বুধবার ১৪ এপ্রিল ২০২১ ৩০ চৈত্র ১৪২৭

পরিবেশবান্ধব পোশাক কারখানায় এগিয়ে বাংলাদেশ
জোনায়েদ মানসুর
প্রকাশ: বুধবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১২:১৭ এএম | অনলাইন সংস্করণ

পরিবেশবান্ধব পোশাক কারখানায় এগিয়ে বাংলাদেশ

পরিবেশবান্ধব পোশাক কারখানায় এগিয়ে বাংলাদেশ

বিশ্বের যে কোনো দেশের তুলনায় বাংলাদেশে বেশিসংখ্যক পরিবেশবান্ধব (গ্রিন ফ্যাক্টরি) পোশাক কারখানা এগিয়ে রয়েছে। সংখ্যার হিসেবে, এরকম ৬৭ পোশাক কারখানা রয়েছে বাংলাদেশে। ভারতে এ ধরনের কারখানা রয়েছে মাত্র পাঁচটি। পরিবেশবান্ধব এ ধরনের কারখানার সনদ দেয় যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি)। তারা লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ডিজাইন (এলইইডি) সনদ দেয়। এলইইডি সনদ পাওয়া ৬৭টি বাংলাদেশি কারখানার মধ্যে ১৩টি প্রথম ক্যাটাগরি, অর্থাৎ প্ল্যাটিনাম ক্যাটাগরিতে স্থান পেয়েছে। বাকিগুলো স্থান পেয়েছে গোল্ড, সিলভার কিংবা সাধারণ ক্যাটাগরিতে। ইউএসজিবিসিতে নিবন্ধিত বাংলাদেশের ৬৫০ কারখানা-ভবন পরিবেশবান্ধব। এগুলোর মধ্যে ৩০৩ তৈরি পোশাক কারখানার বাইরে। সেগুলোর কোনোটি বাণিজ্যিক ভবন, কোনোটি আবার চামড়াজাত পণ্য কিংবা জুতা-স্যান্ডেল তৈরির কারখানা। 

ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের (ইউএসজিবিসি) জরিপ অনুযায়ী, পৃথিবীর মধ্যে এখন যে ১০ প্লাটিনাম গ্রিন কারখানা রয়েছে তার মধ্যে বাংলাদেশেই রয়েছে ৭টি। ৮০টির ওপরে গ্রিন কারখানা বিল্ডিংয়ের সার্টিফিকেট নেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। আরও ২৫ মতো কারখানা এই সার্টিফিকেট পাবার অপেক্ষায় আছে। তা ছাড়া আরো ২৮০ কারখানা গ্রিন হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। পোশাক খাতের দুর্নাম কাটাতে নানান চেষ্টার পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ‘ইউনাইটেড স্টেটস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল’ থেকে ধারণা নিয়ে দেশে গ্রিন ফ্যাক্টরি তৈরি করছেন উদ্যোক্তারা। এখন ওই কাউন্সিলের সার্টিফিকেট নিয়েই নতুন যাত্রা শুরু করেছে দেশের পোশাক খাত।

প্ল্যাটিনাম সনদপ্রাপ্ত বাংলাদেশি ১৩ কারখানা হলো- রেমি হোল্ডিং লিমিটেড, তারাসিমা অ্যাপারেলস লিমিটেড, প্লামি ফ্যাশন লিমিটেড, ভিন্টেজ ডেনিম স্টুডিও লিমিটেড, কলম্বিয়া ওয়াশিং প্ল্যান্ট লিমিটেড, ইকোটেক্স লিমিটেড, এনকিউ সেলসিয়াস ইউনিট টু লিমিটেড, কানিজ ফ্যাশন লিমিটেড, জেনেসিস ওয়াশিং লিমিটেড, জেনেসিস ফ্যাশন লিমিটেড, এসকিউ বিডি-চায়না লিমিটেড, এসকিউ কোল ব্ল্যাঙ্ক লিমিটেড এবং এনভয় টেক্সটাইল।

