বুধবার ১৪ এপ্রিল ২০২১ ৩০ চৈত্র ১৪২৭

সোলার থেকে ৩০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের রোডম্যাপ তৈরি করেছে স্রেডা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১০:১১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

সংগৃহীত ছবি।

সংগৃহীত ছবি।

২০৪১ সালের মধ্যে সোলার থেকে ২৯,৪৫৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের রোডম্যাপ তৈরি করেছে স্রেডা। খসড়া রোডম্যাপটি বিদ্যুৎ বিভাগে প্রেরণ করা হয়েছে অনুমোদনের জন্য। তবে এই রোডম্যাপকে কেউ কেউ উচ্চাভিলাসী ও যদি নির্ভর বলছেন।
আজ শনিবার এনার্জি এন্ড পাওয়ার আয়োজিত “প্রস্তাবিত সৌর বিদ্যুতের রোডম্যাপ ও বাস্তবতা” শীর্ষক সেমিনারে এমন মতামত উঠে আসে। সেমিনার সঞ্চালনা করেন, এনার্জি এন্ড পাওয়ার সম্পাদক মোল্লাহ আমজাদ হোসেন।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বর্তমানে ৫৪৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে। ডেল্টা প্লানের আওতায় প্রধান নদীগুলোর শাসন করা হলে বিপুল পরিমাণ ভূমি পুনরুদ্ধার করা যাবে। যেগুলো ১৩টি হাব করার সম্ভাবনা রয়েছে। এই হাবগুলোতে ১২ হাজার মেগাওয়াট সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। দ্বিতীয় সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে ছাদে স্থাপিত সৌর বিদ্যুৎ থেকে। এই খাত থেকেও ১২ হাজার মেওয়াটের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে।

প্রবন্ধকার ইউনাটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনভাসিটির সেন্টার ফর রিনিউয়েবল এনার্জি সার্ভিসেস লিমিটেড’র চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির দ্রুত গ্রোথ হচ্ছে। অন্যান্য টেকনোলজিকে তা ছাড়িয়ে যাবে। সোলারের খরচ কমে যাচ্ছে যেকেনো টেকনোলির চেয়ে। আগে যেখানে কিলোওয়াট প্রতি প্যানেলের খরচ ছিল ৩ থেকে ৪ ডলার এখন ২৬-৩০ সেন্টে নেমে এসেছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মূখ্য সচিব, জাতিসংঘের ক্লাইমেট ভার্নারেবল ফোরামে বাংলাদেশের বিশেষ দূত আবুল কালাম আজাদ বলেন, চর এলাকায়  প্রতিযোগিতামূলক বিডিংয়ের মাধ্যমে সোলার বিদ্যুৎ স্থাপনে দেওয়া যেতে পারে। আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে সোলার নেওয়ার জন্য। প্রয়োজন হচ্ছে পরিকল্পিতভাবে করে এগিয়ে যাওয়া। আমাদের পথঘাট জানা আছে। এখন শুধু নেমে পড়া উচিত। খুব বেশি সাফল্য নেই, আমরা আরও অনেকদূর যেতে পারতাম। প্রচন্ড ইচ্ছা শক্তির প্রয়োজন রয়েছে। তবে একক জ্বালানি নির্ভরতার দিকে যাওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য মন্ত্রণালয়ে পৃথক বিভাগ স্থাপনের প্রস্তাব আসছে, এটি নিয়ে গবেষণা করার প্রয়োজন রয়েছে। অনেকে বলেন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ভাগ করে সমস্যাই হয়েছে। বিদ্যুৎ একদিকে গেলে জ্বালানি অন্যদিকে যায়, নবায়নযোগ্য বিভাগ করে কী লাভ হবে ভাবার দরকার রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি ড. এসএমএ মাকসুদ কামাল বলেন, ডেল্টা প্লানের উপর ভিত্তি করে যে প্লান করেছি। হাবগুলো বলা হয়েছে, নদীর জমি পুনরুদ্ধার করে। কাপ্তাই এবং হাওড়, বাওরের কথা বলা হয়েছে, সেখানে পরিবেশগত বিষয়ও দেখতে হবে। সরকার কতোটুকু তৈরী এই জমি সোলার বিদ্যুতে দেয়ার জন্য। আমাদের সোলারের পথে যেতেই হবে। কারণ আমাদের গ্যাসের রিজার্ভ কমে আসছে। অফসোরে কি আছে বলতে পারছি না। তবে যাওয়ার আগে পরিস্কার করে চিহ্নিত করতে হবে। রোডম্যাপ যদি টেক্সবুক হয়ে থাকে,  তাহলে কিন্তু সফল হওয়া কঠিন।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন, ২০ হাজার মেগাওয়াট দিনের বেলা কিভাবে কোথায় ব্যবহৃত হবে। নাকি এগুলো স্টোরেজ করা হবে, তার খরচ কতো হবে। জমির সমস্যা সরকার ই”ছা করলে একটু ছাড় দিতে পারে। এই ছাড়টাই হতে পারে নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য বড় বিষয়। কেউ যদি করতে চায় ১০ শতাংশ ল্যান্ড কৃষি নিতে পারবে না। সার্বিক বিচারে সোলারের ১ শতাংশ জমি দিলে জ্বালানি নিরাপত্তার বিবেচনায় লাভজনক হবে, খাদ্য উৎপাদনেও কোনো সংকট হবেনা। 

