মঙ্গলবার ১৯ জানুয়ারি ২০২১ ৫ মাঘ ১৪২৭

‘তৈরি পোশাক ও রেমিট্যান্স: দুই খাতের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ’
বিশ্ব ব্যাংকের আশঙ্কা ভুল প্রমাণে প্রস্তুত সরকার
জোনায়েদ মানসুর
প্রকাশ: শনিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২১, ৫:৫০ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

বিশ্ব ব্যাংকের আশঙ্কা ভুল প্রমাণে প্রস্তুত সরকার

বিশ্ব ব্যাংকের আশঙ্কা ভুল প্রমাণে প্রস্তুত সরকার

মহামারি করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) বড় ঝুঁকিতে পড়ছে বৈশ্বিক অর্থনীতি। এ ঝুঁকির কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিপর্যস্তের বড় শঙ্কা করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, করোনার প্রথম ঢেউ কাটিয়ে উঠতে না উঠতে দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কা সামলানো কঠিন হবে। শুধু বিশেষজ্ঞরা নয়, বিশ্ব ব্যাংকও এ ক্ষতির আশঙ্কা করছে। বিশ্ব ব্যাংকের অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদন ‘ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক আউটলুকের’ জানুয়ারি সংখ্যায় এই ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান দুটি খাত হচ্ছে তৈরি পোশাক ও রেমিট্যান্স। গত মঙ্গলবার বিশ্ব ব্যাংক এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে বাংলাদেশের অর্থনীতি দুর্বল হতে পারে। করোনার অভিঘাতে তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশের দুই শক্তিশালী খাত। বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহামারির কারণে বিশ্বজুড়ে তৈরি পোশাকের চাহিদা দুর্বল হয়ে পড়ায় বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ রফতানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ‘প্রবৃদ্ধির জন্য বাহ্যিক উৎসের উপর নির্ভরশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার হবে দুর্বল। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের কারণে বাংলাদেশে রফতানি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দুর্বল থাকবে।‘ বিশ্ব ব্যাংক বলছে, ২০২০ সালে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে প্রবাসী আয়ে যে দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি হয়েছে, তার কারণ হলো- বৈধ পথে অর্থ পাঠানো বৃদ্ধি, সরকারের প্রণোদনা এবং অভিবাসী কর্মীদের জমানো টাকাসহ দেশে ফিরে আসা। তবে উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার খুব শ্লথ হওয়ায় এবং যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে নতুন করে মহামারির প্রকোপ বাড়ার কারণে সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশসহ রেমিট্যান্সনির্ভর দেশগুলোর ঝুঁকি বাড়বে বলে মনে করছে বিশ্ব ব্যাংক। সংস্থাটি বলেছে, মহামারি থেকে দীর্ঘমেয়াদি পুনরুদ্ধারের অর্থনৈতিক পরিণতি হিসেবে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে অভ্যন্তরীণ ব্যাংক খাতের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। এর ফলে দেউলিয়াত্ব বাড়ার পাশাপাশি ব্যাংকসহ আর্থিক খাতের ব্যালান্স শিট দুর্বল হতে পারে। এ ছাড়া চরম আবহাওয়ার প্রভাবও আঞ্চলিক ঝুঁকি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিমত জানতে চাইলে ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সহসভাপতি এবং বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান স্বদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমরা পোশাকশিল্প মালিকরা এক ধরনের ধূম্রজালের মধ্যে আছি। কিছু বুঝতে পারছি না। এত দিন অর্ডার ভালোই ছিল। বিক্রিও বেড়েছে। ফলে আমরা মনে করেছিলাম, চালিয়ে যেতে পারব। কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক এ সম্পাদক বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তারা তৈরি পোশাক কেনা কমিয়ে দিয়েছেন। দেশটির ব্র্যান্ড ও ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো পোশাক আমদানি চার ভাগের এক ভাগ কমিয়ে দিয়েছে। এতে তৈরি পোশাক রফতানিকারক দেশগুলোতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে, অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চীনের পোশাক রফতানি ৪৫ শতাংশ কমেছে। ভিয়েতনামের ৯ ও বাংলাদেশের ১৩ শতাংশ পোশাক রফতানি কমেছে বলে জানান তিনি। পোশাক খাতসহ ক্ষতিগ্রস্ত সব খাতে সরকার সহযোগিতা করছে বলেও জানান তিনি।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ নুরুল আমিন স্বদেশ প্রতিদিনেক বলেন, গত বছর রেমিট্যান্সের গতি ভালো ছিল। সম্প্রতি বিশ্ব ব্যাংকের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যে পরিমাণে জনশক্তি বিদেশে যায়, যে পরিমাণে গত বছর যায়নি। প্রতি বছর গড়ে ৭-৮ লাখ জনশক্তি রফতানি হয়। কিন্তু গত বছর মাত্র ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ জনশক্তি রফতানি হয়েছে। ওভারকাম করার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, দক্ষ লোক পাঠাতে হবে। এ জন্যে সরকারের যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে, মনে করেন তিনি।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ থেকে সামগ্রিক অর্থনীতি সামলাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। এ বিষয়ে বাণিজ্য সচিব ড. জাফর উদ্দীন বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামলানোর জন্য সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছে। সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি মানার ওপর। অনেক দেশ লকডাউনে গেলেও তাদের দেশে বাণিজ্য কর্মক্লা পুরোপুরি চালু থাকবে। এ জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি কার্যক্রমও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পণ্য উৎপাদন ও বিপণনে বাণিজ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয় একযোগে কাজ করবে। এ জন্য একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়েছে। প্রথম ঢেউয়ে দেওয়া প্রণোদনার ঋণ এখনো শতভাগ বিতরণ করা হয়নি। তার পরও দ্বিতীয় ঢেউয়ে সরকার নতুন করে কোনো প্রণোদনা ঘোষণা করলে এই খাতগুলোর অর্থ ব্যবহার করা হতে পারে।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের বিষয় জানতে চাইলে সিপিডির সিনিয়র গবেষক ও অর্থনীতিবিদ ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম স্বদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমরা অনেক আগেই স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছি। দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কিছুটা স্থবির। বড় অর্থনীতির দেশগুলোর সঙ্গে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য জড়িত। বৈদেশিক মন্দার প্রভাবে তাদেরও আশঙ্কা রয়েছে। তবে বিদেশি ক্রেতারা তাদের পণ্য কেনা অব্যাহত রাখলে তাদের অর্থনৈতিক ঝুঁকি কম থাকবে। ঝুঁকি নিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার যে কৌশল সরকার নিয়েছে, দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় তা অব্যাহত রাখতে হবে বলে মনে করেন তিনি। সে জন্য সরকারকে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে নজর রাখতে হবে।  

