রোববার ১৬ মে ২০২১ ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

কাউন্সিলর প্রার্থী খুন, বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, হামলা, বর্জন
ভোটের মাঠে ফের রক্তপাত
এম উমর ফারুক
প্রকাশ: রোববার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১১:১৯ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

সংগৃহীত ছবি।

সংগৃহীত ছবি।

সৈয়দপুর কাউন্সিলর প্রার্থী খুন, বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, হামলা ও বর্জনের মধ্যদিয়ে পঞ্চম ধাপে ২৯ পৌরসভার ভোট গ্রহণ শেষ। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ হয়। এ ছাড়া চারটি উপজেলা পরিষদে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে নির্বাচন হয়। অনেক পৌরসভায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ভোট বর্জন ও ভোট প্রদানে বাধার অভিযোগ উঠেছে। তবে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের খবরও পাওয়া গেছে। গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে টানা ভোটগ্রহণ। 

সৈয়দপুর: নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন। গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম ছোটন অধিকারী (৫১)। তিনি শহরের মুন্সিপাড়া এলাকার মৃত নিতাই অধিকারীর ছেলে। নিহত ছোটন কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম রয়েলের সমর্থক ছিলেন। আহত আজম আলী সরকার জানান, সৈয়দপুর মহিলা কলেজের সামনে আমার পরিচিত ছোটন অধিকারীকে কাউন্সিলর প্রার্থী আক্তার হোসেন ফেকুর সমর্থকরা মারপিট করছিল। এ সময় প্রতিবাদ করায় তারা আমাকে মারপিট করলে মাটিতে পড়ে যাই। এলাকাবাসী উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করলে জানতে পারি ছোটন অধিকারী মারা গেছেন।

চারঘাট: রাজশাহীর চারঘাট পৌরসভা নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সকালে  সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত থানাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দফায় দফায় এ ঘটনা ঘটে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে বিস্ফোরণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ভোটাররা।এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা জানান জেলা পুলিশের মুখপাত্র ইফতেখায়ের আলম। তিনি বলেন, দুই দফায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এছাড়া চারঘাট পৌরসভা নির্বাচন বর্জন করেছেন ধানের শীষের প্রার্থী জাকিরুল ইসলাম বিকুল। দুপুর পৌনে ২টার দিকে নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তিনি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, এক কথায় প্রহসনের নির্বাচন। পৌরসভার সকল ভোটকেন্দ্র থেকে ধানের শীষের পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়। ভোটারদের আতঙ্কিত করতে ককটেল হামলা হয়েছে।

নান্দাইল: ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভা নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে ঢুকে হৈচৈ করার অভিযোগে তিন কাউন্সিলর প্রার্থী ও এক নৌকার সমর্থককে আটক করা হয়।সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শহীদ স্মৃতি আদর্শ ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্র থেকে তাদের আটক করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাঈদা পারভিন। আটকরা হলেন, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ঢেড়শ প্রতীকের কাউন্সিলর প্রার্থী খাইরুল ইসলাম মানিক, গাজর প্রতীকের আব্দুল খালেক, উটপাখি প্রতীকের রফিকুল আলম ফারুক ও নৌকার সমর্থক মোহাম্মদ আরজু।

কালীগঞ্জ : ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে ৮ নম্বর কাশিপুর ওয়ার্ডে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বিজিবির লাঠিচার্জে চারজন আহত হয়েছেন। বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। কালীগঞ্জে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় বিজিবি। কালীগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজার রহমান বলেন, বেলা ১১টার দিকে ৮ নম্বর কাশিপুর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মেহেদী হাসান সজল ও আরিফুল ইসলামের সমর্থকদের মধ্যে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় বিজিবি সদস্যরা লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে উভয়পক্ষের ফুল মিয়া, রওশন, মনিরুলসহ চারজন আহত হন।

কেশবপুর: যশোরের কেশবপুর পৌরসভায় প্রথমবারের মতো ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। তবে অনেক কেন্দ্রেই ইভিএমে ভোটারদের ফিঙ্গার প্রিন্ট মিলছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোটাররা। তবে প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা বলেন, এমন ঘটনা স্বাভাবিক। ভোটারের পরিচয় শনাক্ত হলেই তাদের ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। সকাল ৮টা থেকে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সরেজমিনে বেশিরভাগ কেন্দ্রেই এ সমস্যা দেখা গেছে। কোনো কোনো ভোটার ৫ মিনিট সময় ব্যয় করেও তার ফিঙ্গার প্রিন্ট যাচাই করতে পারেননি।

