায়েদ মানসুর
প্রকাশ: রোববার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১১:২৩ পিএম আপডেট: ০১.০৩.২০২১ ৪:০৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

বীমা খাতে সম্ভাবনায় রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ

বীমা খাতে সম্ভাবনায় রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশের বীমা খাত একেবারেই অবহেলিত। দেশের বীমা খাতে যথেষ্ট সুযোগ থাকলেও কিছু সমস্যার কারণে এ শিল্প উন্নয়নে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বীমা খাতের কোম্পানিগুলোর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের কারণে বীমার প্রতি মানুষের রয়েছে আস্থাহীনতা। এ কারণে বীমা শিল্প উন্নয়ন করতে পারছে না। বীমা শিল্পের স্বার্থে ইমেজ সঙ্কট দূর করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে (আইডিআরএ) কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বীমা খাতের সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, বৈশ্বিক বীমা শিল্পের তুলনায় বাংলাদেশের বীমা শিল্প খুবই নগণ্য। এখানে মাথাপিছু বীমা ব্যয় মাত্র ৯ ডলার। বর্তমানে বাংলাদেশে বীমা খাতের অবদান মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) মাত্র ০.৬০ শতাংশ। বীমা খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিভ্রান্তি ও অবিশ্বাস দূর করে সচেতনতা সৃষ্টি করা গেলে দেশের জিডিপিতে বীমা খাতের অবদান বাড়বে। এর জন্য দরকার ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, বীমা বিষয়ে উচ্চতর পড়াশোনা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি, অটোমেশন, রেলযাত্রীদের বীমার আওতায় আনা, নতুন নতুন বীমা প্রডাক্ট সৃষ্টি, পলিসি গ্রহণ প্রক্রিয়া ও আইন সংস্কার, বীমা দাবি দ্রুত নিষ্পত্তি, বীমা দিবস চালু, উপজেলা বা তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক প্রচারণা, কুসংস্কার ও ভুল ব্যাখ্যা রোধে বিভিন্ন ধর্মের বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়াও জরুরি। 

এ খাতের বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, যেসব বীমা কর্মকর্তা ও বীমা কোম্পানীরগুলোর বীমা খাতের কোম্পানিগুলোর ভাবমূর্তি রক্ষার জন্যে সমস্যাগুলো নিরসন করতে হবে। এ জন্য যেসব কোম্পানি দাবি মেটাতে হয়রানি করে, সেগুলো চিহ্নিতপূর্বক তাদের বিরুদ্ধে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। বলা হয়, বীমা প্রভাব হার ১ শতাংশ বাড়ানো গেলে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি লক্ষণীয় মাত্রায় বাড়তে পারে। সেদিক থেকে অর্থনৈতিক অধিকতর অগ্রগতির জন্যও বীমা উন্নয়ন জরুরি। 

এদিকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬০ সালের ১ মার্চ আলফা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে যোগদান করেন। বীমা পেশায় তার যোগদানের দিনটিকে স্মরণে রাখতে বাংলাদেশ সরকার ১ মার্চকে জাতীয় বীমা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। ২০২০ সালের ১ মার্চ প্রথম বারের মতো সারাদেশে জাতীয় ‘বীমা দিবস’ উদযাপন করা হয়। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) সকাল ১০টায় দিবসটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। গত বারের ন্যায় এবারও জাতীয় বীমা দিবস উদযাপন হচ্ছে। আজ সোমবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) দিবসটি উদ্বোধন (ভার্চুয়ালে) করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তবে করোনাভাইরাসের কারণে বীমা মেলা হচ্ছে না।