গত মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিশ্ব ব্যাংক আরও বলছে, মহামারির কারণে গত বছর বিশ্ব অর্থনীতি শেষ পর্যন্ত ৪ দশমিক ৩ শতাংশ হারে সঙ্কুচিত হয়েছে। তবে ২০২১ সালে তা ৪ শতাংশ হারে বাড়তে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে উৎপাদনের ক্ষতি গভীর হয়েছে বলে দক্ষিণ এশিয়ায় দারিদ্র্য ও বেকারত্ব ব্যাপক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও ভারতে মহামারি ও দেশজুড়ে লকডাউনের প্রভাবে ২০২০ সালে এই অঞ্চলের উৎপাদন ৬ দশমিক ৭ শতাংশ হারে সঙ্কুচিত হয়ে থাকতে পারে। বাংলাদেশে গত অর্থবছরে (২০১৯-২০) মোট দেশজ উৎপাদন ২ শতাংশের বেশি নয় বলে বিশ্ব ব্যাংক বলছে। বিশ্ব অর্থনীতির হালনাগাদ পরিস্থিতি নিয়ে গত বছরের জুনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে যতটা প্রবৃদ্ধি হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, গত মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে তার থেকে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ পয়েন্ট বাড়ানো হয়েছে। ঋণদাতা সংস্থাটি বলছে, ‘মহামারীতে অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এবং রপ্তানি খাতের প্রবৃদ্ধিতে দুই অংকের সংকোচনের কারণে বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল বাজার ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির এই দেশের ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি কমিয়ে ২ শতাংশ হারে প্রাক্বলন করা হয়েছে।’ তবে সরকারি হিসেবে গত অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ ধরা হয়েছে। মহামারির মধ্যেও চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে ৮ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরেছে সরকার। তবে বিশ্ব ব্যাংকের আভাস, এই প্রবৃদ্ধি এক দশমিক ৬ শতাংশ হবে।

করোনায় কমেছে পোশাক রফতানি : করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের বিরূপ প্রভাবে কমতে শুরু করেছে তৈরি পোশাকের রফতানি আদেশ। এরই মধ্যে ইউরোপে শুরু হয়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। এ কারণে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি কমবে বলে আশঙ্কা ব্যবসায়ী নেতাদের। 