সবুজ কারখানার তালিকায় যারা রয়েছে- কলাম্বিয়া ওয়াশিং প্ল্যান্ট, সুতি টেক্সটাইল বিডি, ব্যাবিলন প্রোডাক্টশন, দীফত অ্যাপারেলস, ওসমান ইন্টারলিংস, ভিন্টেজ ডেনিম অ্যাপারেলস, ইকো ফ্যাব, গ্রিন টেক্সটাইল, তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ, রিজেন্সি গার্মেন্টস, একেএইচ ইকো অ্যাপারেলস, এসকিউ চেলসিয়াস, ইপিলিয়ন স্টাইল, ভালটেক্স ইন্টারন্যাশনাল বিডি, ইকো কৌসার, অনন্ত অ্যাপারেলস, কেনপার্ক-২, কেনপার্ক-৩, কেনপার্ক-৪, কেনপার্ক-৫, হেলা ক্লথিং বাংলাদেশ, ভারটেক্স ওয়ার, এনভয় টেক্সটাইল স্পিনিং, মেঘনা ইন্টিম্যাটস, সামস স্টাইলিং ওয়ার, অবনি নিটওয়ার, ব্যাবিলন শার্ট ফ্যাক্টরি, ক্যাজুয়াল ওয়ার প্রোডাক্টশন, সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ওভেন, অবনি ফ্যাশন, ভিজুয়াল ইকো স্টাইলওয়ার, এম অ্যান্ড ইউ ফ্যাশন, জিওবানা ডেনিম, বার্ডস এ অ্যান্ড জেড, অ্যালফাবেট ফ্যাশন, আগামী অ্যাপারেলস, ফকির গার্মেন্টস, আরএস কম্পোজিট, পানউইন ডিজাইনস, টোপাজ ড্রেজ, রিজেন্সি গার্মেন্টস, ইপিআইসি গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি, পিয়ার্স গার্মেন্টস কোম্পানি, কসমোপলিটান ইন্ডাস্ট্রিজ, ইউনিভোগ গার্মেন্টস কোম্পানি, সায়হাম নিট কম্পোজিট, মিউচুয়াল অ্যাপারেলস, প্রোগ্রেস অ্যাপারেলস বাংলাদেশ, নাওমি সুয়েটার্স, তানিমা নিট কম্পোজিট, প্রাইম প্লাটিনাম ফ্যাশন, গ্রিন টেক্সটাইল, ইএসকেই ক্লথিং, হামজা ক্লথিং, সাউথ স্কয়ার, স্নোটেক্স, ভায়োলেট ফ্যাশন, ভিবগোয়ার নিট কম্পোজিট, কনসেপ্ট নিটিং, ব্র্যান্ড অ্যাপারেলস, কমফিট রেইনবো ডাইন অ্যান্ড ফ্যাশন, কমফিট গোল্ডেন, কমফিট গ্রিন সেন্টার, ফিল অ্যাপারেলস, অ্যাপারেলস প্লাস, ইউনিটেক্স কম্পোজিট মিলস, আর্কাই নিট ডাইং মিলস, আলিজা ফ্যাশন, ফ্যাশন ট্রাউজারস, রুমানা ফ্যাশন, গ্ল্যামার ড্রেস, সান্টা নিট ফ্যাশন, মাস ফেব্রিক্স, জিন্নাত নিটওয়ার, এজি ড্রেস, বারসন ফ্যাশন, এস-সিক্স ফ্যাশন, ইপিলিয়ন ফ্যাশন, ইন্টারন্যাশনাল ক্ল্যাসিক, নিউ লাইন সোয়েটারস, মেনহাজ স্টাইল, উইরো ডেনিম অ্যান্ড ওয়াসিং, জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন, রাইজিং ফ্যাশন এক্সেসরিস, এনডিএইচ ডাইং ফ্যাক্টরি, মেগা সোয়েটার কম্পোজিট, পুরুডেন্ট ফ্যাশন, আম্বার ওয়াস, উইনটেক্স গার্মেন্টস, রিফাত ফ্যাশন, আমান গ্রাফিকস ইকো স্টুডিও, হামিম ডেনিম, এমএইচ নিট, এমএইচ স্পোর্টস ওয়ার, কেডিএস ফ্যাশন, আজমাট অ্যাপারেল, রাসেল গার্মেন্টস, টেক্সপ্রো ইকো অ্যাপারেল, ডেকো গার্মেন্ট, ইক্সিকিউটিভ গ্রিনটেক্স, সিএ নিটওয়ার, ওয়াকফি নিট ফেব্রিক্স, ইসলাম ইকো গার্মেন্ট, নিও জিপার কোম্পানি, পিমকি অ্যাপারেল, ইস্ট-ওয়েস্ট ইন্ডাস্ট্রিজ, সাইনেস্ট এক্সপোর্ট ভিলেজ, পিনাকি ইকো অ্যাপারেল, মাহিন এক্সেসোরিস, সিমবা ফ্যাশন, নাসা হাইটেক স্টাইল, নাবা নিট কম্পোজিট, ট্রাস্ট নিটওয়ার, সান ফ্যাশন ওয়ার, আলয়না ফ্যাশন, অ্যাপারেল মেকারস, ডেভা, ড্রাগন সোয়েটার অ্যান্ড স্পিনিং, কিউট ড্রেস, অ্যাপারেল ২১, বারাকা অ্যাপারেল, তাহের অ্যাপারেল, বারিধি গার্মেন্টস, মেঘনা ডেনিমস, ফারইস্ট স্পিনিং ইন্ডাস্ট্রিজ, কাজীপুর ফ্যাশন, অ্যাডামস স্টাইল, মাহমুদ ফ্যাশন, রিয়ালাইন্স ড্রেস, রহমত ফ্যাশন, অরুনিমা নিটওয়ার, ইব্রাহিম টেক্সটাইল, নিট হেভেন, টিমটেক্স ইকো অ্যাপারেল, এবিসি নিটওয়ার, নিট জোন মুড, এবিসি ফ্যাশন, ফাতুল্লা অ্যাপারেল, ব্লু প্লানেট ফ্যাশন ওয়ার, কানিজ ফ্যাশন, সাবলিন গ্রিনটেক্স, অল ওয়েদার ফ্যাশন, সাউদার্ন গার্মেন্টস, পিএন কম্পোজিট, লাইলা স্টাইল, কেআরসি কম্পোজিট টেক্সটাইল, জেএফকে ফ্যাশন, মিথিলা ডাইং, কোর্নি অ্যাপারেল, আমির শার্ট, ম্যাক্সকোন ইন্টারন্যাশনাল বিডি, ফ্রেন্ডস নিটিংস, লিরিক্সস ইন্ডাস্ট্রিজ, নিট এশিয়া, বিসমিল্লাহ আরএমজি প্রোজেক্ট, এনএইচটি ফ্যাশন, অ্যাসপেয়ার গার্মেন্টস, ডিভাইন গার্মেন্টস, রেনেসাস বেরিন্ড, আয়েশা ক্লথিং, প্রেটি সোয়েটারস, আরগোন জিন্স, কুন টং অ্যাপারেলস, প্রাইড ক্লথিং, ব্র্যান্ডডিক্স বাংলাদেশ গ্রিন প্রজেক্ট, যাই যাই মিলস বিডি, সি ব্লু টেক্সটাইল ও সি টেক্স লিমিটেড। এসবের মাঝে কোনো কোনো গ্রুপের ৪-৫টি কারখানা সবুজ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। 