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান ড. এম মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘বিমা খাতকে একটা বিশ্বাসযোগ্য স্থানে দাঁড় করাতে চাই, যেন বিমা খাতের ওপর মানুষের আস্থা তৈরি হয়। আমাদের দেশের অর্থনীতিতে বিমা খাতের অবদান মাত্র শূন্য দশমিক ৫৭ শতাংশ। ভারতের অর্থনীতিতে তাদের বিমা খাতের অবদান ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এমনকি ইন্দোনেশিয়াতে বিমা খাতের অবদান ২ দশমিক ৩৬ শতাংশ।’ তিনি বলেন, বীমা খাতের অটোমেশন ও উন্নয়নে ৬০০ কোটিরও বেশি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বীমা খাত পুরোপুরিভাবে অটোমেশনে আসবে। এতে বীমা খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ হবে, গ্রাহকদের সেবা সহজ ও স্বচ্ছ হবে এবং বীমার প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে।

বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) সভাপতি শেখ কবির হোসেন গতকাল রোববার দৈনিক স্বদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বীমায় অনেক পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। এ পর্যন্ত  অনেক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আইডিআরএ এর ৪ থেকে ৭দিনে বীমা দাবি পরিশোধের উদ্যোগ বীমা কোম্পানীগুলোকে নিতে হবে। আইডিআরএ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষ্যে প্রতিমাসের প্রথম বুধবার ও শেষ বুধবার আশার আলো নামে অনুষ্ঠান করে থাকে। এতে বীমা কোম্পানীর বীমা দাবিও পরিশোধও করা হয়। আল্লাহর রহমতে বীমায় কমিশন বন্ধ হয়েছে। থার্ট পার্টি ইন্স্যুরেন্স বাতিল হয়েছে। জীবান বীমায় ল্যাফস পলিসি বাতিল হয়েছে। এগুলো ভালো উদ্যোগ বলেন তিনি। শেখ কবির হোসেন বলেন, ১৯৫৮ সালের আইন দিয়ে এখনো ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের সীমা নির্ধারণ করা হচ্ছে। বর্তমানে সব ধরনের খরচ বাড়লেও এ আইন আর পরিবর্তন করা হয়নি। এতো পুরনো আইনের শর্ত মেনে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। 

প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জালালুল আজিম গতকাল রোববার দৈনিক স্বদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বীমা শিল্পে সচেতনার অভাব রয়েছে। সরকার কাজ করছে। আইডিআরএ, বাংলাদেশ বীমা অ্যাসোসিয়েশন, ইন্সুরেন্স ফোরাম একযোগে কাজ করছে। নেটওয়ার্ক বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের ৯৫ ভাগ মানুষ বিমা খাতের বাইরে। বিমা খাতে মানুষকে আগ্রহী করতে হলে প্রতিটা সেক্টরে ডেভলপমেন্ট করতে হবে। ২০০০ সাল বা তার পরবর্তী সময় থেকে বর্তমান সরকার ইন্স্যুরেন্স সেক্টর ডেভলপ করার জন্য অত্যান্ত আন্তরিক এবং বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছেন।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক হাসিনা শেখ বলেন, ‘আমি স্বাস্থ্যবিমার বিষয়ে খুবই পজিটিভ। মানুষের মৌলিক চাহিদার মধ্যে অন্যতম বিষয় স্বাস্থ্য। স্বাস্থ্য নিয়ে আমরা অনেক দিন ধরে অবহেলা করছিলাম। আমাদের দেশের মানুষের আয়ও অনেক কম, সে কারণে বিষয়টাকে অতটা সিরিয়াসলি নিতে পারে না।’ তিনি বলেন, উন্নত সব দেশেই স্বাস্থ্যবিমা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। ওই সব দেশে কারো স্বাস্থ্যবিমা নেই, এমনটা কল্পনা করা যায় না। তবে করোনা মহামারি এসে আমাদের বুঝিয়ে দিল স্বাস্থ্যবীমার গুরুত্ব কতটুকু। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, বৈশ্বিক বীমা শিল্পের তুলনায় বাংলাদেশের বীমা শিল্প খুবই নগণ্য। এখানে মাথাপিছু বীমা ব্যয় মাত্র ৯ ডলার। জিডিপির অনুপাতে বীমা প্রিমিয়ামের পরিমাণ প্রায় দশমিক ৫ শতাংশ। 