জয়পুরহাট: জয়পুরহাট পৌর শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ড চকগোপাল গ্রামের বাসিন্দা সিরাজউদ্দিন মন্ডল। বয়স ৮১ বছর। ঠিকমতো কথা বলতে পারেন না। হাঁটা চলার শক্তি নেই। তবু ভোট দিতে এসেছেন তিনি।বেলা ১১টার দিকে চাচাতো ভাই রশিদের হাত ধরে শহরের তালীমুল ইসলাম একাডেমি অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেন তিনি। সিরাজউদ্দিন কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে ও হাতের ইশারায় বলেন, কষ্ট করে ভাইকে নিয়ে ভোট দিতে এসেছি। খুব সুন্দরভাবে ভোট দিয়েছি, কোনো সমস্যা নেই। এর আগে শনিবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বলেন, পঞ্চম ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ ধাপে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। 

ইসির বক্তব্য: নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানায়, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, ফরিদপুরের মধুখালী, রাজশাহীর পবা ও কুমিল্লার দেবিদ্বারে চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন হয়। এছাড়া আগে অনুষ্ঠিত সাতটি পৌরসভায় স্থগিত কেন্দ্রগুলোতে ও মৃত্যুজনিত কারণে চট্টগ্রাম সিটির ৩১ নম্বর সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে, ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌরসভার ৮ নম্বর সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে, পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি পৌরসভার ৮ নম্বর সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ও সিরাজগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ভোট হয়। এরমধ্যে চট্টগ্রাম সিটির ওয়ার্ডটি ও শৈলকুপার ওয়ার্ডটিতে ইভিএমে ভোট হয়। এ উপলক্ষে নির্বাচনী এলাকায় পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির বাড়তি সদস্য মাঠে ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে করেছেন। ইসি আরও জানায়, পঞ্চম ধাপে নির্বাচনের জন্য গত ১৯ জানুয়ারি ৩১ পৌরসভার তফসিল ঘোষণা করে ইসি। পরে অন্য ধাপ থেকে পঞ্চম ধাপে যুক্ত হয় সৈয়দপুর পৌরসভা। অপরদিকে উচ্চ আদালতের রায়ের কারণে যশোর পৌরসভার ভোট স্থগিত করা হয়। ভোটগ্রহণের আগ মুহূর্তে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। চট্টগ্রামের রাউজান পৌরসভায় মেয়র ও কাউন্সিলরসহ সব পদে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছেন। যার ফলে  ২৯ পৌরসভায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

যে ২৯ পৌরসভায় ভোট: যশোরের কেশবপুর; ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ ও মহেশপুর; চট্টগ্রামের মিরসরাই, বারইয়ারহাট ও রাঙ্গুনিয়া; কিশোরগঞ্জের ভৈরব; জামালপুরের সদর, মাদারগঞ্জ ও ইসলামপুর; ময়মনসিংহের নান্দাইল; মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর, গাজীপুরের কালীগঞ্জ; রংপুরের হারাগাছ; রাজশাহীর দুর্গাপুর ও চারঘাট; চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল; বগুড়া সদর; জয়পুরহাট সদর; মাদারীপুর সদর ও শিবচর; ভোলা সদর ও চরফ্যাশন; হবিগঞ্জ সদর; চাঁদপুরের শাহরাস্তি ও মতলব; ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর; লক্ষ্মীপুরের রায়পুর এবং রংপুরের সৈয়দপুর পৌরসভা। এসব পৌরসভায় ২৯১টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১ হাজার ২৭০ জন, ৯৭টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৩৪২ জন ও ২৯টি মেয়র পদে ১০০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ৬২৫টি ভোটকেন্দ্রের ৪ হাজার ২২৯ ভোটকক্ষে ১৩ লাখ ৮৪ হাজার ১৬৫ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। দেশে পৌরসভা রয়েছে ৩২৯টি। প্রথম ধাপের তফসিলের ২৪টি পৌরসভায় ইভিএমে ভোট হয় ২৮ ডিসেম্বর। ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় ধাপে ৬১ পৌরসভায় ভোট হয়েছে। আর তৃতীয় ধাপে ৬৪টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণ হয় ৩০ জানুয়ারি। চতুর্থ ধাপে ১৪ ফেব্রুয়ারি ভোট হয়েছে। আর আজ ২৮ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। আইন অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে পৌরসভায় ভোট করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। স্থানীয় সরকার আইন সংশোধনের পর ২০১৫ সালে প্রথম দলীয় প্রতীকে ভোট হয় পৌরসভায়। সেবার ২০টি দল ভোটে অংশ নেয়।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন

প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।