গ্রিন ফ্যাক্টরির জন্য যা প্রয়োজন : একটি বিষয় এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন তাহলো, গ্রিন ফ্যাক্টরি করতে প্রচুর পরিমাণে বিনিয়োগ দরকার। একটি ফ্যাক্টরি করতে ২০০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হয়। এর পাশাপাশি জমিও লাগে ৩ থেকে ১০ বিঘা। দেশের এ পর্যন্ত যে সব কারখানা গ্রিন ফ্যাক্টরির খেতাব জিতে নিয়েছে তাদের বেশিরভাগ উদ্যোক্তার বিনিয়োগই ছিল ৫০০ কোটি থেকে ১১০০ কোটি টাকার মধ্যে। গ্রিন ফ্যাক্টরির স্বীকৃতি লাভ করতে হলে একটি প্রকল্পকে ইউএসজিবিসির তত্ত্বাবধানে নির্মাণ থেকে উৎপাদন পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে সর্বোচ্চ মান রক্ষা করতে হয়। ভবন নির্মাণ শেষ হলে কিংবা পুরনো ভবন সংস্কার করেও আবেদন করা যায়। এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এ ধরনের গ্রিন ফ্যাক্টরি প্রকল্পের জন্য উদ্যোক্তাকে উৎপাদনের শুরু থেকে কারখানা গুটিয়ে নেয়া বা ধ্বংস হওয়ার আগ পর্যন্ত কার্যক্রম পরিচালনায় আন্তর্জাতিক মানদন্ড বজায় রাখতে হয়। গ্রিন ফ্যাক্টরি ধারণার একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো পরিবেশের সুরক্ষা। পরিবেশবান্ধব, বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সাশ্রয়ী, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে উৎপাদন প্রক্রিয়া চালু রাখা কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হলেও গ্রিন ফ্যাক্টরি ধারনার বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই চ্যলেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।