জানা গেছে, আগে কোম্পানিগুলো সিংহভাগই এজেন্টের মাধ্যমে বীমা করতো। কিন্তু অনেক সময় গ্রাহকের টাকা মূল কোম্পানিতে জমা দেয় না। ফলে গ্রাহকদের দাবি কোম্পানিগুলো অগ্রাহ্য করতো। এসব অনিয়ম নিরসনে বীমা খাতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় এখাতে আলোচ্য প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়। ইতোমধ্যে খাতটিতে বহুবিধ সংস্কারের মধ্যে স্বচ্চতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় ব্যাংকইন্স্যুরেন্স চালু ও থার্ড পার্টি ইন্স্যুরেন্স বাতিল করা হয়েছে। যার ইতিবাচক প্রভাব কোম্পানিগুলোর মুনাফায় পড়তে শুরু করেছে। 

জানা গেছে, বর্তমানে দেশে বীমা কোম্পানির সংখ্যা ৭৯টি। এরমধ্যে সাধারণ ইন্স্যুরেন্স ৪৬টি এবং লাইফ ইন্সুরেন্স ৩৩টি। উভয় খাতেই সরকারি একটি করে কোম্পানি রয়েছে। এ খাতে মোট গ্রাহক ১ কোটি ৩৪ লাখ ৭০ হাজার। এ হিসাবে দেশের মোট ৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ মানুষ বীমার আওতায় রয়েছে। এরমধ্যে সাধারণ বীমার গ্রাহক ২৪ লাখ ১৯ হাজার এবং লাইফ ইন্স্যুরেন্সে ১ কোটি ১৯ লাখ ৮২ হাজার জন। ২০১৮ সাল শেষে বীমা খাতে মোট জনবল ছিল ৬ লাখ ৩৯ হাজার ২৬৫। এরমধ্যে সাধারণ বীমায় ১৯ হাজার ৬৪৬ এবং লাইফে ৬ লাখ ১৯ হাজার ৬১৯ জন। আগের বছরের তুলনায় ৫ হাজার ৯৫৬ জন কম। ২০১৮ সালে জীবন বীমা ব্যবসায় চলমান পলিসির সংখ্যা ছিল এক কোটি এবং সাধারণ বীমায় ২৮ লাখ। জীবন বীমায় ওই বছর ১৮ লাখ গ্রাহক নতুন পলিসি নেন। দেশে পরিবহনের সংখ্যা ৩৫ লাখ হলেও মোটর বীমা পলিসির সংখ্যা ১৬ লাখ। জাতীয় বীমানীতিতে সরকার ২০২১ সালে পেনিট্রেশন ৪ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্য অর্জনে বীমা গ্রাহকের সংখ্যা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।

রয়েছে সম্ভাবনা : বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার পরও এগিয়ে যাওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এর অন্যতম কারণ, দেশের অর্থনীতি ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। অথচ এখন প্রতি হাজারে মাত্র চারজনের জীবন বীমা রয়েছে। কৃষিবীমা, সর্বজনীন স্বাস্থ্যবীমা, দুর্যোগবীমা নেই। অনেক সুউচ্চ ভবন, বড় প্রকল্প এখনও বীমার বাইরে রয়েছে। কিন্তু উন্নত দেশগুলোতে বীমার বিস্তারে এসব খাতের বীমা বড় ভূমিকা রাখছে। শিক্ষা ও প্রবাসীদের বীমা নিশ্চিত করেও এ খাতের সম্প্রসারণ সম্ভব।

রয়েছে চ্যালেঞ্জ : দেশের বীমা খাতের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বীমার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ানো। এ জন্য সবার আগে বীমা কোম্পানির এজেন্টদের নিয়ে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি বীমার কোন পণ্যের কী ধরনের সুবিধা তাও সাধারণ মানুষের কাছে সুস্পষ্ট নয়। বীমা দাবি সময়মতো নিষ্পত্তি করাও একটি চ্যালেঞ্জ। যদিও এ ক্ষেত্রে আগের তুলনায় অগ্রগতি হয়েছে। দক্ষ জনবল না থাকা আরেকটি বড় দুর্বলতা।

