বুধবার ১৪ এপ্রিল ২০২১ ৩০ চৈত্র ১৪২৭

ওই গণদুষমনদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে
আলজাজিরার উদ্দেশ্যমূলক মিথ্যা প্রচারণা
রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ৮:৪৭ পিএম আপডেট: ১০.০২.২০২১ ১০:৩০ এএম | অনলাইন সংস্করণ

ওই গণদুষমনদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে

ওই গণদুষমনদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে

কাতারভিত্তিক টিভি চ্যানেল আলজাজিরা ও তার দোসররা কী চায়, তা অত্যন্ত স্পষ্ট। তারা অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ, যা বর্তমান বিশ্বের উন্নয়নের রোল মডেল, সেই দেশকে একটি মাফিয়া (সন্ত্রাসী) দেশ হিসেবে চিহ্নিত করতে চায়। আরে মূর্খের দল, চাইলেই কি বিশ্ব সেটা মেনে নিবে? যে মুহূর্তে জাতিসংঘ, বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফ, এডিবি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আন্তর্জাতিক অভিভাসন সংস্থাসহ প্রায় সব বিশ্ব সংস্থা যখন বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল বলছে, তখন একটি বিতর্কিত টিভি চ্যানেল কি বলল না বলল তাকে কি এসে যায়? যখন গণতন্ত্র সূচকে দেশ চার ধাপ এগিয়ে গেছে, মহামারি করোনা মোকাবেলায় বাংলাদেশ বিশ্বে নজির স্থাপন করেছে, করোনার মধ্যেও যখন দেশের অর্থনীতির সব কটি সূচক উল্লেখযোগ্য হারে ইতিবাচক, যখন অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে দেশব্যাপী করোনা ভ্যাকসিন কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে, বাংলাদেশ যখন রোহিঙ্গা শরনার্থীদের আশ্রয় দিয়ে সমগ্র বিশ্বের আকুণ্ঠ প্রশংসা অর্জন করেছে, জাতিসংঘ শান্তি মিশনে আমাদের অকুতোভয় সেনাবাহিনীর সাহসী ভূমিকা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে, যখন নারীর ক্ষণমতায়ন, সন্ত্রাস দমন, স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন, যুবশক্তি ও প্রযুক্তির ব্যবহার এবং খাদ্যসহ অন্যান্য উৎপাদনে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া তো বটেই, বিশ্বে একটি শক্ত অবস্থান সৃষ্টি করেছে, তখনই ওই অপশক্তি উঠেপড়ে লেগেছে দেশের বিরুদ্ধে। স্বাধীনতার সেই চিহ্নিত পরাজিত শক্তি তাদের দেশি-বিদেশি দোষরদের সহায়তায় আলজাজিরা একটি মিথ্যা, বানোয়াট, তথ্য-প্রমাণহীন, একতরফা ও উদ্দেশ্যমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। মৌলবাদ ও সন্ত্রাসবাদকে উস্কে দেওয়ার জন্য বিশ্বের বহু দেশে নিষিদ্ধ এই চ্যানেলটি এখন টাকার বিনিময়ে স্লট ভাড়া দিয়ে অর্থ কামায়। তারই একটি বড় উদাহরণ এই প্রতিবেদনটি। 

কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আলজাজিরার ‘অল প্রাইম মিনিস্টারস ম্যান’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন দেশজুড়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ওই প্রতিবেদন ঘিরে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। বাংলাদেশের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে ইতিপূর্বেও আলজাজিরায় প্রকাশিত খবর নিয়ে রয়েছে নানা বিতর্ক। সাংবাদিকতার কোনো সজ্ঞাতেই প্রতিবেদনটি তথ্যবহুল বা অনুসন্ধানী বলা যাবে না। কারণ প্রতিবেদনে যাদের নাম ও কন্ঠ ব্যবহার করা হয়েছে, তারা প্রত্যেকেই বহুল বিতর্কিত এবং প্রতিবেদনের কোথাও কোনো অভিযোগের প্রমাণ তারা করতে পারেনি। আল সম্পূর্ণ একতরফা প্রতিবেদনটি অগ্রহণযোগ্য। কারণ বাংলাদেশ সরকার ও সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে নানা মনগড়া ও বানোয়াট অভিযোগ তা উপস্থাপনের চেষ্টা করলেও, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে কারও কোনো বক্তব্য নেওয়া হয়নি। এটা কোন ধরনের সাংবাদিকতা? আর ইসরায়েলের কোমলপানীয় আমরা বছরের পর বছর ধরে পান করলেও তাদের তৈরি কোনো যন্ত্র অন্য দেশের মাধ্যমে কেনা কেন অপরাধ হবে? প্রতিবেদনে তারা কোথাও প্রমাণ দিতে পারেনি যে, বাংলাদেশ যন্ত্রপাতিগুলো ইসরায়েল থেকে ক্রয় করেছে। তাহলে ওই পাকিস্তানপন্থি ও স্বাধীনতাবিরোধীদের দোসর এবং জামায়াতের অর্থে লালিত চিহ্নিত ব্যক্তিবর্গের খুশি হওয়ার কারণ বা কী? আমরা তো তাদের চিনি, জানি ও তাদের খুঁটির জোরও বুঝি।   

‘অল প্রাইম মিনিস্টারস ম্যান’ শিরোনামে তথাকথিত এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটির ব্যাপ্তি ১ ঘণ্টার কিছু বেশি সময় ধরে প্রচারিত হলেও খাপছাড়া, অপ্রাসঙ্গিক, প্রমাণহীণ ও উদ্দেশ্যমূলক কিছু মনগড়া কথা তুলে ধরা হয়েছে। একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এত দীর্ঘ কলেবরের প্রতিবেদনে কিছু হাওয়াই অভিযোগ নিয়ে চর্চা করা হয়েছে। যে কোনো সত্যনিষ্ঠ অনুসন্ধিৎসু দর্শক দীর্ঘ প্রতিবেদনটি গভীর মনোযোগ দিয়ে দেখলেই বুঝবেন, সত্যান্বেষণ নয়, বরং রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডার জন্যই এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে যাদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে তারা কারা? প্রামাণ্য চিত্রে যে সব অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তা একজনের বরাতে তিনি হলেন সামি। চাতুর্যের সঙ্গে তার পুরো নাম এবং পরিচয় গোপন করা হয়েছে সামির। সামির পুরো নাম সামিউল আলম। ২০০২ সালে ইউরোপ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের (খাম্বা মামুন) অন্যতম বিজনেস পার্টনার। হাওয়া ভবনে তারেক রহমানের অন্যতম সহযোগী। ২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেনে মোষ্ট ওয়ানটেড দুর্নীতিবাজদের অন্যতম। তার বক্তব্যেই এই প্রামাণ্য চিত্রের মূল উপজীব্য। তিনি নিজেই একজন জালিয়াত এবং দুর্নীতিবাজ। এই প্রামাণ্যচিত্রে দু’জন বক্তব্য রেখেছেন একজন বিতর্কিত নেত্র নিউজের তাসনিম খলিল। অন্যজন যুদ্ধাপরাধীদের এজেন্ট এবং তারেক রহমানের বেতনভুক্ত উপদেষ্টা ড. কামাল হোসেনের জামাতা ডেভিড বার্গম্যান।

এদের বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, এরা সরকারবিরোধী প্রোপাগান্ডা মিশনে নেমেছে। এই প্রামাণ্য চিত্রে আরো একজনের কণ্ঠস্বর শোনা যায়, যিনি তার চেহারা দেখাননি, তিনি হলেন কনক সারওয়ার। কনক সারওয়ার সরাসরি তারেকের কর্মচারী। লন্ডনে পলাতক আসামি তারেক রহমানের নির্দেশেই নির্মিত এই প্রামাণ্য চিত্রটা দেখলেই বোঝা যায়, এই প্রোপাগান্ডার মূল লক্ষ্য বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করা।

তারেক রহমানের অনুগতরা মিলে এটি বানিয়েছে। কোনো সলিড তথ্য উপাত্ত না থাকলেও, প্রামাণ্য চিত্রে ফিল্মি কায়দায় সুপার এডিটিং আছে, আছে ভয়েজ টেম্পারিং। বিপুল ব্যয় হয়েছে প্রামাণ্য চিত্রটি নির্মাণে।