পরিবেশবান্ধব স্থাপনার শর্ত পরিপালন বিবেচনায় মোট চারটি ক্যাটাগরিতে সনদ প্রদান করে টঝএইঈ আর তা হলো
সার্টিফাইড : ৪০-৪৯ পয়েন্ট, সিলভারঃ ৫০-৫৯ পয়েন্ট, গোল্ডঃ ৬০-৬৯ পয়েন্ট, প্লাটিনামঃ ৮০+ পয়েন্ট।

মোট ১১০ পয়েন্টকে সাতটি ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করে এই সার্টিফিকেশন দেওয়া হয়। তা হচ্ছে-
জমির ভৌগোলিক অবস্থানেঃ ২৬ পয়েন্ট, পানি সাশ্রয়ঃ ১০ পয়েন্ট, প্রাকৃতিক শক্তির ব্যবহারঃ ৩৫ পয়েন্ট, পরিবেশ বান্ধব নির্মাণসামগ্রীঃ ১৪ পয়েন্ট, অভ্যন্তরীণ পরিবেশগত অবস্থাঃ ১৫ পয়েন্ট, অতি সাম্প্রতিক উদ্ভাবিত যন্ত্রের ব্যবহারঃ ৬ পয়েন্ট
এলাকাভিত্তিক প্রাধান্যতাঃ ৪ পয়েন্ট।

নিদিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করে ক্যাটাগরিভিত্তিক সুনির্দিষ্ট পয়েন্ট অর্জন সাপেক্ষে ইউএসজিবিসি থেকে পরিবেশবান্ধব কারখানা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া যায়, যেসব শর্ত পূরণ করতে হয় তা হলো ঃ ১. কারখানা নির্মাণে কী ধরনের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে; ২. কারখানায় সূর্যের আলোর কী পরিমাণ ব্যবহার হয়; ৩. সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার করা হয় কিনা; ৪. কারখানার নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে শ্রমিকদের বাসস্থান আছে কিনা; ৫. স্কুল, বাজার করার ব্যবস্থা বা বাসস্ট্যান্ড রয়েছে কিনা; ৬. সূর্যের আলো ব্যবহার করার পাশাপাশি সৌরবিদ্যুত ব্যবহার এবং বিদ্যুতসাশ্রয়ী বাতি ব্যবহার করা হয় কিনা; ৭. বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে তা ব্যবহার করা হয় কিনা; ৮. কারখানা নির্মাণে নির্দিষ্ট পরিমাণ খোলা জায়গা রাখা হয়েছে কিনা; 

৯. অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা আছে কিনা; ১০. বৈদ্যুতিক ফিটিংস স্থাপন ছাড়াও অগ্নি দুর্ঘটনা এড়াতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়েছে কিনা ইত্যাদি।

 লীড সার্টিফিকেশন পাওয়ার ক্ষেত্রে যে প্রক্রিয়া মেনে চলতে হয়। খঊঊউ ঈবৎঃরভরপধঃরড়হ-এর জন্য পাঁচটি ধাপ রয়েছেঃ 

১। নির্ধারণ করাঃ প্রথমে আপনাকে নির্ধারন করতে হবে আসলে কোন ধরনের সার্টিফিকেশনের জন্য আপনি আবেদন করতে যাচ্ছেন। খঊঊউ ঈবৎঃরভরপধঃরড়হ এর অনেকগুলো ভাগ আছে আবেদন করার জন্য। আপনি সেখান থেকে আপনার যেই ভাগটিতে আবেদন করতে সুবিধা হয় সেই ভাগটিতেই আবেদন করবেন বা করার প্রস্তুতি নিবেন।