স্রেডার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, রিসোর্স ম্যাপিংটা বেশি জরুরি। এই প্রেক্ষাপটে সোলার নিয়ে রোডম্যাপিং করা হয়েছে। এটি বিদ্যুৎ বিভাগে প্রেরণ করেছি। তারা সংশোধন ও পরিমার্জন করে চুড়ান্ত করবেন। প্রধানতম সোর্স হচ্ছে সৌর বিদ্যুৎ, তাই এখন পর্যন্ত এটাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

দীপাল চন্দ্র বড়ুয়া বলেন, আমাদের কি দরকার। নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য পুর্নাঙ্গ বিভাগ দরকার। সেখানে একজন সিনিয়র সচিব থাকলে ভালো হয়। অর্থায়ন সোর্স নিশ্চিত করা দরকার। ব্যাংকিং নেটওয়ার্কে ২ থেকে ৩ শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়া যায় তাহলে বড় একটি কাজ হবে। সম্ভাবনা রয়েছে, আমাদের শুধু একটা শক্ত নেতৃত্ব দরকার।বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে মোট বিলিকৃত ঋণের ৩ শতাংশ নবায়নযোগ্য খাতে বিনিয়োগের নির্দেশনা দিয়েছে। এটা ৫ শতাংশ করা উচিত। 

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সাবেক সদস্য প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের পিক হয়, সন্ধ্যায়। তখন সোলারের অবদান কি পাওয়া যাবেনা। এটা একটা বিষয়। আমাদের ৬০ শতাংশ ইন্টারমেডিয়েট চাহিদা তেল বিদ্যুৎ দিয়ৈ পুরণ করা হচ্ছে, এর খরচ প্রতি ইউনিট ৯ টাকা । ভবিষ্যতে এলএনজিতে গেলে খরচ হবে সাড়ে ৮ টাকা। যদি সোলার এর নিচে আসতে পারে, তাহলে ইন্টারমেডিয়েট লোড সোলারে রিপ্লেস করতে পারি। তাহলে ম্যাক্সিমাম ২০ শতাংশ করা যাবে। শিল্পায়ন হলে ডে’তে পিক চলে আসবে। তখন সোলার থেকে বাড়তি চাহিদা পুরণ করা যেতে পারে। ভবিষ্যতে দিনের পিক বৃদ্ধি পেলে ৩০-৩৫ শতাংশ হতে সোলার থেকে আসতে পারে। 

তিনি বলেন, জমির দায়িত্ব নিতে হবে সরকারকে। ভূমি উন্নয়ন করে সিঙ্গেল ক্রেতা বিপিডিবি তার উদ্যোকে লিজ দিতে পারে। যেমনটি আমরা মেঘনাঘাটে আইপিপি স্থাপনে করেছি। বলা হচ্ছে পিডিবি তুমি সোলার করো, ইজিসিবি তুমি করো, কোল তুমি করো। কোল একটি বিশেষায়িত কোম্পানি। তাকে বলা হচ্ছে তোমাকে এতো মেগাওয়াট করতে হবে। হাইভোল্টেজ সিঙ্গেল বায়ার হতে পারে।
এনার্জি এন্ড পাওয়ারের কন্ট্রিবিউটিং এডিটর প্রকৌশলী খন্দকার আব্দুস সালেক সুফী বলেন, জার্মানী নিউক্লিয়ার থেকে বেরিয়ে গেছে। তারা সেই বিদ্যুৎ আনছে ফ্রান্স থেকে। ফ্রান্স থেকে আসছে সেটিও হচ্ছে নিউক্লিয়ার এনার্জি।  এক সময় আমরা কোল নিয়ে প্লান করলাম। কোভিডের কারণে গ্যাসের দাম কমে যাওয়ায় এখন এলএনজির দিকে ঝুঁকে যাচ্ছি। ২০ শতাংশ অর্জণ করা সম্ভব ২০৪১ সালে। কিন্তু তার জন্য একজন ডায়নামিক নেতা দরকার। আমরা ভারতের সঙ্গে আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারি।

রহিম্আফরোজ রিনিয়েবল এনার্জিও ব্যস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার মেসবা মুইন বলেন, সোলার বিকাশে জমি খুব বড় সংকট নয়। তবে সোলার বিদ্যুৎকে কেন্দ্রভাবে না ভেবে ডিস্ট্রিবিউটেড এনার্জি হিসাবে ভেবে পরিকল্পনা নিতে অধিক সাফল্য পাওয়া যাবে।
বয়েটের সেন্টার ফর এনার্জি স্টাডিজের পরিচালক ড. ফারসিম মান্নান মোহাম্মদী বলেন, সোলার রোড ম্যাপ ২০২১-২০৪১ গ্রহণ করার আগে আরো বিস্তর সমীক্ষা করা প্রয়োজন। কেননা এখানে সমস্যা কথা বলা হলেও তা কটিয়ে কিভাবে লক্ষ্যে পৌছানো যাবে তা বলা নেই।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন

প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।