বাংলাদেশ ছাড়াও সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, হাঙ্গেরি এবং ফ্রান্সে এর দৃশ্যায়ন হয়েছে। তবে সব অপরাধীই অপরাধের একটা করে প্রমাণ রাখে। এই প্রামাণ্য চিত্রে এরকম অসংখ্য অসঙ্গতি রয়েছে।

প্রামাণ্য চিত্রটা যে উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে নির্মিত, তার বেশ কিছু প্রমাণ আছে। প্রামাণ্য চিত্রের শুরুতেই হারিসকে বলা হয়েছে ‘সাইকোপ্যাথ’। মানসিক ভারসাম্যহীন একজন ব্যক্তির কোন বক্তব্যই বিবেচনার দাবি রাখে না, এই তথ্য বোধহয় তারেকের অনুগত ভাড়াটে তথাকথিত সাংবাদিকরা বোঝে নাই।
এখানে তারেক রহমানের বিজনেস পার্টনার, ক্যাসিনো সম্রাট সেলিম প্রধানকে এনে আরেকটা কাঁচা কাজ করা হয়েছে। সবাই বুঝেছে, একজন দুর্নীতিবাজের টাকায় আরেকজনকে দুর্নীতিবাজ বলার চেষ্টা হয়েছে এই প্রামাণ্যচিত্রে। 

আলজাজিরার মিথ্যাচার নতুন নয়। মিথ্যা সংবাদ প্রচারের কারণে সৌদি আরব, মিসর, বাহরাইন, আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ আলজাজিরার অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করেছে। এ টেলিভিশনটি যে জঙ্গি মৌলবাদী সংস্থা ইসলামিক ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পৃক্ত তাও কারও অজানা নয়। সুতরাং মৌলবাদ প্রচার করে বাংলাদেশসহ গণতান্ত্রিক দেশসমূহে অসাংবিধানিকভাবে সরকারের পতন ঘটানোর জন্য তারা সদাপ্রস্তুত এবং এ উদ্দেশ্যেই তাদের এই দুই দিনের অপপ্রয়াস। তাদের এ কর্মকান্ডের সঙ্গে নিশ্চিতভাবে জেনারেল সোহরাওয়ার্দীর সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্য, বিদেশে পদচ্যুত রাষ্ট্রদ্রোহী কিছু সাবেক সেনা কর্মকর্তা যথা মেজর দেলোয়ার, কর্নেল শহিদুদ্দিন খান, যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যাওয়া সাংবাদিক কনক সরওয়ার, ইস্তাম্বুলে থাকা মাহমুদুর রহমান, সুইডেনে বসবাসরত তাসিমিন খলিল গং কয়েক বছর ধরে যেসব মিথ্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে আলজাজিরার অনুষ্ঠান তারই ধারাবাহিকতায় প্রচারিত হচ্ছে। যে ৪২ জন মুখচেনা ব্যক্তি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে উদ্ভট এবং আইন-অসমর্থিত কথা বলছেন, সেটিও এ ষড়যন্ত্রেরই অংশ। তাদের মনে রাখা উচিত, বর্তমানে নির্বাচিত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারের ও দেশের উন্নয়নের জন্য সারা বিশ্বের রোল মডেল হওয়ার কারণে, অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তা বিরাজমান, তাতে এই কুচক্রীদের ষড়যন্ত্র আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হতে বাধ্য। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে-বিদেশে যে ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছেন তার প্রজ্ঞা, দেশপ্রেম এবং গণতন্ত্রের প্রতি একনিষ্ঠতার কারণে তা আলজাজিরার ষড়যন্ত্রকারীরা ক্ষুণ্ন করতে পারবে না। এ ব্যাপারে তাদের বিশ্বস্ত বন্ধু পেতে ষড়যন্ত্রকারীদের কোনোই অসুবিধা হয়নি। কেননা ড. কামাল হোসেনের মেয়ে ব্যারিস্টার সারা হোসেনের স্বামী ডেভিড বার্গম্যান তো সদাই হাজির হুজুর।

নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, এই ডেভিড বার্গম্যানই আলজাজিরার অনুষ্ঠানগুলোর নীলনকশা তৈরি করেছেন এবং অনুষ্ঠানগুলো যে কজনের চিন্তার ফসল, ডেভিড বার্গম্যান তাদেরই একজন। এ কুচক্রীরা যে দীর্ঘ সময় ধরে এ অনুষ্ঠানগুলো তৈরির ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ডেভিড বার্গম্যান ছিলেন যুক্তরাজ্যের অতি নগণ্য পর্যায়ের একজন সাংবাদিক। তিনি কয়েক বছর আগে হঠাৎ বিলেতে এক টেলিভিশন চ্যানেলে আমাদের দেশের ’৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের ওপর প্রামাণ্যচিত্র করার সময় সেখানকার বাঙালি মহলের কাছে পরিচিত হন। এরপর ড. কামাল হোসেনতনয়া ব্যারিস্টার সারা হোসেনের স্বামী হিসেবে তিনি বাংলাদেশে আসার পরপরই জামায়াতি যুদ্ধাপরাধীদের টাকা গিলে ফেলে তাদের সুরেই গান গাইতে শুরু করেন। অর্থাৎ যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে সাংবাদিকতা করতে শুরু করেন। শুধু তিনি একাই নন, তিনি তার শ্বশুর ড. কামাল এবং তার স্ত্রী সারা হোসেনকে এমনভাবে প্রভাবিত করেন যে, যেই ড. কামাল ১৯৭৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের সাজা দেওয়ার জন্য আইন প্রণয়নের সময় বঙ্গবন্ধুর একজন মন্ত্রী ছিলেন, সেই ড. কামাল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায়ের সময় মুখে কুলুপ দিয়ে পরোক্ষভাবে তাদের পক্ষই অবলম্বন করেন।

ডেভিড বার্গম্যান জামায়াতিদের দ্বারা এতই প্রভাবিত হন যে, আপিল বিভাগে যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার আপিল শুনানিকালে তিনি আদালতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে থাকাকালে বিচারপতিরা তাকে আদালত থেকে বের করে দিয়েছিলেন। ডেভিড বার্গম্যানের ষড়যন্ত্র চলতে থাকে জামায়াতিদের সঙ্গে। পরবর্তীতে এক পর্যায়ে তার ভিসার মেয়াদ শেষ হলে তিনি লন্ডন ফিরে গিয়ে জামায়াতি নেতা ব্যারিস্টার রাজ্জাক, যিনি দেশে থাকাকালে যুদ্ধাপরাধীদের আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন, তার সঙ্গে মিলিত হয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে জোট সরকারকে অবৈধভাবে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য অশুভ তৎপরতা চালিয়ে যেতে থাকেন। লন্ডনে বসবাসরত এমন কিছু রাষ্ট্রদ্রোহী প্রাক্তন সামরিক, বেসামরিক ব্যক্তির সঙ্গে, যারা তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হলে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন, এই ষড়যন্ত্রকারীদের সখ্য গড়ে ওঠে। বিলেতে তারা আর্থিক দিক থেকে বেশ ভালো অবস্থায়ই আছেন, কাটাচ্ছেন বিলাসী জীবন।

আলজাজিরার অনুষ্ঠানগুলো দেখে আমার মনে হয়েছে, যার সবকিছুই কাল্পনিক। তাদের কোনো দাবির পক্ষেই কোনো তথ্য-উপাত্ত নেই। সবই মনগড়া। অনুষ্ঠানগুলো বিশ্বাসযোগ্যতার মাপকাঠিতে শূন্যের কোঠায়। তারা আমাদের সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ সম্পর্কে যেসব হেঁয়ালিপূর্ণ কথা বলার চেষ্টা করেছেন, সেগুলো একান্তই বালসুলভ। দেশের সেনাপ্রধানের ছেলের বিয়েতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি যাবেন, এটা যদি কেউ অস্বাভাবিক মনে করেন তাহলে তার চিন্তা-চেতনা কতখানি সুস্থ সেটি বিরাট প্রশ্ন বইকি। আর মহামান্য রাষ্ট্রপতি বা কোনো ভিভিআইপি একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গেলে সেখানে তাকে ঘিরে অনেকেই ছবি তুলে থাকেন। কে বা কারা তার সঙ্গে ছবি তুলেছেন, সেটা যাচাই করা নিশ্চয়ই ভিভিআইপি ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব নয়।