২। রেজিস্ট্রেশনঃ খঊঊউ ঈবৎঃরভরপধঃরড়হ প্রক্রিয়া রেজিস্ট্রেশানের মাধ্যমে শুরু হয়। যখন আপনি আপনার প্রকল্পটির জন্য রেজিস্ট্রেশান করে প্রয়োজনীয় ফী প্রদান করবেন, তখনি আপনার প্রকল্পটি খঊঊউ ঙহষরহব-এ দেখা যাবে। এখান থেকেই আপনি আপনার প্রকল্পের দল তৈরি করে আপনার আবেদন প্রক্রিয়াটি চালু করতে পারেন।

৩। আবেদনপত্র জমা দেওয়া ঃ খঊঊউ অনলাইনের মাধ্যমে আপনার আবেদনটি জমা দেওয়ার দায়িত্ব আপনার খঊঊউ প্রকল্পের প্রশাসকের এবং যদিও প্রয়োজন ভিন্ন হতে পারে তবুও তারা সার্টিফিকেশনের জন্য পর্যালোচনা ফী অন্তর্ভুক্ত করবে। সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য প্রকল্পের দলটিকে প্রত্যয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পূর্বশর্তাদি, ক্রেডিট এবং সম্পূর্ণ প্রকল্পের সাধারণ তথ্যাদিসমৃদ্ধ ফর্ম পুরন করে জমা দিতে হবে।

৪।পর্যালোচনা প্রক্রিয়াঃ আবেদন পর্যালোচনার বিষয়টি ভিন্ন ভিন্ন স্থাপনার জন্য ভিন্ন হয়। একটি পূর্ণাঙ্গ আবেদন জমা দেবার পরই আবেদন পর্যালোচনার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই পর্যালোচনার বিভিন্ন পর্যায়ে চূড়ান্ত নির্মাণ ও চূড়ান্ত নকশা পর্যালোচনার পূর্বে ক্রেডিট সংক্রান্ত পুনঃমূল্যায়নের জন্য প্রকল্পের দলটি আবেদন করতে পারবে।

৫। সার্টিফিকেশনঃ সার্টিফাই হবার মাধ্যমেই খঊঊউ ঈবৎঃরভরপধঃরড়হএর সকল কাজ শেষ হয়। চূড়ান্ত পর্যালোচনা শেষে প্রকল্পর দলটিকে সিদ্ধান্ত জানান হয়।

সার্টিফিকেশন অর্জনই আসলে শেষ কথা নয়। অর্জিত সার্টিফিকেটের নির্ধারিত মানদণ্ড ধরে রাখাটাই মূখ্য। আশা করি আমাদের সার্টিফাইড গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিগুলো তাঁদর মানদণ্ড ধরে রাখবে, নতুন নতুন গ্রিন ফ্যাক্টরি গড়ে উঠবে, সবুজে ভরপুর হবে আমাদের গার্মেন্টস শিল্প 

বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, সংগঠনটির নিবন্ধিত তৈরি পোশাক কারখানার সংখ্যা ৬ হাজার ১৯৬। এর মধ্যে বিভিন্ন সময় নানা কারণে ১ হাজার ৭৬৫ কারখানা বন্ধ করা হয়েছে সংগঠনটির নিজস্ব উদ্যোগে। এসব কারখানা বাদ দিলে নিবন্ধিত কারখানার সংখ্যা দাঁড়ায় ৪ হাজার ৪৩১। এর মধ্যে সক্রিয় কারখানার সংখ্যা ৩ হাজার ৫০০। আর সরাসরি রফতানি করে এমন কারখানার সংখ্যা ২ হাজার ২০০। বাকি ১৫০০ কারখানা চালু থাকলেও এরা বিজিএমইএ থেকে ইউডি (ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন) সুবিধা নেয় না। মূলত এসব কারখানা সাব-কন্ট্রাকটিংয়ে কাজ করে। দেশের ইপিজেডগুলোতে প্রায় ৭০ (রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা) শতভাগ বিদেশি মালাকানার তৈরি পোশাক কারখানা রয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে আরো শতাধিক কারখানা রয়েছে বিদেশিদের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগে। মূলত শতভাগ বিদেশি মালিকানা বা যৌথ মালিকানাধীন কারখানাগুলো গড়ে উঠেছে ইপিজেডে।

লেখক: কবি ও অর্থনীতিবিষয়ক সংবাদকর্মী

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন

প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।