জানা গেছে, গত মার্চের শুরুতে দেশে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হলে একের পর এক ক্রয়াদেশ হারাতে থাকেন তৈরি পোশাক খাতের রফতানিকারকরা। পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে জুন মাস নাগাদ ক্রয়াদেশ ফিরে পেতে শুরু করেন তারা, যার প্রতিফলন ঘটে জুলাইয়ের রফতানি চিত্রে। এই খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার প্রথম ঢেউয়ের স্থবিরতা কাটিয়ে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনেকটাই চাঙ্গা হয়ে উঠে রফতানি খাত। কিন্তু অক্টোবরেই দ্বিতীয় আঘাত শুরু হয়। মূলত পশ্চিমা দেশগুলোতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ায় ক্রেতারা ক্রয়াদেশের লাগাম টেনে ধরতে শুরু করেছেন। যার প্রভাবে এরই মধ্যে ৩০ শতাংশ কমেছে তৈরি পোশাকের রফতানি আদেশ। চলতি নভেম্বরের একই সময়ে রফতানি হয়েছে ৯৭ কোটি ৮৫ লাখ ডলারের পোশাক। বিজিএমইএ’র দেওয়া তথ্য মতে, সংগঠনটির সদস্য এক হাজার ১২৩টি কারখানার ৩১১ কোটি ডলারের ক্রয়াদেশ বাতিল বা স্থগিত হয়। এসব ক্রয়াদেশের আওতায় ছিল ৯৭ কোটি ৭০ লাখ ১০ হাজার পিস পোশাক। দেশে এই করোনাকালে পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা ঋণ যেমন বেশি পেয়েছেন, তেমনই তাদের সুদও দিতে হয়েছে নামমাত্র। তিন দফায় সরকারের  সুবিধা পেয়েছেন তারা। আবারও সহযোগিতা চেয়েছেন তানা। 

রেমিট্যান্স : গত বছরজুড়ে রেমিট্যান্স ভালো এলেও চলতি বছর শঙ্কা রয়েছে। এ শঙ্কা কাটাতে দক্ষ লোক বিদেশে পাঠাতে হবে। এতে নানা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে সরকারকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে,  ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর সময়ে এসেছে ২ হাজার ১৭৪ কোটি ১৮ লাখ ডলার। আগের বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৮২০ কোটি ৫০ লাখ ডলার। সে হিসেবে গত এক বছরে রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। আর ২০২০-২০২১ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ১২ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরের একই মাসে ৯ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলার ছিল। 
এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এক প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের রফতানি, রেমিট্যান্স ও অভ্যন্তরীণ খাত মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। বাংলাদেশের ‘কান্ট্রি ফোকাস’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি গতকাল শুক্রবার প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির প্রেক্ষাপটে চলতি বছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশে নেমে আসবে। যদিও করোনা সংকটের আগে সংস্থাটি ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল। আইএমএফ বলেছে, কোভিড ১৯-এর প্রভাবে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান দুটি খাত (তৈরি পোশাক রফতানি ও রেমিট্যান্স) মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হয়েছে। এ ছাড়া করোনার প্রভাবে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও শ্লথ গতি দেখা যাচ্ছে। এতে রাজস্ব ঘাটতি বাড়ছে।

এদিকে করোনায় অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষাকে তছনছ করতে চলছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতে সরকারকে এখনই উদ্যোগ নিয়ে হবে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দিতে হিমশিম খেলে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাওয়া মানুষের সংখ্যা আরও বাড়বে। অর্থনৈতিক ঝুঁকি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। তাই প্রথম ঢেউ মোকাবেলার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আগে থেকেই দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় কাজ করতে হবে। 

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দিতে প্রস্তুত সরকার : আসন্ন শীতে দেশে করোনার প্রকোপ বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্প্রতি  জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে বিশেষজ্ঞদের অভিমতের উদ্ধৃতি দিয়ে সরকার প্রধান এ তথ্য জানান। শেখ হাসিনা বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ও শীতকালে সংক্রমণ বৃদ্ধির যে আশঙ্কা করা হচ্ছে তা মোকাবেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আসন্ন শীত মৌসুমে যাতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ না বাড়তে পারে সেজন্য ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ নীতি বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশের পয়েন্ট অব এন্ট্রিগুলোতে স্ক্রিনিং অব্যাহত রয়েছে। বিদেশ ফেরতদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কোভিড প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে নেওয়া কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছে। ভ্যাকসিন আমদানির লক্ষ্যে সরকারের সঙ্গে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট ও বেক্সিমকো ফার্মার সঙ্গে তৃতীয়-পক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।’ 

অর্থনৈতিক সহায়তা : করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে কী পরিমাণ ক্ষতি হতে পারে এবং তা মোকাবেলায় কী করা উচিত, তা নিয়ে কাজ করছে অর্থ বিভাগ। এরই মধ্যে বেশ কিছু পরিকল্পনা করা হয়েছে। করোনা মোকাবেলায় চলতি অর্থবছর ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই বরাদ্দের বড় একটি অংশ (৮-৯ হাজার কোটি টাকা) চলে যাবে ভ্যাকসিন কেনা বাবদ। বাকি টাকা দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় খরচ করা হতে পারে। এই টাকা ছাড়াও অপ্রত্যাশিত ব্যয় ব্যবস্থাপনা খাতে রয়েছে তিন হাজার কোটি টাকা। পাশাপাশি ‘অন্যান্য খাত’ নামে আরো এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা রাখা আছে।




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন

প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।