জেনারেল আজিজের ভাই-ই যে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে ক্ষমা লাভ করেছেন তা নতুন কিছু নয়। বহু বছর আগে জিয়াউর রহমান সাত খুনের জন্য সাজাপ্রাপ্ত শফিউল আলম প্রধানকে বাংলাদেশ সৃষ্টির পর প্রথম ক্ষমা করেছিলেন। এরপর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রাষ্ট্রপতি বহুজনকে ক্ষমা করেছেন। খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে খুনের জন্য দন্ডপ্রাপ্ত সুইডেনে পলাতক এক লোককে খালেদা জিয়া এবং তৎকালীন আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ সাহেবের পরামর্শক্রমে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত মনোনীত রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন সাহেব ক্ষমা করেছিলেন। সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে এই বিশেষ ক্ষমতাটি দিয়েছে। এ জন্য যে, তিনি সবকিছু বিবেচনার পর যদি মনে করেন বিচারে কোনো ত্রুটি থেকে থাকতে পারে, তাহলে ন্যায়ের স্বার্থেই মহামান্য রাষ্ট্রপতি ক্ষমা করতে পারেন। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই এ বিধান রয়েছে। জেনারেল আজিজের ভাই হারিস তার ভাইয়ের নাম ভাঙিয়ে, তার অবস্থানের সুযোগ নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করেছেন বলে যে কথা আলজাজিরায় বলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ কল্পনাপ্রসূত। এ দাবির পক্ষে তারা ন্যূনতম প্রমাণ দিতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রী জেনারেল আজিজকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছেন, তাদের এই অর্বাচীন উক্তির পক্ষে তারা কোনো প্রমাণই দেখাতে পারেনি। তারা এক ব্যক্তিকে হাঙ্গেরির এক কর্মকর্তা বলে উপস্থাপন করেছে। অথচ ওই ব্যক্তি যে সত্যি সত্যিই হাঙ্গেরিয়ান কর্মকর্তা তার পক্ষে সমর্থনসূচক কোনো প্রমাণ তারা দেখাতে পারেনি। তুরস্কসহ বেশ কিছু দেশ আজ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার এবং উন্নয়নের চেষ্টা করলেও বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত দৃঢ়। কোনো অবস্থায়ই ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক নয়। অথচ আলজাজিরা এই মর্মে ভুয়া কথা বলল যে, বাংলাদেশ নাকি ইসরায়েল থেকে গোয়েন্দা যন্ত্রপাতি কিনছে। এ কথা যে সর্বৈব অসত্য তা আলজাজিরার অনুষ্ঠানই প্রমাণ করে। কেননা তাদের তথ্য থেকেই বেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশ গোয়েন্দা যন্ত্রপাতি কিনেছে হাঙ্গেরি থেকে।

১৯৭১-এর পরাজিত অপশক্তিরাই যে এ ষড়যন্ত্রের মূল হোতা এ ব্যাপারে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। তারা এখনো চেষ্টা করছে আমাদের গৌরবের সেনাবাহিনীর মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির। কিন্তু তারা ভুলে যাচ্ছে আমাদের দেশপ্রেমিক সেনা সদস্যরা এই ’৭১-এর পরাজিত অপশক্তির কথায় বিভ্রান্ত হওয়ার নয়।

ইতিমধ্যেই সরকারের পক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় আলজাজিরার প্রতিবেদনটি মিথ্যা, বানোয়াট, কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যর্মূলক বলে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন আরও বলেছেন, তারা আলজাজিরার বিরুদ্ধে মামলারও প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আমরা শুধু আলজাজিরা নয়, তাদের এদেশীয় দোষরদের মুখোশও উম্মেচনের জোর দাবি জানাচ্ছি এবং ওইসব গণদুষমনদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবি জানাচ্ছি। 

লেখক: সম্পাদক, দৈনিক স্বদেশ প্রতিদিন

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন

প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।