বীমা খাতের তহবিল : কোনো ব্যাংক দেউলিয়া হলে আমানতকারীর অর্থ ফেরত দিতে গঠিত তহবিলের আকার আরও বেড়েছে। তহবিলের মোট পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৭ হাজার ৯৪ কোটি টাকা। এক বছর আগে যা ছিল ৬ হাজার ১০ কোটি টাকা। এক বছরে আমানত বীমা ট্রাস্ট তহবিলের আকার এক হাজার ৮৪ কোটি টাকা বা ১৮ শতাংশ বেড়েছে। ব্যাংক খাতের মোট আমানত বৃদ্ধি এবং বিদ্যমান তহবিলের বিনিয়োগ থেকে ভালো আয় পাওয়ায় এমন হয়েছে। এ তহবিল থেকে দেউলিয়া বা অবসায়িত ব্যাংকের একজন আমানতকারীকে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা ফেরত দিতে পারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আমানতকারীদের আস্থা অর্জনের লক্ষ্যে ১৯৮৪ সালে আমানত বীমা তহবিল গঠন করে সরকার। পরে ব্যাংক আমানত বীমা আইন প্রণয়ন করা হয়। আইনের আওতায় ব্যাংকগুলোকে আমানতের বিপরীতে প্রিমিয়াম দিতে হয়। এক সময় প্রতি একশ' টাকা আমানতের বিপরীতে ৭ পয়সা প্রিমিয়াম দিতে হতো। তবে ২০১৩ সাল থেকে ব্যাংকের ক্যামেলস রেটিংয়ের ঝুঁকি বিবেচনায় ভালো 'ক্যামেলস রেটিং' পাওয়া ব্যাংকের একশ' টাকা আমানতে ৮ পয়সা প্রিমিয়াম কাটা হচ্ছে। আরলি ওয়ার্নিং তথা মধ্যম মানের ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকের একশ' টাকার বিপরীতে ৯ পয়সা এবং সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংককে দিতে হয় ১০ পয়সা করে। এ অর্থ সাধারণভাবে সরকারি ৫ ও ১০ বছর মেয়াদি বন্ডে বিনিয়োগ করা হয়। সর্বশেষ গত বছরের জুন পর্যন্ত প্রিমিয়ামের ওপর হিসাব প্রস্তুত হয়েছে।

যা করা দরকার : কমিশন দেওয়ার ক্ষেত্রে অনৈতিক চর্চা এতদিন বীমা খাতকে ভুগিয়েছে। এটা বন্ধ করতে হবে। একইসঙ্গে সময়োপযোগী বীমাপণ্য দরকার। অনলাইনে সবাইকে বীমা পণ্য ও লেনদেন ব্যবস্থা চালু করতে হবে। ব্যাংকের মাধ্যমে বীমাপণ্য বাজারজাত করা জরুরি। উন্নত দেশে মোট প্রিমিয়ামের অর্ধেকের বেশি সংগ্রহ হয় ব্যাংকের মাধ্যমে। দেশে এখনও এ ব্যবস্থা চালু হয়নি। এ জন্য দরকার ই-ইন্স্যুরেন্স চালু করা। ২০১৪ সালে জাতীয় বীমা নীতি করা হলেও এখনও তা বাস্তবায়ন হয়নি। বীমাযোগ্য সব মানুষ ও সরকারি-বেসরকারি সম্পদ বীমার আওতাভুক্ত করা গেলে এ খাতের আরও সম্প্রসারণ সম্ভব। এটি জিডিপি প্রবৃদ্ধিতেও প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে। এখনও সাধারণ মানুষ বীমা পলিসির সুবিধা সম্পর্কে জানতে পারে না। পলিসিগুলোর প্রস্তাবপত্র এবং বীমা চুক্তিপত্র খুবই জটিলভাবে লেখা। এ সব বিষয় স্পষ্টীকরণে কোম্পানিগুলোকে উদ্যোগ নিতে হবে। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে প্রিমিয়াম গ্রহণ ও দাবি পরিশোধ করছে। 

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন

প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।